• সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ২১:৪৯    ঢাকা সময়: ০৭:৪৯

পুঁইশাকের লিফস্পট রোগ ও প্রতিকার

রাজিয়া সুলতানা
পুঁইশাকের পাতার মধ্যে যে গোলাকৃতি লালচে দাগ দেখা যায় তাইই পুঁইশাকের লিফ স্পট। আবার পুঁইশাকের এই রোগকেই লাল স্পট রোগ বলা। ইহা মূলত ছত্রাকজনিত রোগ। সাধারণভাবে Cercospora bacticola নামক ছত্রাক দ্বারা এই রোগটি হয়। 
 
এই রোগটি সাধারণত বর্ষা মৌসুমে দেখা যায়। যখন ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয় এবং গাছের গোঁড়ায় পানি জমে থাকে তখন ছত্রাকটির আক্রমণ বেশী হয়। ছত্রাকটি প্রথমে গাছের পাতায় আক্রমণ করে। এর ফলে পাতায় লালচে ছোট ছোট দাগের সৃষ্টি হয়। অতঃপর দাগ বড় হয় এবং কাণ্ডেও আক্রমণ করে। এমনকি গাছে যখন নতুন কুশি ছাড়ে তখন, কুশিগুলোকে শক্ত ও ডিম্বাকৃতি করে ফেলে। এই ছত্রাকের আক্রমণের ফলে গাছটি মারাও যেতে পারে। বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময়েও এই রোগটির প্রার্দুভাব হতে পারে সংক্রমিত বীজ ও মাটি থেকে। মাটিতে বা বীজে যদি ছত্রাক থাকে তাহলে গাছ বাড়ার সাথে সাথে রোগের প্রকোপ দেখা দেয়।
 
রোগটি মাটি, পানি, কীটপতঙ্গ, কৃষি যন্ত্রপাতি এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। রোগটি দমন করতে হলে কৃষি যন্ত্রপাতিসহ বীজ ও কাটিং শোধন করতে হবে। গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবেনা। বীজ বা কাটিং শোধন করতে হবে ফানজিসাইড দিয়ে। বীজ লাগালে প্রথমে সারারাত বীজকে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট মাত্রায় ফানজিসাইড ভালোভাবে স্প্রে করে মাটিতে লাগাতে হবে। বাকি ঔষধ মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। কাটিং লাগালেও কাটিং ফানজিসাইড দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। বাজারে বিভিন্ন নামে ফানজিসাইড পাওয়া যায়। যেমন সেফ, ম্যানসার ইত্যাদি। যাদের মূল উপাদান কার্বেন্ডাজিম ও ম্যানকোজেব। যখন ফানজিসাইড পাতায়, কাটিংয়ে বা বীজে প্রয়োগ করতে হবে, তখন ১ গ্রাম ফানজিসাইড ১ লিটার পানিতে মিশাতে হবে। আর মাটিতে প্রয়োগ করতে হলে ১ লিটার পানিতে মিশাতে হবে ২ গ্রাম ফানজিসাইড। আক্রান্ত গাছে ১৫ দিন অন্তর অন্তর ফানজিসাইড প্রয়োগ করতে হবে। এ সময় গাছের কোন পাতা খাওয়া যাবে না। ঔষধ প্রয়োগের ২০-২৫ দিন পর হতেই গাছ রোগমুক্ত নতুন কুশি ছাড়বে। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে রোগাক্রান্ত পাতা খাওয়া যাবে কিনা? খাওয়া যাবে যেহেতু আমরা পুঁইশাক রান্না করে খাই। তবে যত্ন নিয়ে রোগমুক্ত শাকসবজিই খাওয়াই শ্রেয়।
 
পুঁইশাক Magnoliopsida শ্রেণীভুক্ত এক প্রকার লতা জাতীয় উদ্ভিদ। পুঁই গাছের পাতা ও ডাঁটি শাক হিসেবে খাওয়া যায়। পুঁই বহুবর্ষজীবী উষ্ণমণ্ডলীয় গাছ। বাংলাদেশে, পশ্চিমবঙ্গে, আসামে এবং ত্রিপুরায় সর্বত্র এর চাষ হয়ে থাকে। এর ভাজি এ সব এলাকার মানুষের প্রিয় সহযোগী খাদ্য। এটি নরম বহুশাখা যুক্ত উদ্ভিদ। পুঁইশাক বেশ জনপ্রিয় একটি শাক। এর রয়েছে অনেক গুণ। গাঢ় সবুজ রঙের এই শাকে রয়েছে বেশকিছু উপকারিতা। সহজলভ্য বলে এই শাক কম-বেশি সকলের কাছেই বেশ জনপ্রিয়।
 
পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, দেহের বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে বাইরে যেতে সাহায্য করে। এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন `এ` এবং `সি`, যা ত্বকের রোগজীবাণু দূর করে, বৃদ্ধি ও বর্ধনে সাহায্য করে, চোখের পুষ্টি জোগানো ও চুলকে মজবুত রাখে। ক্যালরির ঘনত্ব কম হওয়া সত্ত্বেও আমিষের পরিমাণও বেশি। গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত শাক, বিশেষ করে আঁশজাতীয় শাক, যেমন পুঁই বা মিষ্টিকুমড়ার শাক খায়, তাদের পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুবই কম। আঁশজাতীয় খাবার পাকস্থলী ও কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পুঁইশাকে রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই। তবে অনেকের পুঁইশাকে অ্যালার্জি আছে।
দেশকণ্ঠ/আসো

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।