• শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৭:১৫    ঢাকা সময়: ১৭:১৫

লক ডাউনে নিরানন্দের বিশাদময় বৈশাখ

আরিফ সোহেল

বৈশাখ মানে আনন্দ। বৈশাখ মানে নতুনত্ব। অভিনবত্ব। নতুন রঙে নিজেকে রাঙিয়ে বৈশাখকে উদযাপন করতে চায় প্রায় সব বাঙালিই। অথচ এবার হয়েছে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ। কারণ মহামারী করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সারাদেশ এখন লকডাউনে মানুষ ঘরবন্দি। তারপরও ঘরোয়াভাবে অনেকেই নববর্ষকে নিজেদের করে নিয়েছেন। সবমিলিয়ে বাঙালির জীবনে এবারও এসেছে গতবারের মতো নিরানন্দের বিশাদময় বৈশাখ।

ভারতীয় উপমহাদেশে সম্রাট আকবর পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি চালু করে গেছেন। সেই রীতিকে কেন্দ্র করে বাঙালির জীবনে প্রতিবছর আসে আনন্দময় পহেলা বৈশাখ। কালক্রমে পহেলা বৈশাখ আমাদের সামাজিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য উৎসব-আয়োজনের অংশ। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিপুল সমারোহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান-পার্বণ পালন করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। কিন্তু এবার সবটাই নিরবতায় আছড়ে পড়েছে। হয়নি কিছুই। কেউ কেউ ভার্চুয়ালি অভিনব বৈশাখ উদযাপন করেছেন। নামমাত্র পরিসরে  এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। পরে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলা সন গণনার শুরু হয়। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন।

অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাদের পুরানো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তারা নতুন-পুরাতন ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরায়ত এ অনুষ্ঠানটি বাঙালি পালন করছে যুগযুগ।

করেনার করাল গ্রাসে চারদিকে বাজছে মৃত্যুর বাজনা, হারিয়ে যাচ্ছে কতো প্রিয় মুখ। বিশ্ববাসীর মতো বাঙালির জীবনও তছনছ করে দিচ্ছে অতিমারী করোনা। তবে করোনা-লকডাউন যাই থাকুন না কেনো, তারপরও সূচিত হয়েছে বাংলা ১৪২৮ সাল। মানুষের জীবন গতবাবের মতো এবারও অবরুদ্ধ। ঘরে বসে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে এবারও বাধ্য হচ্ছে উৎসপ্রিয় বাঙালি। পহেলা বৈশাখের উৎসব হবে বাংলার ঘরে ঘরে, নিজেদের মতো করে। এই দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন চিরন্তন ও সর্বজনীন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির এক আনন্দ-উজ্জ্বল মহামিলনের দিন। আনন্দঘন এ দিনে রাষ্ট্রপতি দেশে-বিদেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতির দিন, বাঙালির মহামিলনের দিন। এদিন সমগ্র জাতি জেগে ওঠে নবপ্রাণে নব-অঙ্গীকারে। সারা বছরের দুঃখ-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে সবাইকে আজ নব-আনন্দে জেগে ওঠার উদাত্ত আহ্বান জানাই।’

বিগত বছরের জীর্ণ-পুরাতন সরে জীবনে আসুক নতুন সম্ভাবনা। বৈশ্বিক মহামারির এই দিনে নতুন বছর আনুক মুক্তির নতুন বার্তা। পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। আনন্দঘন পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার দিন। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ। পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মেতে ওঠার চিরায়ত নিয়ম থাকলেও দেশে দ্বিতীয়বারের মতো করোনার সংক্রমণ রোধ করতে সবধরনের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। একাত্তরের পর গত বছর নববর্ষের প্রখম প্রহরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও থাকছে না ছায়ানটের নতুন বছরের বন্দনা।

পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শেষ করি কবিগুরুর বাণী দিয়ে— ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা’- আগামী বছর আসবে বৈশাখ, উদযাপিত হবে বিপুল সমারহে, মহামন্দের মহামঞ্চে বাঙালির ঘরে ঘরে।

দেশকণ্ঠ/আসো


 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।