• সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৯:৪৭    ঢাকা সময়: ০৫:৪৭

তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ এখন দান করছে

  • মতামত       
  • ২১ জুন, ২০২১       
  • ৫৭০

ড. মো. আসাদুল ইসলাম
তলাবিহীন ঝুড়ি এখন দান করে বেড়াচ্ছে! কে রাখে, তার খবর? ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের, এই উদীয়মান অপার-সম্ভাবনার দেশে, সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায়  অনেকেই খুব সোচ্চার।  এটা খুব ভালো লক্ষণ, মানুষ যা অন্যায় ভাববে, তার বিরুদ্ধে কথা বলবে, সমালোচনা করবে, কৈফিয়ত চাইবে, এটাই স্বাভাবিক, এটাই গণতন্ত্র! যাইহোক, সব কিছু মনে ভালো হয়ে গেলো নিমিষেই! তাই কারো কোনো আর কথা শুনা যাচ্ছে না তেমন, এমনটাই চাই। 
 
তবে কারো সমালোচনা করতে গিয়ে শাব্দিক বাক্যের নোংরা ব্যবহার ও তার অর্থ আমাদের উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের জন্য খুবই খারাপ। ফেইসবুকে বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের অনেক ছোটোভাইবোন রয়েছে। কয়েকদিন ধরে ফেইসবুকে, এমন কিছু শব্দ পড়েছি তার আভিধানিক অর্থ আন্ডার-১৮ ছেলেমেয়েরা বুঝে না। কৌতূহলবশত, যদি তারা ওই নোংরা শব্দ বা বাক্যের অর্থ খুঁজে তাহলে, তারা ওই খারাপটাই নিয়ে থাকবে। তাই সমালোচনা ও প্রতিবাদের ভাষা, একটু শোভন হলে ভালো হয়। আপনার বলার স্বাধীনতা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই, আপনি বলুন, তবে স্রোতারদের অনেকেই বয়সে ছোট, উঠতি এবং নাজুক। কিছু বাজে ভাবে বলার আগে, আপনার বলা শব্দটি বা বাক্যটি, তাদেরকে কি অর্থ দিচ্ছে, তা একটু ভাবুন।  
 
কয়েক দিন আগে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশ ঋণগ্রস্ত সুদানকে, বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৭.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। গত বছর, আইএমএফের উদ্যোগের অংশ হিসেবে, আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ প্রায় ৮ কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। এই খবর কয়জন রেখেছেন?এই নিয়ে কোনো বাহবা দিয়েছেন? জানিয়েছেন আপনার সন্তান কে? আপনার ভাই কে? বা আপনি প্রবাসী হিসেবে যে দেশে আছেন, সে দেশেও এই নিয়ে, করেছেন কি কোনো উচ্চবাচ্য বা প্রশংসা? সমালোচনা করুন প্রাণ ভরে তবে প্রশংসায় এতো কৃপণ কেন?
 
সুদানকে অনুদানের বিষয়ে অনেক গর্বিত হয়েছি, মনে হচ্ছিলো তলাবিহীন ঝুড়ির সেই বাংলাদেশ এখন কোথায় পৌঁছেছে। বাহবা দিতে মন খুব উঠেপড়ে লাগছিলো কিন্তু কয়েকদিন ধরে, যে ঘটনার প্রবাহ ফেইসবুকে  আছে, আর তা নিয়ে খারাপ ভাষার প্রয়োগ দেখে নির্লিপ্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আপনি কি জানেন, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজের সিনিয়র গবেষণা ফেলো ড. ডেভিড ব্রুস্টার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে আপনার দেশ, বাংলাদেশ। 
 
যাই হউক, শুধু এই দান নয়, এমন আরো অনেক দান-অনুদানে বাংলাদেশ আগামীতে অনন্য নজির রাখবে। কিন্তু যেভাবে এই ভালো কাজগুলোকে, শিক্ষিত জনগণ উপেক্ষা করে, তা ঠিক না। পৃথিবীর কোথাও স্বর্গ বলে কিছু নেই আর হবেও না। ভালো খারাপ অনেক ঘটনায় ঘটবে। তবে খুব খারাপ ভাষায় সমালোচনা করা ঠিক না। তাই বলে আমি সমালোচনাকে নিরুৎসাহিত করছি না। কারণ আমি নিজেও সমালোচনা করি, তবে মার্জিত ভাষায়। আপনারাও সেভাবে চেষ্টা করুন।
 
ড. ব্রুস্টার বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি ঢাকাকে যেখানে আপনার বসবাস তাকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছেন এক ওপর সম্ভাবনাময় এক বৈশিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে। তিনি বলেছেন 'ঢাকাতে মনযোগী হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাভবান হতে পারে।’ 
 
‘উদীয়মান বাংলাদেশ আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে’ শিরোনামে তার এই সাম্প্রতিক নিবন্ধে ড. ব্রুস্টার প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেন 'সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তামূলক ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ'। একটি সাহায্যপ্রার্থী দেশ থেকে আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ হওয়ার পথে এমন দান, অনুদান ও ঋণ প্রদান বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। 
 
আপনি ভাবতে পারেন আমাদের হাজারো সমস্যা আছে তা না ঠিক করে কেন অন্যকে টাকা দান, অনুদান ও ঋণ দেওয়া! কিন্তু এটি আপনার অমূলক ও ভিত্তিহীন ভাবনা। আমাদের দেশ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিপূর্ণ এক দেশ! তাই সেখান থেকে এইরকম দান, অনুদান ও ঋণ দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা আপনা, আমাকে বহির্বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে কিছু বলার সুযোগ করিয়ে দেয়, দেশের ইমেজ বাড়বে। বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতেও এমন মহতী উদ্যোগ অনেক কাজে দেয়।
 
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন আপনার দেশকে,  উপহাস করেছিলেন, অভাব আর অভাবী বলে। কিন্তু আজকের এদেশ আপনি, আমি সহ, ১৬ কোটি মানুষর এক আত্মবিশ্বাসী জাতির ঠিকানা স্থল, অসহায়দের আশ্রয়স্থল। আমাদের আছে রফতানি নির্ভর উদীয়মান এক অর্থনীতি, যা গত দুই দশক ধরে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। এমনকি, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ এর কারণে, প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এলেও, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ এবং ২০২২ সালে এটা দাঁড়াবে ৭ দশমিক ২ শতাংশে। 
 
বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার, যা প্রতিবেশী ভারত (১ হাজার ৯৪৭ ডলার) এবং পাকিস্তানের (১ হাজার ৫৪৩ ডলার) চেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, জন্মহার এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা নির্দেশকগুলোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। এগিয়েই থাকবো আমরা, কিন্তু এই দুর্বার এগিয়ে চলার পিছনের কারিগরদের নিয়ে ভালো কিছু বলতে, আপনার আমার কৃপণতা করা ঠিক না। গণতান্ত্রিক দেশে সমালোচনা করবেন, স্বাগত জানাই। কিন্তু, তা অবশ্যই শোভন শব্দের মাধ্যমে করলেই তার সার্থকতা ফুটে উঠবে।  
লেখক :  প্রভাষক, সুইনবার্ন  ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, মালয়েশিয়ান ক্যাম্পাস
দেশকণ্ঠ/আসো
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।