• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৩:২২    ঢাকা সময়: ২৩:২২

মুনিয়া-আনভীর ইস্যুতে দর্পণ কবীরের সাহসী উচ্চারণ অতঃপর সরব অন্যরা...

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন
২৬ এপ্রিল অনভিপ্রেত এক অপমৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে বসুন্ধরার মালিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় পরও বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকাগুলো যথাযথভাবে সংবাদ পরিবেশন করেনি, তখন দর্পণ কবীরসহ অনেকেই ফেইসবুকে সরব ভূমিকা রেখেছিলেন। ২৭ এপ্রিল মিডিয়ায় খবর ছাপা হয়েছে ‘ধরি মাছ নাই ছুঁই পানি’ স্টাইলে। নারী ঘটিত ঘটনায় সঙ্গে সমাজের উচুস্তরের কারোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও এমন নিন্মমানের কাভারেজ নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে লিখতে-ছাপতে অনেকেরই হাত কেঁপেছে। ‘ভাসুর’ পর্যায়ের আনভীরের নামটা অনেকে চেপে যেতে চেয়েছেন। ঠিক তখন দর্পণ কবীর কবিতার ছন্দে মিডিয়ার ধবল ধোলাই নিশ্চিত করেছেন। আনভীরকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু লিখার ক্ষেত্রে ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার’ কাজটা অনায়াসেই করেছেন দর্পণ। ঠিক সেই সূত্র ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটেছে। দর্পণ কবীরকে দেখে অনেকেই মুখ খুলেছেন, লিখেছেন। মিডিয়ার নোংরামি নিয়ে কলম ধরেছেন প্রজন্মের অন্যতম সেরা সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, ভোরের কাগজ সম্পাদক ড্যাশিং শ্যামল দত্ত, সচেতন জনগণের সম্পাদক সেলিম খান, তুখোর সাংবাদিক মাসুদ কামাল, ইরাক যুদ্ধের আলোচিত সংবাদ প্রতিনিধি আনিস আলগীর, ডাক সাইটে সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজসহ অনেকেই। সেই লেখালেখীর ধারাবাকিতায় এখনো ক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই মিডয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
 
বাংলাদেশের অনেক মিডিয়ায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার কথা উল্লেখপূর্বক পরের দিন নামকোয়াত্মে সংবাদ পরিবেশন করা হলেও মিডিয়া রাজ্য দাপিয়ে বেড়ানো বসুন্ধরা গ্রুপের কোনো পত্রিকায় সেই নিউজ ছাপা হয়নি। বরং দুই দিন পরে তাদের ওই গ্রুপের সাংবাদিকরা ‘গর্বিত’ হওয়ার স্ট্যাটাস দিয়ে লজ্জার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন। কয়েকটি পত্রিকা হলুদ সাংবাদিকতা কাকে বলে তার নজীর দেখিয়েছেন মুনিয়ায় চরিত্র হণন করার সংবাদ পরিবেশন করে। শোন যায় যে কয়টি মিডিয়ায় নিউজ হয়েছে; তাদেরকে বসুন্ধরা গ্রুপের একটি পত্রিকার সম্পাদক পারসু করেছেন। হয়েছে বড়মাপের টাকার লেনদেনও। যা সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ধুলার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি এ ব্যাপারে সাংবাদিক নেতাদের নীরব ভূমিকা হাজারো প্রশ্নের উদ্বেগ করেছে। ‘কবি কেনো নীরব’— তার ব্যাখ্যা ৭দিন পরও জাতি জানতে পারেনি। তবে কী নেতার ভোট এবং টাকার কাছে আসলেই জিম্মি হয়ে পড়েছেন। 
 
তবে বাহবা দিতে হবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম নামের দুটি সংগঠনকে। তারা ২ দিন পর মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার একমাত্র আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। যেখানে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনাকারী হিসেবে আসামী করা হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে।
  
বলা প্রয়োজন সত্য ও সাহসী উচ্চারণে জুড়িহীন সাহসী কবি লেখক ও সাংবাদিক দর্পণ কবীর। বলব অনেক ক্ষেত্রে দর্পণ এক কাঠি বেশি। নানামুখী সমালোচনা-আলোচনা লেখালেখী নিয়ে বক্তিজীবনে অসংখ্যবার বিপাকে পড়েছেন। বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই বিপদ তাকে আমেরিকায়ও পোহাতে হয়েছে। দর্পণ কবীরের নিবাস আমেরিকা হলেও ক্যারিয়ারের শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে বাংলাদেশে। এখনও সেই সংবাদপত্র এবং লেখালেখীর ফেরিওয়ালা হিসেবেই নিজেকে প্রকাশ করেন। অনেক ঘাটের পানি খেয়ে এখন নিজেই একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক। এর বাইরে গল্প-উপন্যাস-গান-কবিতা-ছড়া কি নেই তার ঝুড়িতে।
 
বাংলাদেশে থাকাকালে দর্পণ কবীর বাংলাবাজার পত্রিকা, ভোরের কাগজ, আজকের কাগজে কাজ করেছেন দায়িত্বশীল বিটে। অনেক প্রতিবেদনের জন্য সুনাম কুড়িয়েছেন। আবার মামলা হামলার শিকারও হয়েছেন। কিন্তু সত্যবিলাসী, সাবলিল, নির্লিপ্ত দর্পণ কখনো আপোষ করেছেন আমার জানা নেই। বাংলাদেশে দর্পণ আমারও সহকর্মী ছিলেন। সহকর্মী হিসেবে নঈম নিজাম, পীর হাবিবের সঙ্গে তার সুগভীর সখ্যতা-সম্পর্ক আমি কাছ থেকেই দেখেছি। আমেরিকায় গিয়েও তাতে একবিন্দু চির ধরেনি, এটা সবারই জানা। আমার ধারণা আগামীতেও সম্পর্ক থাকবে। কারণ সহকর্মী কিংবা বন্ধু হিসেবে দর্পণ অসাধারণ প্রকৃতির। সহজে বন্ধুত্ব-সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান না। তবে বন্ধুত্ব আর পেশাদারিত্বকে তিনি স্পষ্ট ব্যব্যবধানে রাখতে ভালোবাসেন। সেই কারণেই পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে একচুলও ছাড় দিতে চান। হোক তিনি যতটাই আপন-স্বজন-পেশাদার বন্ধু। আর বরাবরই বিবেকের তাড়নায় স্পষ্ট করে সব সত্য বলতে কলম ধরেন। মুনিয়া-আনভীর ঘটনায় দর্পণ কবীরের প্রথম প্রতিবাদ ছিল ছড়ার ছন্দে; তিনি তার পেইজে লিখেছেন— 
 
এক. 
টাকার কাছে বশীভূত 
সাংবাদিক ও লিখিয়ে
সত্য লুকায়, মিথ্যা বেচে 
বিবেকটারে বিকিয়ে!
(ঢাকায় তাই চলছে)
 
দুই.
টাকার পাহাড় থাকলে মুঠোয় বদ স্বভাবে জেল্লা!
রাষ্ট্র বলে, বিচার চেয়ে কোন বিপদে ফেললা?
রক্তে যাদের রিপু হরেক, ভোগের নেশা থাকলে কি?
মানুষ বলে, রাষ্ট্র ওগো, মুখখানা যে ঢাকলে কি!  
কারা শিকার, শিকারী কে, পড়ছে ফাঁদে কারা রোজ
সমাজটাকে নষ্ট করার দায়ী কে কে, করছি খোঁজ?
দর্পণ কবীর। ২৭ এপ্রিল, ২০২১।
 
২৮ এপ্রিল লিখেছেন—  দেশের অধিকাংশ শিল্পপতি লম্পট এবং লম্পট মমিনুলের চেয়েও খারাপ!
বাংলাদেশে অধিকাংশ শিল্পপতি স্ত্রী ছাড়াও একাধিক রক্ষিতা রাখে। শো-বিজ তারকা, মডেল ও অভিনেত্রীদের সঙ্গেও তারা বিশেষ সম্পর্ক রাখতে পছন্দ করে। বিভিন্ন তারকা হোটেলের কক্ষ, অভিজাত রি-সোর্ট, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে তাদের যাতায়াত থাকে বছর জুড়ে। দেশের বাইরেও তারা ভ্রমণ করেন মধুকরের ভূমিকায়। মাঝেমাঝে দূর্ঘটনাও ঘটে। সংসার ভাঙে কারো। আবার কোন রক্ষিতা খুনও হয়ে যায়। বিত্তবান লম্পটরা কিন্তু সু-রক্ষিত থেকে যায়। অনেক বছর ধরেই তা দেখছে মানুষ। এই লম্পটরা কিন্তু এতো ‘বহুগামী’ যে, টাউট-লম্পট মাওলানা মমিনুল হকের চেয়েও খারাপ ও ভয়ংকর! 
 
২৭ এপ্রিল প্রথম আলো’র তৃতীয় পাতায় রিপোর্ট ছিল—  রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে ২২ বছরের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের ওই তরুণী রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী প্রথম আলোকে জানান, মোসারাত জাহানের বাড়ি কুমিল্লা শহরে। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান। মেয়েটির পরিবার কুমিল্লায় থাকে। এখানে ওই ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন।" পত্রিকাটি মেয়েটির পরিবারের পরিচয় তুলে ধরলেও শিল্পপতির নাম-পরিচয় যথাযথভাবে উল্লেখ করেনি। ক্ষমতার কাছে সাংবাদিকতাও তুচ্ছ।
 
পত্রিকায় মুনিয়ার চরিত্র হণন করে রির্পোট হওয়া পর দর্পণ কবীর ৩০ এপ্রিল লিখেছেন— 
ঢাকায় সবচেয়ে আলোচিত মুনিয়া হত্যাকাণ্ড (আত্মহত্যায় প্ররোচিত করাও খুন) ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে কয়েকটি পত্রিকা মুনিয়াকে বহুগামী বলে অভিহিত করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার এক সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন লিখে প্রচারণা চালাচ্ছেন—  মুনিয়া বহুগামী। তাদের কাছে প্রশ্ন— মুনিয়া যদি বহুগামী হয়ও, এ কারণে তাকে ভোগ করা এবং খুন করা মেনে নিতে হবে? তাহলে বহুগামী তো বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীরও। বহুগামী হিসেবে আনভীরকে কী করা উচিত তাহলে? খুন করে ফেলতে হবে? নির্লজ্জতা কাকে বলে! ছিঃ! কুকুরের চেয়েও অধম দেখছি!
 
সাইদুর রহমান রিমন লিখেছেন— নঈম নিজামের বিরুদ্ধে আমি লিখছি। কোথায় লিখলাম? আপনার পদলেহন আপনার কাছে রাখুন। আমাকে আনছেন কেন? নঈম নিজাম বলে দিয়েছেন আপনাকে? সাংবাদিকতার দিকপাল, কীভাবে? কোন আলোচিত সংবাদ তিনি করেছেন এ অব্দি? বলুন তো, জানি। একটি মেয়েকে ভোগ করা এবং খুন করা বা আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার মামলাকে আপনি ‘মুলা চুরির মামলা’ বলেছেন। আপনার বোন, কন্যার সঙ্গে এমন ঘটলে কী বলবেন? সাংবাদিকতা করেন, নাকি অন্য ব্যবসা করেন? বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সাংবাদিক এমন হলে—  বুঝতে বাকি থাকে না-কী শিক্ষা পাচ্ছেন কথিত দিকপাল থেকে। 
(সাইদুর রহমান রিমন-এর স্ট্যাটাজ সংযুক্ত)
 
 
বসুন্ধরা গ্রুপের সাংবাদিকদের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি কী করা উচিত?
ফেইসবুকে দর্পণ কবীরের পরামর্শ, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়ায় যারা কাজ করছেন, মানে সাংবাদিকরা, তাদের দোষারোপ করা ঠিক নয়। তবে মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু এবং এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করলে এই গ্রুপের মিডিয়াগুলো পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে পারতো। বাংলাদেশে এমন নজির খুব একটা দেখা যায় না। একদম নেই, তাও নয়। আজকের কাগজ পত্রিকায় ১৯৯১ সালে ঘাতকের দিনলিপি’ সিরিজ রিপোর্টে পত্রিকাটির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের বাবার নাম ছাপা হয়েছিল রাজাকার হিসাবে (তাঁর সম্মতি নিয়ে)। এ ঘটনা খুব আলোচিত হয়েছিল ঐ সময়ে মিডিয়া জগতে। প্রথম আলো’তে লতিফুর রহমানের মেয়ে ধর্ষিত এবং খুনের সংবাদও ছাপা হয়েছিল। 
 
সাধারণতঃ দেশের পত্রিকাগুলো মালিকদের নিয়ন্ত্রণেই থাকে। সাংবাদিকতার নীতিমালা রক্ষা করা অনেক সময় হয়ে উঠে না। তাই বলে সাংবাদিকরা খারাপ (ঢালাওভাবে), তা বলা ঠিক নয়। সাংবাদিকতার ছদ্মাবরণে কতিপয় মানুষ খারাপ কাজ করছে, এটাও ঠিক। উপরে উঠার সিঁড়ি হিসাবে জঘন্য কাজ করতে তারা পিছিয়ে নেই। তাই মানুষের ক্ষোভ-রোষ তখন সকল সাংবাদিকের ওপর দিয়ে যায়। এক সময় তা কমে আসে। বসুন্ধরা গ্রুপের সাংবাদিক-মিডিয়া কর্মীদের এখন কী করা উচিত, তারাই ঠিক করবেন। তবে সংযত থাকা দরকার-আমার ধারনা।
 
 
ইমদাদুল হক মিলনের গর্ববোধ স্ট্যাটাস দেওয়ার পর দর্পণ কবীর ৪ মে লিখেছেন  গর্ববোধ এবং প্রশ্ন
দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক, কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন কালের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে গর্বিত বলে পোস্ট দিয়েছেন। হঠাৎ করে এমন গর্ববোধ করায় প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর মালিক মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন বা বাদীর অভিযোগ হত্যা করেছেন। এই মামলা হবার পর তিনি গর্ববোধ করে পোস্ট দিয়েছেন। কারণ কি? একটি মেয়েকে ভোগ ও আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়ার কারণে তাঁর কি প্রতিক্রিয়া-জানতে ইচ্ছে করছে। সমর্থন করছেন? নাকি এমন ঘটনার নিন্দা অনুভব করছেন? আরেকটি বিষয় হচ্ছে-বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) তিনি মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর মালিকানাধীন পত্রিকা-দৈনিক আমার দেশ-এ সহ-সম্পাদক (পরে সাহিত্য সম্পাদক) পদে চাকুরি করেছেন। তিনি কি ঐ চাকরির জন্যও গর্ববোধ করেন? নাকি অনুশোচনা করেন? খুব জানতে ইচ্ছে করে। একজন সাহিত্যকের চরিত্র ও আচরণ কেমন হওয়া উচিত-সুধীমহল ভাল জানেন।
 
দালাল সাংবাদিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে  (আপাতত শেষ স্ট্যাটাস দর্পণ কবীরের, ২ মে)
দেশের সাংবাদিক সমাজের ইমেজকে কারা প্রশ্নবিদ্ধ করছে? মাত্র কয়েকজন ‘সাংবাদিক’ নামধারী বিকারগ্রস্থ মানুষ। কলমকে তারা হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন। পদকে রক্ষা করতে ‘সাপ্লাইয়ার’ হয়ে যাচ্ছেন। তারা লম্পট ও অসাধু মালিকদের যেমন দালাল, তেমনি তারাও নিজের অধীনে দালাল পোষেন। সাংবাদিকতা পেশায় ‘দালালদের সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকায়। এদের চিনুন, এদের বয়কট করুন এবং এদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করুন। এদের মধ্যে কে বা কারা হঠাৎ ধনী হয়েছেন, এর কারণ জানুন। কারা বিদেশে অর্থ পাচার করছে-জানুন। সাংবাদিক সমাজকে নিজেদের সম্মান রক্ষায় নিজেদেরই ভাবতে হবে। অশুভ সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। মাত্র কয়েকজন সাংবাদিক সম্মানিত সকল সাংবাদিককে বিব্রত করে দেবে, কেন? এই স্পর্ধা কোথায় পান তারা? ভাবুন। অনেক সাংবাদিক সততার সঙ্গে আছেন, অনেক কষ্ট আছেন। অনেক প্রতিভাবান বেকার, আবার চাটুকার-মেধাহীনরা কর্পোরেট ছায়াতলে বাক-বাকুম করছেন। সৎ সাংবাদিকরা কথা বলুন সত্যের পক্ষে, মিথ্যার বিরুদ্ধে। নিজেদের ইমেজ রক্ষায় সোচ্চার হোন।
দর্পণ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাধার পর যা যা হয়েছে 
 
নাইমুল ইসলাম খান ১ মে ‘নিকৃষ্টতম সাংবাদিকতা থেকে উদ্ধার চাই’ শিরোনামে লিখেছেন 
[১] বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অতি সম্প্রতি নোংরামির এক গভীর তলে পৌঁছেছে। এর জন্য নিজেকেও ভীষণ অপরাধী লাগছে, খুব লজ্জা লাগছে, ঘেন্না হচ্ছে। সকলের কাছে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। মৃত মুনিয়ার কাছে, মুনিয়ার বোন তানিয়ার কাছেও। 
[২] দেশ রুপান্তর এবং সময়ের আলো করেছে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদপত্র যে এই বিষয়ে কিছুই লিখছেনা, সেটা বরং অনেক ভালো।
[৩] বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে এই জঘন্য খাদ থেকে উদ্ধার করতে হবে আমাদের। এটা আমাদেরই দায়।
 
আমাদের নতুন সময়ে ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত আনিস আলমগীর লিখেছেন 
‘সেলফ-সেন্সরশিপ এবং গণমাধ্যমে একটি আলোচিত ‘আত্মহত্যা’ শিরোনামে, চলতি সপ্তাহে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একজন তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের এক ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই কলেজ পড়ুয়া তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
 
এ ধরণের কথিত আত্মহত্যা বা হত্যার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। বসুন্ধরা গ্রুপএই মামলা করা এবং পুরো ঘটনাকে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিবিসির কাছে। মামলার বাদী নুসরাত জাহান সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, তাকে বিভিন্ন ভাবে ফোন দিয়ে অনেক আজে বাজে কথা বলা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’ বিষয়টি বিচারাধীন বলে আমি এই মুহুর্তে মামলার বিষয় নিয়ে পর্যালোচনায় যাচ্ছি না। আমি বরং মিডিয়ায় এই ঘটনার প্রতিফলন বা কভারেজ নিয়ে কথা বলি। ঘটনাটি বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। প্রমাণ করেছে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মিডিয়ার উপর সরকার বা অন্য কোনো শক্তির চাপ নয়, বরং সেল্ফসেন্সরশিপ এখানে বড় সমস্যা। গণমাধ্যমে উপযুক্ত ট্রিটমেন্টে সংবাদ হয়ে আসার মত উপাদান এই ঘটনায় যথেষ্ট ছিল কিন্তু টেলিভিশনগুলোতে সে রাতে কোনো স্ক্রল চলেনি, কেউ নিউজ করেনি সেই রাতে। অথচ রাতেই অনেক টিভির রিপোর্টার উপস্থিত হয়েছিলেন থানায়, মামলার কপিও তাদের হাতে ছিল। থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তারা ধারণ করেছেন। যেহেতু তথ্য পেতে একুট দেরি হয়েছে পরদিন ছাপার অক্ষরে পত্রিকার পাতায় খবরটি না থাকলেও দোষ দেওয়া যাবে না। তবে সময়ের অভাবে নিউজটি প্রিন্টে না দিতে পারলেও অনলাইনের জন্য এই অজুহাত খাটে না কারণ তাদের প্রায় সবার ২৪ ঘণ্টার অনলাইন টিম রয়েছে।
 
অনেক পাঠক অবাক হয়েছেন দেশের বহুর প্রচারিত একটি বাংলা দৈনিকে সংবাদটি অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম পরিচয় ছাড়া আর মৃত তরুণীর বিস্তারিত পরিচয়ে প্রকাশ পেয়েছে বলে। পরে অবশ্য পত্রিকাটির অনলাইনে আসামীর নাম পরিচয় ভালোভাবে প্রকাশ করে। সেদিন রাতে টিভি গুলোর নিউজশোতে এটা নিয়ে আলোচনা হয়নি, যখন এর চেয়ে ছোটখাট ঘটনা নিয়ে তারা সময় নষ্ট করে। ঘটনার পরদিন গণমাধ্যমে যেভাবে এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে অনেক নেটিজেন ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
 
পরদিন ২৮ এপ্রিল বুধবারের পত্রিকায় আরও নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রে চরিত্র। ঢাকার বাংলা পত্রিকাগুলো ৫ টাকা এবং ১০ টাকার দুটি শ্রেণিতে বের হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী গ্রুপের ৫ টাকা দামের একটি দৈনিক এটাকে লিড নিউজ করেছে। তাদের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবসায়িক সম্পর্ক খারাপ চলছে অনেক বছর থেকে। অন্যদিকে বসুন্ধরার সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে এমন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের মালিকানায় ৫ টাকা দামের আর দুটি পত্রিকায় খবরটি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে সংবাদের চেয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মানসিকতার পাশাপাশি নিজস্ব গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোকে গরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
সংবাদটি অনেক দৈনিকের প্রথম বা ভেতরের পাতায় স্থান পেলেও সিংহভাগ পত্রিকায় গুরুত্ব পায়নি। অনেকে আবার পুরো সংবাদটিই গায়েব করে দিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা বসুন্ধরার মালিকানাধীন মিডিয়াগুলোর একটিতেও সংবাদটি আসেনি। বসুন্ধরার মালিকানাধীন মিডিয়ার মধ্যে আছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ এবং দ্য সান-নামের তিনটি দৈনিক পত্রিকা। এই গ্রুপের রয়েছে নিউজ টোয়েন্টিফোর নামের একটি টিভি চ্যানেল, ক্যাপিটাল এফএম নামের রেডিও স্টেশন এবং বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর নামের একটি অনলাইন পোর্টাল।
 
দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে এক তরুণীর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের বিষয়টি বিদেশে হলে সারাদিন সেটাই হেডলাইন থাকতো গণমাধ্যমে। বাংলাদেশে তার প্রতিফলন না দেখা যাওয়ায় প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ এখানে স্পষ্টই সরকারের কোনো হাত নেই, যেটা গণমাধ্যম যথাযথভাবে সংবাদ প্রকাশের ব্যর্থতা ঢাকতে অযুহাত হিসেবে প্রায়শ দাঁড় করায়।
 
গণমাধ্যম মালিকরা আসলে কার সেবা করছেন, পাঠকের না তাদের নিজেদের? যে সব পত্রিকায় ২৮ এপ্রিল, এবং যেসব অনলাইনে বা টেলিভিশনে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বসুন্ধরার এমডিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত-প্রচারিত হয়নি, তারা প্রমাণ দিয়েছে যে ওইসব মিডিয়ার মালিকরা জনগণকে সংবাদ সরবরাহ করার জন্য নয়-নিজের অবৈধ ব্যবসা, নিজের এবং পরিবারের অপরাধ, অবৈধ কর্মকান্ড ঢাকার জন্য এই সব মিডিয়া চালাচ্ছেন। অন্যের মিডিয়া তাদেরকে আক্রমন করলে পাল্টা আক্রমন করার জন্য তারা মিডিয়া চালু  রেখেছেন। এই ঘটনায় কাভারেজ এটাও প্রমাণ দিচ্ছে যে বেশ কিছু মিডিয়া বসুন্ধরার প্রতি সহমর্মী ছিল বা বসুন্ধরার মিডিয়া দ্বারা পাল্টা আক্রমনের শিকার হওয়ার ভয় ছিল তাদের।
 
এটাতে আরও প্রমাণিত হয়েছে যেসব দৈনিকে ২৮ এপ্রিল এই সংবাদটি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে তার সম্পাদক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (যেখানে মালিক নিজেই সম্পাদক) এখন থেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখেন না। জাতির সামনে বা সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে তার দেশ ও সমাজ নিয়ে নীতিবাক্য বলা সাজে না। যেইসব অনলাইনে এবং টেলিভিশনে মামলা হওয়ার পরদিনও এই নিউজ ছিল না তার সম্পাদক বা বার্তা প্রধান প্রকৃত সাংবাদিক দাবী করতে পারেন না। দৃশ্যত তারা আর দশটি চাকরির মতো এখানেও চাকরি করছেন। এডিটোরিয়াল জাজমেন্ট এখানে অকার্যকর ছিল।
 
পাঠক দর্শকদের উচিত আলোচিত আত্মহত্যা বা হত্যার নিউজটি গায়েব করে দেওয়া এইসব মিডিয়াকে চিহ্নিত করা, যাতে ভবিষ্যতে তারা ধোকার শিকার না হন, প্রকৃত সংবাদ থেকে বঞ্চিত না হন। সেই সঙ্গে তার বিপরীতে যারা যথাযথভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছে সেই সব গণমাধ্যমের বিকাশে সহায়তা করা। আস্থা রাখা। আরেকটি বিষয় নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পাঠক-দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত মনে করছি যে, মিডিয়া যতনা সেল্ফ সেন্সরশিপের চর্চা করেসরকারি চাপ তার তুলনায় নগণ্য। সরকার বিশেষ কোনো ঘটনায় জাতি যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে বলে। পৃথিবীর বুহু দেশে এমন নির্দেশ চলমান রয়েছে। নির্দেশনার যে প্রয়োজনও হয় আমরা তাও দেখেছি বিডিআর বিদ্রোহ বা হলি আর্টিজানের মতো ঘটনার কভার করার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অদক্ষতায়। অবশ্য এটাও ঠিক দুটি ঘটনাই ছিল সরকার এবং মিডিয়ার জন্য নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা।
অন্যদিকে, আমি বিশ্বাস করি যে সরকারের নির্দেশনা পালন করেও পাঠক-দর্শক-স্রোতার কাছে সংবাদটি তুলে ধরা যায়। সেটার জন্য দরকার সম্পাদকের দক্ষতা। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সংবাদ ছাড়া কোনো চাঞ্চল্যকর সংবাদ গায়েব করলে জনগণ যেমন তা জানা থেকে বঞ্চিত হয় তেমনি সরকারের জন্যও তা হিতে বিপরীত হয়। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া যখন অনেকক্ষেত্রে মূলধারার মিডিয়ারও আগে সংবাদ প্রচার করে দিচ্ছে তখন এ ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অথবা প্রতিষ্ঠানের সেল্ফসেন্সরশিপ কোনো কাজেই আসে না।
 
সম্পাদক সাংবাদিক সেলিম খান লিখেছেন ‘সোবহান’দের অর্গলমুক্ত হয়ে সাংবাদিকতা হয়ে উঠবে নতুন এক “মানুষের রাষ্ট্র” প্রতিষ্ঠার সংগ্রামসহায়ক।’
 
বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে সংগ্রামী সহযোদ্ধাদের প্রতি সাংবাদিক মাসুদ কামাল লিখেছেন—... ‘একটি মিডিয়া গ্রুপে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে গত দুদিন ধরে একটা প্রবণতা খুব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদের অনেকেই নিজ নিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন- তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পেরে নাকি খুবই গর্বিত! বসুন্ধরা অবশ্যই দেশের একটি বড় গ্রুপ। এমন গ্রুপে কাজ করার সুযোগ পেয়ে গর্ব অনুভব করতেই পারেন। এতে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো- তিনি তো অনেক দিন ধরে এখানে কাজ করছেন। এতদিন বললেন না, হঠাৎ এই সময়ে কি এমন ঘটল যে গর্বিত হতে হবে, ঘটা করে সেই গর্বের কথা প্রকাশও করতে হবে? 
 
এই সময়ে যা ঘটেছে, সেটা অবশ্য দেশের সবাই জানে। গুলশানে একটি মেয়ে মারা গেছে, সেই মামলায় গ্রুপের এমডি সাহেব আসামি হয়েছেন। নারীঘটিত স্ক্যান্ডালে তার নাম বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে গেছে । তাহলে কি এই কারণেই ওই সাংবাদিকগণ গর্বিত?  শুনতে পেলাম- ওই মিডিয়াগ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিদের চাপেই নাকি সাংবাদিকগণ এমন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। অবাক করা বিষয় হলো- শীর্ষ দুই ব্যক্তি, অর্থাৎ দুই সম্পাদকের ফেসবুকে কিন্তু এধরনের কোন স্ট্যাটাস দেখলাম না। তাহলে তারা কি গর্বিত নন? অথবা গর্বের বিষয়টা জানান দিতে লজ্জা পাচ্ছেন?  যে কাজ আপনি নিজে করতে লজ্জা পান, তা অন্যদের দিয়ে করাচ্ছেন কেন, ভাই? আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এমন দিনে এরকম একটা স্ট্যাটাস লিখতে হলো বলে খুবই বেদনা অনুভব করছি।’
 
সাংবাদিকনেতা পুলক ঘটক তার ফেইস বুকে লিখেছেন, ‘...এরপর বসুন্ধরার বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের দিয়ে যখন ফেসবুকে গণহারে “আমি গর্বিত” ঘোষণা দেওয়ানো শুরু হল, বিষয়টি আমার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, বসুন্ধরা রাষ্ট্র ও সমাজকে দেখিয়ে দিতে চায় তারা ইচ্ছে করলে একসঙ্গে কত সাংবাদিককে আদেশ দিয়ে ‘গর্বিত’ বানাতে পারে। তারা অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে সাংবাদিকদের ফেসবুকে তাদের মত করে স্ট্যাটাস দেওয়াতে পারে- ইচ্ছেমত নাচাতে পারে, হাসাতে পারে, কাঁদাতে পারে, গর্বিত করতে পারে- এই জিনিসটি দেখে অপমানিত বোধ করেছি। অফিসের কর্তাব্যক্তিরা যখন নিউজ নিয়ন্ত্রণ করে সেটি মানতে হয় বলে মেনে নেই। কিন্তু অফিস যখন আমাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তখন তা মানা যায়না। অফিসে নিউজের ক্ষেত্রে আমার স্বাধীনতা নেই, তাই বলে ফেসবুকের মত একটি উন্মুক্ত প্লাটফরমেও আমার স্বাধীনতা থাকবেনা? আমি ফেসবুকে কি লিখব, সেটিও আমার অফিস নির্ধারণ করে দেবে? এরফলে ব্যক্তি স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়। একটি প্রতিষ্ঠানে এরকম কালচার শুরু হলে অন্য হাউজগুলোতেও সেই নজির অনুসরণের প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে সকল সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতীতেও আমরা দেখেছি বিশেষ কিছু হাউজের কর্তার নির্দেশে সেখানে কর্মরতরা দলবদ্ধভাবে ফেসবুকে বিশেষ কারও পক্ষে বা বিপক্ষে ঝাঁপিয়ে পরছে।...’
 
সর্বশেষ অসাধারণ কলমযোদ্ধা মুম রহমান `মুনিয়া মরিয়াই প্রমাণ করিলো যে এ দেশের মিডিয়াগুলো মৃত।’
 
আমার ধারণা এই লেখালেখি যেহেতু শুরু হয়েছেচলবেও। সত্য কী মিথ্যা, সবই একদিন প্রকাশিত হবে। যে যেভাবেই ঘটনাকে ভিন্ন খ্যাতে প্রকাশিত করা চেষ্টা করুক; এই মিডিয়াই খুঁজে নিবে সত্য ঘটনা। আমাদের বিশ্বাস মানুষ এখনও মিডিয়ার ওপরই আস্থা রাখে। বিপদে পড়লে জনগণ এখনও ছুটে যায় মিডিয়ার কাছেই। কারসাজিতে পটু যারা, তারা টেলিভিশন-পত্রিকাকে হয়তো ক্ষণিক বিভ্রান্ত করতে পারবে। লোভ-টোপ দিয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপট সাজানো চেষ্টা করবে। কিন্তু দেরিতে হলেও সত্য প্রকাশিত হবেই। আজ না হয়, কাল। পত্রিকা যখন তার যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হবে তখন জেগে উঠবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম। যেখানে দর্পণের মতো অনেকেই আলোকিত করবেন মিডিয়াকে।
দেশকণ্ঠ/আসো
 
 
 
 
 
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।