• শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৭:১১    ঢাকা সময়: ১৭:১১

প্লাস্টিকের বিকল্প বাঁশের পণ্য তৈরি করছে গো গ্রীন বাংলাদেশ

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন :  পরিবেশবাদী সংগঠন গো গ্রীন বাংলাদেশ (Go Green Bangladesh) পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্প হিসাবে তৈরি করছে বাঁশের পণ্য। গো গ্রীনের নিজস্ব কারখানায় তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব বাঁশের পানির বোতল, থার্মাল ফ্লাক্স, মগ ও চাবি রিং। প্রতিষ্ঠানটি বাঁশের ফাইবার থেকে তৈরি করছে চপিংবোর্ড, ট্রে, কিচেন নাইফ হোল্ডার, কলমদানি, কাপড়ের হ্যাঙ্গার ও ফুলদানি।
 
প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্পকে মানুষের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে ২০১৮ সালের শুরুতে গো গ্রীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্লাস্টিকের বিকল্প নানান পণ্যের প্রচারে যুক্ত রয়েছে গো গ্রীন বাংলাদেশ। প্লাস্টিকের বিকল্প প্রচারণার পাশাপাশি এবার নিজেরাই বাজারে এনেছে বাঁশের পণ্য। ইতোমধ্যে ক্রেতাদের মাঝে সাড়া ফেলেছে পানির বোতল, ফ্লাক্স, চপিংবোর্ড ও ট্রেসহ অন্যান্য পণ্যসমূহ।
 
যশোরের নাভারণে অবস্থিত গো গ্রীনের নিজস্ব কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে বাঁশের পণ্য। গো গ্রীনের সভাপতি পেশায় গণমাধ্যমকর্মী ফজলুর রহমান রাজুর তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য। গো গ্রীনের কারখানায় কাজ করছেন তৃণমূলের নারীরা। গো গ্রিন বাংলাদেশের তৈরি বাঁশের পণ্যের উদ্যোগ নিয়ে রাজু বলেন, “পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখতে পাই, মানুষের সামনে প্লাস্টিকের কোনো বিকল্প নেই৷ ফলে মানুষ বাধ্য হয়েই প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করে। এই উপলব্ধি থেকে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্য ব্যবহারের প্রচার শুরু করি। প্রচারণার এক পর্যায়ে বিকল্প হিসেবে বাঁশের তৈরি পণ্যকে যুতসই আর টেকসই মনে হলো। এভাবেই শুরু করি গো গ্রীন বাংলাদেশ “
 
“আমরা বিশ্বাস করি প্লাস্টিকের সমমূল্যে মানুষকে টেকসই বিকল্প পণ্য দিলে মানুষ আর প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করবে না”, বলেন রাজু। গো গ্রিন বাংলাদেশের কারখানায় বর্তনানে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছে। যাদের অধিকাংশই গ্রামের নারী। পরিবেশ রক্ষায় তারা যেমন ভূমিকা রাখছেন, তেমনি আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাঁশ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে একেবারে শেষ ধাপ পর্যন্ত সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। যারা স্থানীয় পর্যায়ে বাঁশ নিয়ে কাজ করেন, তিনি জানান।
 
রাজু বলেন, “পরিবেশবান্ধব পণ্য নিয়ে কাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একদিকে এটা সম্ভাবনাময়, অপরদিকে ব্যয়বহুল৷ পণ্যকে প্লাস্টিকের চেয়ে কম দামে মানুষের হাতে পণ্য তুলে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।” ইতোমধ্যে ক্রেতাদের মাঝ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও জানান, "খুচরা পর্যায়ে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আমাদের সাথে যুক্ত করা। যারা ব্যবসা করতে গিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রচারণার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জনমনে সচেতনতা তৈরি করবে।
 
বিক্রির উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কাজ করলেও তারাও একসময় পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীতে পরিণত হবেন।”
দেশকণ্ঠ/অআ

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।