• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ২২:৩৮    ঢাকা সময়: ০৮:৩৮

ধানের চিটা ও করণীয়

রাজিয়া সুলতানা
 
ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। অর্থকরী ফসলও বটে। আউস,আমন ও বোরো  তিন মৌসুমেই ধানের আবাদ হয়ে থাকে। জাত ভেদে ধানের গড় ফলন ৩-৭.৫ টন/হেক্টর। স্বাভাবিকভাবে ধানে ১৫-২০% চিটা হয়ে থাকে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে কখনো কখনো এর পরিমান বেড়ে যায়। তাই শুধু মাত্র ধানে চিটা হওয়ার পরিমাণ কমিয়ে ধানের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব। চিটা হওয়ার কারণ- 
 
 ১) ধানের  কাইচ থোড় থেকে ফুল ফোটা পর্যন্ত অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমের কবলে পড়লে অর্থাৎ রাতের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সেঃ এর নীচে এবং দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেঃ এর উপরে হলে। বিশেষ করে ফুল ফোটার সময় ১-২ ঘণ্টা ঐ তাপমাত্রা বিরাজ করলে মাত্রাতিরিক্ত চিটা হয়ে যায়।
 
২) কাইচ থোড় অবস্থায় কোন কারনে বাধাগ্রস্থ হলে বা স্ত্রী ও পুরুষ ফুলের মধ্যে পরাগায়ন না হলে।
 
৩) ফুল আসা অবস্থায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় (অতিবর্ষন,প্রবল বায়ূ প্রবাহ)হলে।প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসের কারণে গাছ থেকে পানি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বেরিয়ে যায়। এতে ফুলের অঙ্গগুলোর গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। আবার ঝড়ো বাতাস পরাগায়ন, গর্ভধারণ ও ধানের মধ্যে চালের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এতে ধানের সবুজ খোসা খয়েরি বা কালো রঙ ধারণ করে। ফলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে। 
 
৪। খরার কারণে শিষের শাখা বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বিকৃত ও বন্ধ্যা ধানের জন্ম দেয়ায় চিটা হয়ে যায়।
 
৫।থোড় অবস্থায় শৈত্যপ্রবাহ থাকলে শীষ পুরোপুরি বের হতে পারে না, শীষের অগ্রভাগের ধান মরে যায় বা সম্পূর্ণ চিটা হয়ে যায়।
 
৪) মাটিতে সুষম সারের অভাব বিশেষ করে জিপসাম,দস্তা ও বোরনের অভাব হলে। 
 
৫) সীথ ব্লাইট নামক রোগের প্রাদুর্ভাব হলে।
 
৬) কাইচ থোড় থেকে ফুলফোটা পর্যায়ে পানির অভাব হলে।
 
৭) অনিয়ম করে বালাইনাশক প্রয়োগ করলে।
 
চৈত্র মাস। শুরু হয়ে গেছে ঝড়।  ধানের হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি । জানা কথা প্রচণ্ড গরম ও ঝড়ো বাতাসের কারণে ধানে দেখা দেয়  চিটা। সমস্যা হলে সমাধানতো করতেই হবে। সমাধানের উপায়-
 
১। জমিতে সর্বদা পানি রাখতে হবে। (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জমিতে পানি ধরে রেখে তাপমাত্রা কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করা)।
 
২। এমওপি সার ১০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম মিশিয়ে ৫ শতাংশ হিসেবে স্প্রে করতে হবে অথবা বিঘা প্রতি ৫ কেজি হিসেবে দানাদার এমওপি (পটাশ) সার উপরিপ্রয়োগকরতে হবে।
 
৩। ধানের ফুল অবস্থায় স্প্রে করার প্রয়োজন হলে অবশ্যই পড়ন্ত বিকেলে বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে। সাধারণত সকাল ৭-১১টা পর্যন্ত ধানের পরাগায়ণ ঘটে। এ অবস্থায় স্প্রে করলে পরাগায়নের সমস্যা হয় এবং ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অপরিকল্পিতভাবে  বালাইনাশক স্প্রে করা যাবেনা। 
 
৬) পোকা মাকড় ও রোগ বালাই দমনে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
 
দেশকণ্ঠ/অআ
 
 
 
 
 
 
 
 
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।