• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৫:৫৯    ঢাকা সময়: ১৫:৫৯

সূর্যের ডিম আম এখন বাংলাদেশে

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন : জাপানের তাইয়ো নো তামাগো আম এখন বাংলাদেশ। তাইয়ো নো তামাগো’র অর্থ হচ্ছে সূর্যের ডিম। তাই এই আম বাংলাদেশে সূর্যের ডিম (The Egg of the Sun)  হিসেবে খ্যাত। জাপানের মিয়াজাকিতে উৎপন্ন হয় বলে অনেকে একে মিয়াজাকি আম বলে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে এটি লাল আম ( Red Mango) নামে পরিচিত। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। জাপানিজ এ দূর্লভ আম অনেকটা রক্তিম বর্ণের ডিম্বাকৃতি। তবে তাইয়ো নো ব্র্যান্ডের আমের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর কোনো আমের ওজনই ৩৫০ গ্রামের অধিক নয়। দাম অনেক বেশী। গুগল বলছে, ১টি আমের দাম প্রায় ৬০ ডলার বা প্রায় ৫ হাজার টাকা। এটি অতি সংবেদনশীল ফল। আমটি পাকলে লাল বর্ণ (ruby-red color) ধারণ করে। সুগন্ধ আর স্বাদের জন্য বিশ্বখ্যাত। সুঘ্রান যুক্ত আমটি খুব মিষ্টি ও রসালু। স্বাদ অন্য আমের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি। অনেকে বলে অমৃত।  কোনো আঁশ নেই। প্রতি বছর এপ্রিলে মিয়াজাকির পাইকারি বাজারে সূর্য  ডিম আমের নিলাম হয়। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা আমের আকার আকৃতি, রং, মিষ্টতা, স্বাদ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে সেরা সূর্যের ডিম নির্বাচন করেন।
 
 
মিয়াজাকি বা ‘সূর্যডিম’ আম  প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির উঁচু পাহাড়ের ঢালুতে। প্রায় ১২০টি গাছে আম ধরেছে। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে মহালছড়ি উপজেলা। উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে ‘ক্রা এ্এ এগ্রোফার্ম’ গড়ে তুলেছেন কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী। ২০১৬ ও ১৭ সালে মিয়াজাকি আমের চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। 
 
সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১২০০ ফুট উঁচুতে ক্রা এ্এ এগ্রোফার্ম। পাহাড়ের ঢালু অংশে সারি সারি মিয়াজাকি জাতের আমের গাছ। প্রতিটি গাছের বয়স ৩ থেকে ৪ বছর। প্রতিটি গাছেই এবার আম ধরেছে। একেকটি গাছে ৩০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত আম দেখা গেছে। প্রতিটি আমের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম। পুরো আম লাল রঙে মোড়ানো। 
 
 
কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী জানান, আমার বাগানে প্রায় ৬০ প্রজাতির আম রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমি প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের আমের আবাদ শুরু করেছি। চার বছর আগে দেশের বাইরে চারা সংগ্রহ করে মিয়াজাকি আমের চাষাবাদ করেছি। 
 
তিনি বলেন, বিদেশি প্রজাতি হওয়ায় আমরা ভিন্নপদ্ধতি অবলম্বন করে আমটি চাষাবাদ করেছি। পাহাড়ের ঢালুতে এর আবাদ করেছি। রোপণের চার বছর পর ভালো ফলনও পেয়েছি। আমটির রঙ অত্যন্ত সুন্দর। দাম বেশি হওয়ায় এটি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয় না। দেশের বিভিন্ন সুপার শপে এটি পাওয়া যাবে। অনেক শৌখিন ক্রেতাও আমটি বাগান থেকে কিনে নিয়ে যান। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা এটি চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।
 
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমেদ জানান, সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে মিয়াজাকি জাতের আমের আবাদ শুরু হয়েছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। গায়ের রঙ এবং আকারের কারণে এটিকে সূর্যের ডিম বলা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়াতে মিয়াজাকির ফলন অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। প্রাকৃতিকভাবে রঙিন হওয়ায় এ আম দেখতেও বেশ সুন্দর। সুস্বাদু হওয়ায় এই আমের দামও বেশি। তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে আমাদের দেশের কৃষক লাভবান হবেন। চাষাবাদ পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বাজারে প্রচলিত আমের তুলনায় এর দাম কয়েকগুণ বেশি। পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষকরা এ জাতের আম চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।
 
খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, বর্তমানে প্রচলিত জাতের পাশাপাশি বিদেশি জাতের আম চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো জাপানি আম মিয়াজাকির চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম হিসেবে বিবেচিত। পাহাড়ের আবহাওয়ায় এটি চাষাবাদ উপযোগী। পরবর্তীতে হর্টিকালচারের সেন্টারের মাধ্যমে এটি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।
দেশকণ্ঠ/অআ

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।