• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭  নিউইয়র্ক সময়: ০১:৩১    ঢাকা সময়: ১১:৩১

ধর্মঘটে অচল মিয়ানমার দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন : শনিবার মান্দালয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই জন নিহতের পর সংঘাত আরও প্রাণ কেড়ে নিতে পারে বলে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যেই সোমবার ফের রাজপথে নামে হাজার হাজার জনতা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
 
রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এমআরটিভি-র দাবি, ‘বিক্ষোভকারীরা এখন সাধারণ মানুষকে উসকানি দিচ্ছে। তরুণদের তারা সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’ জান্তা সরকারের দফায় দফায় হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই সোমবার দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। তীব্র রোদের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা বন্দিদের মুক্তির দাবিতে আওয়াজ তোলে। অফিস-আদালতে না যাওয়া এবং ধর্মঘট সফলের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেয় তারা।
 
ইয়াঙ্গুন ছাড়াও এদিন দেশটির বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নাগরিক অবাধ্যতা আন্দোলন (সিডিএম) নামের একটি সংগঠন লোকজনকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিল। সংগঠনটির টুইটে বলা হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। প্রতিটি শহর যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
 
ইয়াঙ্গুনে ২২ বছরের বিক্ষোভকারী হেট হেট হ্লাং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সোমবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভয় পেয়েছিলেন এবং প্রার্থনা করেছিলেন। তবে তিনি আন্দোলন থেকে নিরুৎসাহিত হবেন না। হেট হেট হ্লাং-এর ভাষায়, ‘আমরা জান্তা সরকার চাই না। আমরা গণতন্ত্র চাই। আমরা আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।’
 
তিনি বলেন, ‘মা আমাকে এই বিক্ষোভ থেকে আটকে রাখতে পারেননি। তিনি শুধু বলেছেন, নিজের খেয়াল রেখো।‌‌’ এদিকে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পুনর্বহালের দাবি করায় যারা বার্মার মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। ওয়াশিংটন বার্মার জনগণের পাশে রয়েছে। রবিবার রাতে মিয়ানমারে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক শক্তি প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
 
জান্তা সরকারের বলপ্রয়োগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন। তবে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী সংবিধান অনুসরণ করেই কাজ করছে আর বেশিরভাগ মানুষ এতে সমর্থন দিচ্ছে। সহিংসতার জন্য তিনি বিক্ষোভকারীদের দায়ী করেন। অন্যদিকে জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, তার সরকার সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করলেও বিদেশি কিছু শক্তি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। 
দেশকণ্ঠ/অআ

AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।