• মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১  নিউইয়র্ক সময়: ১৬:৫৩    ঢাকা সময়: ০২:৫৩

সড়কে মৃত্যুর মিছিল দায়ী কে?

  • মতামত       
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৪       
  • ৭১৪
  •       
  • ২২:০৪:৫০

মৃণাল কুমার বন্দ্য : ঈদের আগে এবং পরে আগে যানবাহন সংকট, যানজট  আর সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনা। শুধুমাত্র সংখ্যার কমবেশি। আগের বছরের সাথে পরের বছরের সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা যদি মিলেয়ে দেখেন, প্রায় একই। ড্রাইভারের ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নেই, কারও বা লাইসেন্সের মেয়াদই নেই, কিংবা গাড়ির ফিটনেস নেই। কেউ বা বেশি ট্রিপ দেয়ার সাথে সাথে নিজের ও যাত্রীর জীবন শেষ করে দিচ্ছেন।  আর রাস্তার কথা নাই বা বললাম! ঢাকায় যানবাহনের চাপে আর লোকাল বাসের যাচ্ছেতাইভাবে নিয়ম কানুন না মানায় ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে অনেক আগেই। আর মহাসড়কে আমরা এতো বছরেরও গতি কতো হবে সেটা নির্ধারণ করতে পারি নাই। নাম সর্বস্ব কিছু সাইনবোর্ড লাগানো হলেও কে মানে কার কথা! 
 
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের দুই ধরনের পরিসংখ্যান রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি। দুই হিসাবই বলছে, সড়কে প্রাণহানি বাড়ছে। সরকারি হিসাব দেয় বিআরটিএ। তাদের হিসাবে ২০২৩ সালে সড়কে ৫ হাজার ২৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৭ হাজার ৪৯৫ জন। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ২০২৩ সালে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৫২৪ জনের। আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৪০৭ জন।
 
বিআরটিএর হিসাবে, এবারের ঈদযাত্রায় (৪-১৮ এপ্রিল) ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে; যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। অবশ্য রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ঈদযাত্রায় (৪-২০ এপ্রিল) মৃত্যু হয়েছে ৩৬৭ জনের। গত বছরের ঈদযাত্রায় মারা যান ২৮৫ জন।বিআরটিএর তথ্যমতে, বৈধ, অবৈধ, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মিলে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে ৫০ ধরনের বেশি যান চলাচল করে। ২০২৩ সালে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, এর সঙ্গে অন্তত ৪৭ ধরনের বাহনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট। বিশ্লেষণে এসেছে, গত বছর প্রায় ২৬ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ট্রাকের ক্ষেত্রে হার প্রায় ১৭ শতাংশ, বাস ১৬ শতাংশ, অটোরিকশা ৭ শতাংশ এবং পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানের সংশ্লিষ্টতা প্রায় ৮ শতাংশ। 
 
২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা মনে আছে? অথন সরকার শাস্তির কঠোর ধারা যুক্ত করে নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা ধর্মঘট ডেকে তা কার্যকর করা এক বছর আটকে রাখেন। কার্যকর করার পর আবার ধর্মঘট ডেকে সড়ক অচল করে দেওয়া হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে তো চলে মহা অরাজকতা! অভিজ্ঞরা পাচ্ছেন না আর অদক্ষরা টাকার বিনিময়ে পাচ্ছেন লাইসেন্স। দেখেও যেন কেউ দেখার নেই! আনফিট গাড়িগুলোকে রাজধানীর মতো জায়গায় চলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। মাসিক  চুক্তিতে পুলিশের সাথেও আছে গোপন চুক্তি। 
 
ইদানিং মহাসড়কে স্পিড গান নিয়ে পুলিশ বসে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতে কারা ছাড় পাচ্ছে আর কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে! শ্রমিক ফেডারেশনের উসৃঙ্খল আচরণের পিছনে দায়ী এদের গডফাদাররা, যারা সবসময় সরকারী দলের প্রশ্রয়ে থাকেন আবার এরাই সবসময় হুমকি হিসেবে থাকেন সরকারের সামনে! অভিযোগ আছে, সড়ক থেকে লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন তুলে দেওয়া, পুরোনো যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা, সড়ক আইনের কঠোর প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় কোনো উদ্যোগের নিলে নেতারা বাধা হয়ে দাঁড়ান। 
 
জানা গেছে, দেশে ভারী যানবাহনের পেশাদার চালক আছেন দুই লাখের কিছু বেশি। অথচ দেশে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি, ট্যাংকারসহ ভারী যানবাহনের নিবন্ধন রয়েছে তিন লাখের মতো। ফলে ভারী যানবাহন চালানোর মতো দক্ষ চালকের ঘাটতি আছে। পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা বলছেন, কর্মঘণ্টা মানলে একটি ট্রাক বা বাসে তিনজন চালক দরকার। সংকটের কারণে গাড়ি চালাচ্ছেন অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক ও তাঁদের সহযোগীরা (হেলপার)। চালকদের মাসিক বেতনের আলোচনা বহুদিনের। কিন্তু ট্রিপ অনুযায়ী টাকা থেকে মালিকদের সরানো যায়নি। 
 
এবার আসি, মহাসড়কে কি কি গাড়ি চলবে তার হিসেবে। যেখানে ৮০ কিলোমিটার গতিসীমা দেয়া আছে সেখানে পথচারী পারাপার হন হঠাত করে। রিক্সা, অটো, সিএন জি, নসিমন, করিমন থেকে শুরু করে কি চলে না এই সড়কে! সাথে বাইকারদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল তো আছেই! এখানে দুর্ঘটনা ঘটবে না তো কথায় ঘটবে? মাঝে মাঝে আছে খানা খন্দ আর কোন হিসেব ছাড়াই সড়ক বিভাজক, স্পিড ব্রেকার! অদক্ষ চালক আর রাস্তার যদি এই অবস্থা হয় তবে সব সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে না দিয়ে তো কোন উপায় নেই! পরিবেশ দূষণ আর জলবায়ু নিয়ে যখন পুরো বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাজ, সেখানে আমাদের দেশের যানবাহন চলছে রাজার মতো কালো ধোয়া ছেড়ে, কোন ফিটনেস ছাড়াই। 
 
প্রতি সরকারি উদ্যোগ নেন সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত জন্য। মিটিং হয়, পরিকল্পনা হয়, সিদ্ধান্তও হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না! সরকারী ব্যবস্থাপনার বিআরটিসি তো এখন মৃতপ্রায়! ২০১৮ সালে মালিক ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বৈঠকে চালকের লাইসেন্স ও যানের ফিটনেস সংক্রান্ত কিছু কিছু ধারা প্রয়োগ সাময়িক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এখন সড়ক আইনটির বিভিন্ন ধারার শাস্তি কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। কার ইশারায়, কার প্রভাবে সরকারও পিছু হটেছে সেটা জনগণ জানতে চাইতেই পারে! হিসেব হয় মৃত্যু দিয়ে, কিন্তু এর সাথে কতো পরিবার শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিংবা আহতদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে একটা পরিবার যে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে তার খবর কে রাখে? শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করে একটি দেশের সড়ক তথা পরিবহন ব্যবস্থা ঠেলে সাজানো উচিত। সাথে লাইসেন্স দেয়ার সময় নেয়া উচিত জিরো টলারেন্স! এ ছাড়া ঐসব পরিবারের আজাহারির জবাব দিবেন কি দিয়ে? 
mrinalbanday@gmail.com

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।