• বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭  নিউইয়র্ক সময়: ০০:৫১    ঢাকা সময়: ১০:৫১

ঋণও পান না কুমোররা

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন : দিনাজপুর পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র মহারাজা মোড়ে পাকিস্তান আমলে ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার নিয়ে গড়ে ওঠে কুমোরপাড়া। এখান থেকেই মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র বানিয়ে দিনাজপুর জেলার মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্য জেলাতেও রপ্তানি করতেন কুমোররা। 
 
এক সময় তাদের দিন দুধে-ভাতে কাটলেও এখন তারা যেন শুধুই অন্ধকারে। সেই সুদিন আর ফিরবে কিনা তাও জানেন না তারা।
 
পরিস্থিতি ও সময়ের বিবর্তনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। বাকি পরিবারগুলো তাদের বাবা- দাদার পেশা হওয়ায় কষ্টের মধ্যেও এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।
 
তবে তারাও বিকল্প খোঁজ করছেন বলে জানালেন মধ্যবয়সী জগন্নাথ পাল।
 
তিনি বলেন, "আগে বেচা বিক্রি ভালো ছিল ও মাটিও পাওয়া যেত সব সময়। কিন্তু এখন মাটি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আবার পাওয়া গেলেও এক ট্রলি মাটি কিনতে হয় ১৫০০ টাকা দিয়ে। তার উপর কর্মচারি না থাকায় পরিবারের লোকজন নিয়ে কাজ করতে হয়। এতো কিছুর পর এই পেশা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
 
আরেক কুমোর রাম চন্দ্র জানান, "করোনাকালীন বিক্রি একদম বন্ধ ছিল। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করেছি। এমনও দিন গেছে যে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না।"
 
তিনি আরও বলেন, "সারাদেশে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে প্রণোদনা পেয়েছে অনেকেই। একমাত্র মৃৎ শিল্পের সাথে আমরা যারা জড়িত রয়েছি আমাদের ভাগ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। আগে হাঁড়ি, টব, কাসা, পুতুলসহ সব ধরনের মাটির জিনিসপত্রের একটু ভালো দাম পাওয়া গেলেও এখন মহামারির সময় দাম অনেক কমে গেছে।"
 
কুমোরদের অভিযোগ, মৃৎশিল্পের সাথে জড়িতরা কোনোদিনই সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ পায় না। কুমোরদের জন্যও সরকারের ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত। 
 
কৃষিখাতের মতই প্রণোদনা ও ৪% সুদে ঋণের দাবি করেন তারা।
 
সরকারিভাবে এসব কুমারদের যথোপযুক্ত সাহায্য দেওয়া হলে এই শিল্প বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তা না হলে এই শিল্প একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
 
দিনাজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এমদাদ সরকার বলেন, “কুমোররা সত্যিই খুব কষ্টে, মানবেতর দিনাতিপাত করছে। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় তারা আরও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সরকারের প্রতি আবেদন, ঋণ বা যে কোনো ধরনের সহায়তার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ান।”
 
 
দেশকণ্ঠ/অআ

AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।