• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৬:৫৪    ঢাকা সময়: ১৬:৫৪

বাজেট : দায় ও দায়মুক্তি

  • মতামত       
  • জুন ০৯, ২০২১       
  • ৪৯

অনিরুদ্ধ ব্রতচারী
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি অর্থবছর সরকার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করে। সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাবীর প্রেক্ষিতে  সংসদ সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমে পাশ হয়। অতঃপর মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আইনে পরিণত হয়। এটি তখন বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য আইনি দায় হয়ে যায়। এই আইনের এদিক সেদিক হলে নিশ্চয় আইন প্রতিপালন না করা (যেমন পুরো বাজেট ব্যয় না করতে পারা), ভংগ করা বা অমান্য করার জন্য মন্ত্রী থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী দায়ী হবেন। এরকম দায়ে কেন কারোরই বিচার বা শাস্তি হয় না, কারণ সংসদ দায়মুক্ত করে দেয় আগামীর পথ চলার জন্য। তবে শাস্তিও হয়। 
 
বাজেটের চেয়ে বেশি (বরাদ্দের বেশি) খরচ করলে অডিট আপত্তি হিসেবে এই অতিরিক্ত অর্থ খরচ ও গ্রহণকারীর নিকট থেকে আদায় করা হয়। এজন্য বিভাগীয় মামলা ও শাস্তি হয়ে থাকে এবং পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি আইন প্রয়োগ করে  অর্থ আদায় করে। সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে অর্থ বিভাগ অর্থ খরচের নানান পদ্ধতি বা নিয়ম কানুন দিয়ে থাকে। চাহিদার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে থাকে, উপযোজনের মাধ্যমে আন্তখাত সমন্বয় করে থাকে এসব সরকারি আদেশ দিয়ে না করা হলে যার বাজেট তার অপরাধ হয়। তাই অর্থ বিভাগ থেকে সরকারি আদেশ করে নিতে হয়। আবার বাজেটে উল্লেখিত খাত অনুযায়ী ব্যয় না করলেও শাস্তি হয়।
 
প্রতি অর্থ বছরে বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে দুটি প্রস্তাব  উত্থাপন করা হয়- একটি হলো গত বছরের বাজেটের আয় ব্যায়ের হিসাবের সর্বশেষ তথ্য সম্বলিত প্রস্তাব (সম্পুরক বাজেট) যেখানে ব্যয় কম বেশি যতটুকু করা হয়েছে ঠিক ততটুকুই সংসদ পাশ করে আইনে পরিণত করে ফলে দায়মুক্তি ঘটে। অপরটি হলো আগামী অর্থ বছরের জন্য বাজেট– যেটার প্রতি সকলের দৃষ্টি থাকে, তাই পুরাতন বাজেট নিয়ে তেমন কৌতুহল দেখা যায় না।  
 
অর্থ বিভাগ যে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করে এর সব তথ্য আসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/ বিভাগ থেকে। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়/বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান (স্বতন্ত্র বা স্বায়ত্বশাসিত সকল) জাতীয় বাজেট গাইড লাইন অনুযায়ী নিজেদের আয় ব্যয় হিসাব এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের বাজেট করে থাকে। তখন বাস্তবায়ন কম বা বেশি হলে জবাব দিতে হয় কেন কম বা বেশি হলো। এভাবে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর/সংস্থার বাজেট নিয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ বেশ কয়েকটি  বাজেট মূল্যায়ণ ও প্রস্তুতি সভা করে নিজেদের বাজেট চূড়ান্ত করে অর্থ বিভাগে প্রেরণ করে। অর্থ বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সাথে একাধিক মূল্যায়ণ ও প্রস্তুত সভা করে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে। এর মধ্যেই অর্থ বিভাগ মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান /সংস্থা/ব্যক্তির মতামত নিয়ে থাকে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত সম্পূরক ও প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনা করে সংযোজন বিয়োজন বা পরিমার্জন শেষে চূড়ান্তভাবে দুই ধরনের– গতবছরের আয় ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব এবং আগামীর বাজেট পাশ হয়। জাতীয় সংসদ যেটা পাশ করে সেটাই শেষ সিদ্ধান্ত। সংসদের এই কার্যক্রম নিয়ে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন করা যাবে না তাই মন্ত্রিদের সাথে স্থায়ী কর্মচারীরও (আমলা) দায় মুক্তি ঘটে। 
 
তাহলে বিষয় পরিস্কার যে জনপ্রতিনিধিই আর্থিক দায় চাপিয়ে দিলেন আবার দায় থেকে মুক্ত করলেন– এরপর সামরিক, আধাসামরিক ও অসামরিক, সাংবিধানিক সকলের বেতন, ভাতা, সম্পদ ক্রয়, লজিস্টিকস সাপোর্ট, লোন, অগ্রিম, ক্রয় ইত্যাদি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। সংসদ সদস্য, বিচারক, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা, সম্মানি ইত্যাদি পেয়ে থাকেন এই জনপ্রতিনিধিদের বাজেট পাশের মাধ্যমেই।  সংসদ সদস্যগণ এলাকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরাদ্দ দিলেন, এই কথাটা অন্তত এলাকায় জনগণের সামনে বলতে পারেন। এটাই হলো গণতান্ত্রিক শাসনের জনগণের দ্বারা পাশকরা বাজেট। তাহলে জনপ্রতিনিধির মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি তাই সাংসদ শুধু দেখানোর বিষয় না গভীরভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুধাবন করা ও মতামত দেবার ব্যাপার এবং তার উপরই জাতির ভবিষ্যত নির্ভর করছে।
দেশকণ্ঠ/আসো
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।