• সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ২০:৩৬    ঢাকা সময়: ০৬:৩৬

বিক্ষিপ্ত ভাবনা

অনিরুদ্ধ ব্রতচারী
  • মতামত       
  • ১৬ জুন, ২০২১       
  • ২৪৯

এক. আমার কাছে যেটা ধরা পড়েছে যে, আমরা একটা নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত চিন্তা করতে পারি, তারপর আর খবর রাখি না। আসলে খুব কম লোকই বঙ্গবন্ধুর মত চিন্তা ও কর্মের লেভেল অতিক্রম করতে পেরেছে! তার ছায়াও দেখা যায় না। বঙ্গবন্ধু নিজ থেকেই উদ্ভাসিত - যার কোন তুলনা নাই আমাদের নিকট। সাধারণদের নিয়ে ভাবতে পারি আমরা। সাধারণ কেন মোটামুটি অসাধারণ হতে পারছে না? কেন লেভেলের একটু উপরে উঠে জাতীয় লেভেলটা উন্নীত করতে পারছে না? এই দৈন্যতা আমাদের শেষ করে দিচ্ছে। এই দৈন্যতা সংখ্যায় বেশি হওয়াতে যাদের আমরা বিশেষ বলছি, যারা লেভেল থেকে একটু উপরে গেছে- তাদের জন্য কিন্তু চিন্তা ও কাজ করা খুব কষ্টকর হয়েছে! যেমন, গাড়ির একটা গরু সুঠাম ও পরিশ্রমী আরেকটা দুর্বল, ফলে সুঠামটা জোর করে গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কতদূর যাবে! একটু গিয়েই লাইন ছেড়ে একদিকে গাড়ি যাবে, বাধ্য হয়ে থেমে যাবে। অথবা ক্লান্ত হয়ে থমকে যাবে! অর্থাৎ গাড়ির চালক গাড়োয়ান অবিবেচক কাজ করেছে, কেননা তার উচিত উভয় গরুর বৈশিষ্ট্য ও সামর্থ বিচার করা এবং সে অনুযায়ী জোড় করা। তাহলে গাড়ি অভীষ্ট লক্ষ্যে সময়মত বা আগেই পৌঁছে যাবে। আমাদের নির্বাহী বিভাগে এখন সেই দৈন্যতা ভয়াবহভাবে লক্ষণীয়। সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা এসব যে বুঝছেন না সে রকম ভাববার কারণ দেখছিনা তবে বুঝে বা না বুঝে সেই গাড়ি চালানোর রিস্ক নিয়ে সার্বিকভাবে ক্ষতিই করছেন বৈকি। হয়ত সফলতার বালি চিকচিক করছে কিন্তু সব বালি নয়, অধিকাংশের জ্যোতি থমকে যাচ্ছে!এতে ক্ষতি বেশি হচ্ছে নিজ দলের, যেহেতু সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা বহুমুখী এবং দলের উপরেই প্রযুক্ত হয়, নেতা ভিকটিম হয়, কর্মী আশাহত হয় আর ভাগ্যহত হয় জনতা, সার্বিকভাবে পিছিয়ে পরে দেশটা!
 
২. লক্ষ্য করুন শিক্ষা ক্ষেত্র - কালের চাহিদার প্রেক্ষিতে শিক্ষার গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত আমূল পরিবর্তন না করতে পারলে এই দীর্ঘমেয়াদী ও স্মার্ট সরকারের প্রতি ক্রমশঃ জনআস্থা ও বিশ্বাস কমে যাবে নিশ্চয়। কেননা সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা মৌলিক অধিকার এবং নাগরিকের জন্য রুটি-রুজি প্রেস্টিজ, সম্মান ও ভালো থাকা, সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসা। এই ভালোবাসার ফল হলো ভোট তথা জনগণের রায়। রায় টা যে কোথায় যায়, সেটাও ভাবতে হবে গভীর করে।
 
৩. সেবার গতিপ্রকৃতি নিয়েও আরো বেশি করে ভাবতে হবে, কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে নাগরিকের সম্মান প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। তাই এখন আর নাগরিক সকালে আবেদন করে সপ্তাহ পরে এসে খোঁজ নিবে আবেদনের কি গতি হল, কোন আর্থিক বা লাউ, কদু, কলা, মুরগি যোগ করে উৎসাহিত করতে হবে কি না? সে দিন আর নাই, এখন স্মার্ট উত্তরের যুগ, প্রশ্ন করা মাত্রই উত্তর জানা যায়। জনসেবা সে রকম করার কোন বিকল্প নাই, যেটা তাৎক্ষণিক করা যায় সেটা তখনই করতে হবে। যেটার সময় লাগবে সেটার সময় তাৎক্ষণিক বলে দিতে হবে। যে তথ্য সরকারের কোন এক ভান্ডারে জমা আছে সেটা চেয়ে বিরক্ত করা যাবে না। আজ নয় কাল করে নাগরিককে অতিষ্ঠ করা যাবে না। কারণ দ্রুত সেবা পাবার মানসিকতা তৈরি হয়েছে, না পেলে অস্থির হবে এবং অধিকাংশই নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছ - সেটাকেও মূল্যায়ন করতে হবে, সম্মান দিতে হবে- কর্মকে ছোট করে দেখা বিপরীত ফল দিবে। নাগরিকদের এই চাওয়া পাওয়ার মূল্যায়ন সরকারকে করতেই হবে। কারণ এর দায় সরকার নিয়েছে, এটাতেই নাগরিক মর্যাদা পায়, কোন অমিয় বাণী বা তেলমারা কথা বা দুচার টাকা পকেটে দিলে মর্যাদা বোধ করে না আর। সেদিন আর নাই যে কেউ একটা টাকা দিবেন, সে আশায় সারা দিন বসে থাকবে, তারপর সে টাকা পেয়ে ধন্য ধন্য করে নাম জপ করতে থাকবেন। এখন প্রশ্ন করে আমার ন্যায্য হিস্য গেল কোথায়? হিসেব দিতে হবে। এমন সচেতন নাগরিকদের জন্য শিক্ষা ও সেবা কার্যক্রম কেমন? একবার ভাবতে হবে।
 
৪. ভাবনা একেবারে গোড়া থেকেই আসুক, ছড়িয়ে দিই ভাবনা গ্রামে গ্রামে, তারাই বলুক কেমন কি চায়। ৩/৪/৫ বছরের টার্গেট নিয়ে নেমে যাক শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সাথে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থাকুক। জাতির পিতা কিন্তু একেবারে তৃণমূল থেকেই মানুষকে জাগিয়ে তুলে ছিলেন। তিনি গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেছেন। জনগণের সাথে সভা করেছেন, মতামত শুনেছেন, সচেতন করেছেন। তিনি মাটির ডাক শুনেছেন (জানার জন্য অসমাপ্ত আত্মজীবনী দেখা যেতে পারে)। আজ আমাদের কোন মন্ত্রী ফেসবুক পোস্ট দিল না যে, বহুদিন পর গ্রামের বাড়িতে ঘুমালাম একরাত, সময় কাটালাম গ্রামের মাঠে, ক্ষেতে, পুকুরে ইত্যাদি।
 
৫. বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন লেখায় গ্রামের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন, সে অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসাকে কিভাবে তিনি বুকের গভীরে বেধে রেখেছেন, ভাবলে কষ্ট হয়! তাকেও আমরা ক্ষণিকের জন্য হলেও গ্রামে নিয়ে যেতে পারিনি। নিতে পারিনি সে গ্রামের মানুষটির বাড়ির উঠানে যেখানে বসে আছেন তিনি গ্রামের মানুষের সাথে। (এখন না কি উঠান বৈঠক হয়!) সেখানে ক্যামেরা ক্লিক করছে, সেলফি তুলছে কোন লাজুক বধু, আবার স্মার্টলি পোস্ট করছে তা সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছড়িয়ে দিচ্ছে সারা বিশ্বে! যেমন গিয়েছিলেন পিতা শেখ মুজিব নিরন্ন মানুষের বাড়িতে।
দেশকণ্ঠ/আসো

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।