• শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৫:৫১    ঢাকা সময়: ১৫:৫১

করোনার ডায়েরি : জনতার কমফোর্ট

অনিরুদ্ধ ব্রতচারী
পাবলিক পলিসি সম্পর্কে কিছুটা ঘাটাঘাটি করে  বুঝেছি যে, ক্ষতিকর নয় এবং জনগণ যেটাতে সন্তুষ্ট অর্থাৎ কমফোর্ট ফিল করে সেটাই হচ্ছে বেস্ট পলিসি। উড়ে এসে জুড়ে বসা অতিথি করোনা ভাইরাস সময়ে এডহক বা যেনতেন কোন পলিসি কাজে দিবে না এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন দরকার জনগণ কমফোর্ট ফিল করে এমন পলিসি। 
 
লক্ষ্য করুন, শুরুতে চীনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ করেও করোনা ঠেকানো যায় নি, বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে।পরে যোগাযোগ বন্ধ এবং মানুষকে গৃহে রাখার জন্য নানান কৌশল, যা বিশ্বের জনবহুল দেশগুলো অনুসরণ করেছে। চীন এসব নিয়ে দ্রুত কাজ করে একটা সুন্দর করোনা ম্যানেজমেন্ট পলিসি তৈরি করেছে ফলে তারা জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রেখে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে পারছে। চীনের পলিসি হলো টিকা দিচ্ছে, নিয়ম কানুন মেনে চলছে এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসা দিচ্ছে। ভারতে শুরুতে কেমন ভীতি প্রদর্শন করে বা পিটিয়ে জনগণকে বুঝানোর চেষ্টা, পরে শিথিল, সর্বশেষ কি অবস্থা আমরা দেখছি। সেসব অনুসরণ করে আমাদের দেশেও নানান কাহিনী হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসব আমলে না নিলেও ব্যাপকভাবে টিকা দিচ্ছে। অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং সরকারের পলিসি সমানতালে এগিয়ে নিতে হচ্ছে, দ্রুত পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এই উভয়ই জনমনে নানান কিছু তৈরি করছে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই জনগণকে সাড়া দিতে হচ্ছে।  
 
এই ভাইরাস কেবল শারীরিক ক্ষতি করছে না নির্বিশেষে সকল জনগণের মানসিকতাকে দারুণভাবে ক্ষতি করছে। তাই নিয়ম কানুন মানাতে গিয়ে অত্যাচার করা হলে, নূন্যতম প্রয়োজন পূরণ না হলে এবং চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে দারুণ প্রতিবাদ হবে নিশ্চিত এবং সব নিয়ম ভেঙ্গে যাবে। অর্থাৎ জনগণ কমফোর্ট ফিল করবে না এবং এর কুপ্রভাব দেখা যাবে জাতীয় নির্বাচনে। এখন জনগণকে কমফোর্ট দেওয়া সরকার ও শাসক দলের অন্যতম দায়িত্ব।  
 
কমফোর্ট হলো যে, করোনা ভাইরাস আছে, আক্রান্ত হতে পারে ব্যাক্তি জানে তবুও যেন চলা ফেরা, কেনাকাটা, কাজ কর্মে এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করে। এটা তৈরি করবে নিয়ম কানুন, রোগ সনাক্ত, চিকিৎসা এবং বাজার ব্যবস্থার উপর। অর্থাৎ সরকারের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। এটাই সরকারের দক্ষতা। 
 
জনগণ যদি দেখে সার্বিকভাবে একটা কমিটি আছে মন্ত্রিসভার তাহলে আশ্বস্ত হবে। যে কমিটির পক্ষে কোন সিনিয়র মন্ত্রী প্রতিনিয়ত ব্রিফ করছে, অনুরোধ করছে জনগণকে। এ ধরনের আরও কিছু কমিটি যেমন বাজার ও পণ্য, ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কমিটি, মানসিক স্বাস্থ্য কমিটি বা কাউন্সিল ইত্যাদি। প্রতিটা কমিটি ও কাউন্সিল কাজ করলে জনগণ আশ্বস্থ হবে যে সরকার চেষ্টা করছে এবং এখন আমাকেও চেষ্টা করতে হবে। এ ধরনের দুর্যোগের প্রেক্ষিতে জনজীবনের স্বাভাবিকতা এবং অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের ব্যত্যয় ঘটাতে হচ্ছে সে ক্ষেত্রে কেবল একটা সার্কু্লার জারি করে রাজনৈতিক সরকারের আন্তরিকতা জনগণকে বুঝানো যাবে না বরং অপমান বোধ কাজ করে। আবার লক ডাউন নিয়ে একেক মন্ত্রী একেক কথা বলে ফলে জনগণের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করে, কখনও কখনও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।  
 
স্বাস্থ্য মন্ত্রী স্বাস্থ্য সেবা নিয়েই বলছেন এটা ভালো। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে দেখা গেলনা চলাচলের নিয়ম কানুন সমৃদ্ধ (হোক না সেটা পুলিশ তৈরি করে দিবে) ফিরিস্তি তুলে ধরতে। মার্কেট বাজার ইত্যাদি ব্যবসা বাণিজ্য কেমনে চলবে সুন্দর ফিরিস্তি প্রকাশ করেননি বাণিজ্য মন্ত্রী। নিয়ম কানুন বিনয়ের সাথে কোন সিনিয়র মন্ত্রী বলুক, নাগরিক দেখুক টেলিভিশনে, মোবাইলের স্ক্রিনে, সোশ্যাল মিডিয়া, সংবাদ মিডিয়ায়, ফুটে উঠুক সরকারের আন্তরিক তৎপরতা। এভাবে মন্ত্রী আসতে পারেন একেবারে জনতার চোখের ও হৃদয়ের কাছে!
দেশকণ্ঠ/আসো

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।