• শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৫:৩০    ঢাকা সময়: ১৫:৩০

করোনাকালের ডায়েরি : খাসলত বদলাতে হবে

অনিরুদ্ধ ব্রতচারী
একটা বিষয় কেমন যেন ভাবিয়ে তোলে, যেমন ধুলা মাটির খেলা হাডুডু আমাদের জাতীয় খেলা। অর্থাৎ ভালো শরীর কে ধুলা মাটিতে মিশিয়ে, রীতিমত কুস্তি কসরত করে তবেই একটা রেজাল্ট আসে। এরকম যেন সব ক্ষেত্রেই করি একটা ফল আনার জন্য। 
 
আবার দেখুন, আমরা সবই করি কিন্তু সরাসরি না ঘুরে ফিরে করি। ততো দিনে বারোটা বেজে যায়। প্রতিটা কাজেই যেন আমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করি মানে বাংলাদেশ স্টাইল হয়ে গেছে। আপনি বললেন কিন্তু পাত্তা পেলেন না অথচ পরে দেখবেন সেটাই করছে কিন্তু তত দিনে অনেক কিছু ঘটেছে।
 
যেমন, একটা শোনা গল্প যে, এক ভাতিজা লক্ষ্য করছে যে, চাচা অফিসে যাবার জন্য ভাত খাচ্ছেন এবং স্ত্রীকেও সাথে খাবার জন্য অনুরোধ করছে। কিন্তু চাচী কিছুতেই রাজি হলো না, চাচার মন খারাপই হলো। চাচা অফিসে যাবার পর চাচী সেই ভাত খাচ্ছে যার জন্য চাচা মন খারাপ করেছে। এসব দেখে ভাতিজা চাচীকে বলল, 'চাচী সেই ভাতই খাচ্ছো, যখন চাচা অফিসে গেল।’ এইজন্যই কি প্রচলিত আছে যে, গাধা জল ঘোলা করে পান করে।
 
মনে আছে, ফার্মগেটে হাজার হাজার ডিম নষ্ট করে ফেলেছিল তাড়াহুড়ো করে, অর্থাৎ ফ্রি খেতেও পারল না।এই জন্য বলে বাঙ্গালি সুখে থাকতে পারে না, যেন অস্থির হয়ে ওঠে এবং কারো না কারো পিছনে লেগে যায়, কিছু একটা না করা পর্যন্ত থামে না। একেই বলে সুখে থাকতে ভূতে কিলায়। 
 
আমি বিদ্রোহী, এ যেন আমাদের মজ্জাগত।লক্ষ্য করুন, শিশুকে আগুনে হাত দিতে নিষেধ করলে সে আগুনেই হাত দেয়, যেটা করতে নিষেধ করা হয় সেটাই করে। এই স্বভাব যেন ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় তাই, প্রতিবাদ করে যে নিয়ম কানুনই দেওয়া হোক না কেন, বিরোধিতা করবেই এবং কিছু একটা না ঘটানো পর্যন্ত বোঝেনা যে আসলে হচ্ছে কি। এ ক্ষেত্রে  প্রয়োজন থাক বা না থাক কোন গুরুত্বই দেয় না। এইজন্য কি বলে, 'মুই কী হনুরে '! 
 
এসব কেউ শেখায় নি আমাদের, এসব আমরাই তৈরি করেছি। যা আমরা তৈরি করেছি এবং খারাপ সেটা আমরা পরিবর্তন করতে পারি। কিন্তু পরিবর্তন না করে আমরা সেই চক্রেই আছি, না সরাসরি কিছু বলি, না সোজাসুজি মেনে চলি, না প্রতিবাদ করি। অথচ শেষে সবই মেনে নিই! 
 
আরেকটা বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, বিশ্বের যে সকল দেশে অনেক দিন ধরে বাংলাদেশীরা আছে সেখানেও সে সব অনাকাঙ্ক্ষিত আচরনের প্রকাশ দেখা যায়। ফলে সে দেশের  প্রশাসনে এবং সমাজে অলিখিত রীতি তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশী দেখলেই সাবধান হয়ে যায়, বলে 'সামথিং।' মুহূর্তে সাবধান হয়ে যায় এবং বলে, হয় তাকে শোন, না হয় শুন না। আর যদি শোন তো দ্রুত শুনে বিদায় কর, না হয় পাত্তাই দিও না। নইলে ঝামেলায় পড়বে।' এ সেন্স আমরাই তৈরি করতে বাধ্য করেছি ওদের। এরমধ্যে যারা বোঝে এবং ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা সে সব দেশে ভালো নাম করেছে। তাদের জন্য সুনাম হয়েছে এবং হচ্ছে। অর্থাৎ ভালো করলে দেশে বা বিদেশে সুনাম হয়। সেটাই আমাদের করতে হবে। শুধু আর্থিক উন্নতির হিসেবে আটখানা হলে হবে না, আচরনের পজিটিভ পরিবর্তন আবশ্যক। তাই খাসলত না বদল করলে বিপর্যয় অনিবার্য।
দেশকণ্ঠ/আসো
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।