• বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭  নিউইয়র্ক সময়: ০১:৪৭    ঢাকা সময়: ১১:৪৭

ব্রিটিশ শাসনামলে বাঙ্গলায় বিরাজিত ভাষা-রাজনৈতিক পরিস্থিতি

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন :
 
১. পূর্বকথা
 
রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বহুভাষিকতা। বহুভাষিকতা ভাষা-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করে। কারণ একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে বহুভাষা কথিত ও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ একক ভাষাবিশিষ্ট কোনও সমাজ বা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই।একটি সমাজ বা রাষ্ট্র বহুভাষিক হয়, কারণ সমাজ বা রাষ্ট্রে কোনও একটি মর্যাদাপূর্ণ ভাষার প্রতি ভূশক্তিক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে আর সেখানে থাকে ছোট-বড় অনেক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী। অধিকন্তু সে রাষ্ট্রের থাকে একটি আন্তর্জাতিক সংজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত ভাষা। সমাজে বহুভাষার এরূপ পরিস্থিতি বহুভাষিকতা সৃষ্টি করে। বহুভাষিকতা সমাজে বিভিন্ন ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে। ফলশ্রুতিতে বহুভাষিকতা বিভিন্ন ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।
 
পূর্বকাল থেকে বাঙ্গলায় বহুভাষিকতা বিরাজিত ছিলো। কিন্তু বাঙ্গলা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী (১৭৫৭-১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ) শক্তির অধীনে নিপতিত হলে, ইংরেজি ভাষা বাঙ্গলার বহুভাষিকতায় নতুন অনুষঙ্গ যুক্ত করে, যার ফলশ্রুতিতে বাঙ্গলার ভাষা-রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ব্রিটিশ শাসনামলে পাল্টে যাওয়া সেই ভাষা-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিণাম এখনও বিদ্যমান রয়েছে।  
 
 
২. ব্রিটিশ বাঙ্গলায় রাজনৈতিক শক্তির গঠন
 
বাংলায় নওয়াবী শাসনের পতনের ফলে ইংরেজগণ বাঙ্গলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। তারা বাঙ্গলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে কলকাতায় বাঙ্গলার রাজধানী স্হাপন করে। সেখান থেকে তারা শাসন পরিচালনা করতে প্রয়াসী হয়। কিন্তু এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির কেন্দ্রভূমি ছিলো-ইংল্যাণ্ড। এই সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক শক্তি নানা কূটকৌশলে প্রথমে বাঙ্গলা ও পরে ক্রমান্বয়ে সমগ্র ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। উল্লেখ্য যে, তারা মূলত: অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করতে ভারতবর্ষের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। তারা শোষণের এই সুযোগটি প্রথমত লাভ করে দেওয়ানি লাভের মাধ্যেমে। কিন্তু পূর্ণভাবে অর্থনৈতিক শোষণের সুবিধার্থে তারা ইউরোপ মহাদেশের আদলেএদেশে সামন্ততন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। এই সামন্ততন্ত্র প্রতিষ্ঠা স্থায়ী করতে তারা রাজনৈতিক স্তরবিন্যাসের সৃষ্টি করে, যেখানে তাদের স্থান হয় সর্বোচ্চ স্তরে। এই রাজনৈতিক স্তরবিন্যাসের এক স্তরে এ দেশে তাদের দোসরদেরও ঠাঁই হয়। এই দোসররা এদেশে ইংরজেদের আধিপত্য কায়েমে সরাসরি যুক্ত হয়। তাদের অনেকে ইংরেজদের প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হয়। আবার অনেকে জমির ইজারাদারী লাভ করে তালুকদার, জমিদার ও রাজা ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত হয়। যারা জমির ইজারাদারী লাভ করে, তাদের অধীনে একটি পোষ্য শ্রেণীর জন্ম হয় যারা তালুকদার, জমিদার ও রাজাদের অধীনে থেকে সাধারণ প্রজাদেরকে সরাসরি নিষ্পেষণ করতো। এভাবে রাজনৈতিক স্তরবিন্যাসের নিচে অবস্থান করতো এ দেশের শোষিত শ্রেণি। এভাবে ইংরেজ রাজনৈতিক শক্তির সহায়ক অভিজাত শ্রেণি বাঙ্গলাদেশে ভদ্রলোক নামে পরিচিতি পায়। এই ভদ্রলোক শ্রেণি এ দেশের জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক স্তরবিন্যাসে সবচেয়ে উঁচুস্তরে অবস্থান লাভ করে। 
 
 
৩. ব্রিটিশ বাঙ্গলায় ভাষা-রাজনৈতিক পরিস্থিতি
 
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অষ্টাদশ শতাব্দীতে যখন এই উপমহাদেশ অধিকার করে, তখন উপমহাদেশ জুড়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাষা পরিস্থিতি বিরাজিত ছিলো। আবার উপমহাদেশের এক প্রান্তে যে ভাষা পরিস্থিতি বিরাজিত ছিলো, অন্য প্রান্তে তার চেয়ে ভিন্নতর ভাষা পরিস্থিতি বিরাজিত ছিলো। কতো যে ভাষা আর কতো যে তার অধিভাষা, উপভাষা বা উপউপভাষা ছিলো তার কোন হিসাব ছিলো না। সে সময় যেকোনো বিচারে দেশজ সংস্কৃত ও পালি ভাষা এবং আরবি ও ফার্সি ভাষা ইংরেজি ভাষার তুলনায় কম সমৃদ্ধ ছিলো না। এ ভাষাগুলো হলো এ দেশে জ্ঞানচর্চার বাহক ধ্রুপদী ভাষা। এগুলো হলো—আরবি, ফার্সি,সংস্কৃত ও পালি। এই চারটি ভাষার মধ্যে প্রথম দু’টি ভাষা হলো পশ্চিম এশিয়ার ভাষা। এই দু’টি ভাষা এই উপমহাদেশে প্রবর্তিত হয়েছিলো পশ্চিম এশিয়া থেকে পশ্চিম এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দ্বিগিজ্বয়ী মুসলিম রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে। যার মধ্যে আরবি ভাষা ছিলো ধর্মীয় ভাষা আর ফার্সি ভাষা ব্যবহৃত হতো জ্ঞানচর্চা ও প্রশাসন পরিচালনার মাধ্যম হিসাবে।এদিকে যদিও ব্রিটিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সামরিক কৌশল ও কূটচালে ভারতের মুসলিম রাজনৈতিক শক্তি পরাভূত হতে থাকে। কিন্তু তারা শতশত বছরের প্রচেষ্টায় যে সাংস্কৃতিক ধারা গড়ে তুলে তার প্রভাব তখনও বিদ্যমান ছিলো। মুসলিম রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম প্রতীক ছিলো ফার্সি ভাষা। আর তখন আরবি ভাষা ধর্মীয় ভাষা হিসাবেসাধারণ মুসলমান জনগণের মন╶মানসে বিরাজিত ছিলো। 
 
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দোসর এই ভদ্রলোক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত মানুষদের মধ্যে সামান্য কিছু মুসলমান থাকলেও, অধিকাংশই ছিলো হিন্দু। নতুন এই ভদ্রলোক শ্রেণি সৃষ্টির প্রাক্কালে ধর্মীয় ভাষা হিসাবে অভিজাত মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে যথাক্রমে সংস্কৃত ও আরবি ভাষার প্রীতি ছিলো। কিন্তু প্রশাসনিক ও জ্ঞানচর্চার ভাষা হিসাবে এই উভয় শ্রেণির মধ্যেই ফার্সি ভাষার ব্যাপক প্রচলন ছিলো। আর অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে ফার্সি ছাড়াও, উর্দু ভাষার ব্যাপক প্রচলন ছিলো। উর্দু ভাষা মুঘল শাসনামলে অষ্টাদশ শতাব্দীতে জনসাধারণের সংজ্ঞপানের ভাষা ও রাজদরবরের ভাষা হিসাবে বিস্তৃত হয়েছিলো। তখনউর্দু ও তার সমরূপ বুলিসমূহ একত্রে হিন্দুস্থানী ভাষা নামে অভিহিতহতো। কিন্তু ফার্সি ভাষারভাষিক উপাদানে সমৃদ্ধ ভারতীয় উর্দু ভাষা মুসলমানদের ভাষা হিসাবে পরিচিত লাভ করে, যে কারণে হিন্দুত্ববাদীগণ নিজেদের জন্য একটি ভিন্ন হিন্দুস্তানি ভাষা সৃষ্টি ও স্বীকৃতির জন্য আন্দোলনে প্রয়াসী হয়। তারা দিল্লীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের খারিবুলি বলে অভিহিত বুলির উপর ভিত্তি করে নাগরী লিপিতে লিখিত হিন্দি নামে একটি নতুন ভাষা সৃষ্টি করে। হিন্দুত্ববাদীরা তখন যে হিন্দি ভাষার সৃষ্টি করে, তার গঠন সে সময়ের সমাদৃত উর্দু, মৈথালী ও অয়ূধী ইত্যাদি ভাষার চেয়ে ছিলোঅসমৃদ্ধ। 
 
 
৪. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকারের প্রণীত ভাষানীতি
 
দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসন এক শতাব্দীকাল অতিক্রান্ত হলে, তারাএখানে তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে নানা ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই সংস্কার উদ্যোগের অন্যতম হলো এ দেশ শাসন ও শোষণে উপযোগী একটি ভাষা-রাজনৈতিক উদ্যোগ। এই উদ্যোগের অংশ হিসাবে ব্রিটিশ রাজ ১৮৩৫ সালে এক রাজকীয় ফরমান জারি করে। ব্রিটিশ ইণ্ডিয়া সাম্রাজ্যে ভাষার প্রায়োগিকতা নিয়ে জারি করা এই ফরমান, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ভাষানীতি হিসাবে খ্যাত হয়। ঘোষিত এই ভাষানীতির আওতায় মুসলমান রাজশক্তির প্রতীক ফার্সি ভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে বাধ্যকতা আরোপ করে।আর স্থানীয় পর্যায়ে দাপ্তরিক কার্য পরিচালনার জন্য স্থানীয় বুলি (vernacular) ব্যবহারকে উৎসাহিত করে। ফলে একদিকে মুসলমান রাজশক্তির প্রতীক ফার্সি ভাষা যেমন তার বিশ্রুতি হারাতে বসে, তেমনিভাবে স্থানীয় জনগণ নিজেদের স্হানীয় ভাষা ব্যবহারের অধিকার লাভ করে উল্লসিত হয়। এই ভাষানীতি ঘোষণার প্রাক্কালে স্থানীয় বুলিসমূহ অঞ্চলভেদে নানারূপে বিরাজিত ছিলো। সংস্কৃত ভাষা থেকে সৃষ্ট ইন্দো╶আর্য বুলিসমূহের কোনোটিই মানভাষায় উন্নীত ছিলো না। ইংরেজ রাজশক্তির এই ভাষানীতি ঘোষণার ফলে বেশ কয়েকটি ইন্দো╶আর্য বুলি ভাষা হিসাবে সমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। এসব ইন্দোআর্য ভাষার মধ্যে অন্যতম হলো বাংলা, হিন্দি ও মারাঠি।
 
 
৫. ব্রিটিশ সরকারের ভাষানীতি বাস্তবায়নের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফলাফল
 
স্থানীয় বুলিকে দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ সম্পর্কিত এই নতুন রাষ্ট্রীয় ফরমান ব্রিটিশ ইন্ডিয়াজুড়ে এক নতুন ভাষা আন্দোলনের প্রণোদনা সৃষ্টি করে। স্থানীয় ভাষা কী এবং তার গঠন, মর্যাদা ও প্রায়োগিকতা কী—তা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা╶বিশ্লেষণ শুরুহয়। ফলশ্রুতিতে ভাষা-রাজনীতি নিয়ে এক নতুন চিন্তা╶ভাবনার স্ফূরণ ঘটে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কর্তৃক প্রণীত এই ভাষানীতি দক্ষিণ এশিয়ার ভাষা-পরিস্থিতির পরিবর্তনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় এমনিতেই ৪টি ভাষা পরিবারভূক্ত নানা দেশজ বুলি ও পশ্চিম এশিয়া থেকে আনীত আরবি, ফার্সি ও তুর্কি ভাষা প্রচলিত ছিলো, কিন্তু ব্রিটিশ রাজ ভাষানীতি ঘোষণা করার ফলে তার সাথে নতুন করে যুক্ত হয় ইংরেজি ভাষা। আর সমস্ত দেশীয় ভাষা ও অতীতে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অধীনে উৎসাহিত ভাষাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উপরে স্থান পায় ইংরেজি ভাষা। অর্থাৎ ব্রিটিশ রাজশক্তির অধীনে ইংরেজি ভাষা আধিপত্যবাদী ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় আর অন্যান্য ভাষাসমূহ অনুবর্তী ভাষায় পরিণত হয়। ফলে ইংরেজি ভাষা আধিপত্যবাদী ভাষা হিসাবে অন্যান্য ভাষার চেয়ে মর্যাদা ও প্রায়োগিকতায় প্রাধান্য পেতে থাকে। তবে এ পর্যায়ে পূর্বকাল থেকে ইন্দোআর্য বুলির কবলে যে ভাষা-সংসর্গ প্রক্রিয়া ও নতুন বুলি সৃজনের যে ধারা চলে এসেছিলো তা বন্ধ হয়নি। উক্ত ভাষানীতি জারির ফলশ্রুতিতে ব্রিটিশ ইন্ডিয়াজুড়ে ভাষা-আন্দোলনের যে ঢেউ উত্থিত হয়, তার ফলাফল নিম্নরূপ: 
 
১. শিক্ষা ও দাপ্তরিক কাজে ইংরেজি ভাষা প্রাধান্য পায়।
 
২. সংস্কৃত ও আরবি ভাষাসহ ধর্মচর্চার নানা ভাষার নতুন মূল্যায়ন উপস্থাপিত হয়।
 
৩. মুসলমান রাজনৈতিক শক্তির দাপ্তরিক, শিক্ষা ও জ্ঞানের ভাষা ফার্সি ভাষা ইংরেজি ভাষা ও অন্যান্য প্রমিতায়িত ইন্দোআর্য ভাষার তুলনায় মর্যাদা ও প্রায়োগিকতা হারায়।
 
৪. সাধারণ্যের কথ্য বাংলা, উর্দু, হিন্দি, মারাঠি ও উড়িয়্যা ইত্যাদি ইন্দোআর্য ভাষাসমূহ নতুন গঠন, মর্যাদা ও প্রায়োগিকতা লাভ করে। 
 
৫. হিন্দি ভাষা ভারতীয় মুসলমানদের জাতিসত্ত্বার প্রতীক হিসাবে খ্যাত উর্দু ভাষার সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। ফলে হিন্দি ভাষা উর্দু ভাষার তুলনায় মর্যাদা ও প্রায়োগিকতায় প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে, যার ধারা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। আর মুসলমান অভিজাত শ্রেণি ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হতে থাকলে, সারা ভারত জুড়ে হিন্দি ভাষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে, যার ধারা এখনও চলছে।
 
১৮৩৫ সালের ভাষানীতি বিষয়ক এই নির্দেশ পরবর্তীকালে উপমহাদেশের অনেক ভাষা╶রাজনৈতিক ঘটনাবলীকে প্রবাহিত করে। উপমহাদেশের দেশে দেশে এখনও যে ভাষা রাজনীতি বিদ্যমান, তা মূলত: সেই ব্রিটিশ রাজের ভাষানীতি থেকে উৎসরিত। 
 
৬. দ্বিধাবিভক্ত বাঙ্গলায় ব্রিটিশ ভাষানীতির প্রলম্বিত ফলাফল
 
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি এ দেশ থেকে  ঘুটিয়ে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে তারা বাঙ্গলাকে ভারত ও পাকিস্তানের অংশ হিসাবে ভাগ করে দেয়। এই বিভাগের পূর্বকাল থেকেই বাঙ্গলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাহিত্যিক শক্তির বিভাজন শুরু হয়। ব্রিটিশ ইণ্ডিয়া বিভাগের উপপ্রক্রিয়া হিসাবে বাঙ্গলা ভাগ হলে, বাংলা ভাষার মর্যাদা স্থিমিত হয়ে পড়ে এবং বাংলা ভাষা ভারত ও পাকিস্তানে যথাক্রমে হিন্দি ও উর্দুভাষার আধিপত্যবাদের কবলে নিপতিত হয়। পরবর্তীকালে ভারত ও পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষার প্রতি ভিন্ন ভিন্ন নীতি গ্রহণকরে, যার পরম্পরায় এসব দেশে ভাষা-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিগঠিত ও পুনর্গঠিত হচ্ছে।
দেশকণ্ঠ/অআ

AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।