• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৯:১৮    ঢাকা সময়: ১৯:১৮

চট্টগ্রামে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কুলসুমীর ২ সহযোগী গ্রেফতার

আদালতে কুলসুমীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রুবেল খান, চট্টগ্রাম ব্যুরো : রুবেল খান, চট্টগ্রাম ব্যুরো : বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কর্মি পারভীন হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কুলসুম আক্তার কুলসুমীর পরিবর্তে নিরপরাধ মিনুকে জেল খাটানোর রহ্স্য উদঘাটন করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ওই প্রতারণার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কুলসুমীর দুই সহযোগীকে ১ আগস্ট, রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. নুর আলম কাওয়াল (৪৮) ও মোঃ শাহাদাত হোসেন (৪২)। দুই জনকেই সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল সলিমপুর কালাপানিয়া দরবেশ নগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. শাহাদাত হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হলে আদালতে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ও মো. নূর আলম কাওয়ালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
এর আগে গ্রেফতার হওয়া আসামী কুলসুমী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে রবিবার আসামী কুলসুমী জবানবন্দি দেয়। মাত্র দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে কুলসুমীর বদলে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মিনুকে গার্মেন্টস কর্মী পারভীন হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কুলসুম আক্তার কুলসুমী মনে করে জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন। আদালতে জবানবন্দিতে আসামী কুলসুমী এসব কথা স্বীকার করে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। 
 
এ তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন দেশকণ্ঠকে বলেন, কুলসুম আক্তার কুলসুমী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। নগরের রহমতগঞ্জে একটি বাসায়  ২০০৬ সালের ২৯ মে জুলাই মাসে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টস কর্মী কোহিনূর আক্তার পারভীনকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। এরপর রহমতগঞ্জে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কোহিনূর আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন গার্মেন্ট কর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। পরে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর কুলসুমী ওই হত্যা মামলায় এক বছর চার মাস হাজতবাস শেষে জামিনে বের হয়ে দীর্ঘ ১০ বছর আদালতে হাজিরা দেন। গত ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মামলায় কুলসুম আক্তার কুলসুমীর যাবজ্জীবন সাজার আদেশ হওয়ায় আসামি কুলসুমী বিষয়টি আসামি মর্জিনা বেগমের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সাজা থেকে বাঁচার জন্য মর্জিনাকে সহযোগিতা করতে বলেন। 
 
ওসি নেজাম আরো বলেন, মর্জিনা বেগম (৩০) কুলসুমীকে যাবজ্জীবন সাজা থেকে বাঁচানোর জন্য কুলসুমীর সাজার বিষয় নিয়ে গ্রেফতার হওয়া মো. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি কুলসুমীকে বাঁচানোর জন্য মো. নুর আলম কাওয়ালের সঙ্গে আলোচনা করেন। মো. নুর আলম কাওয়াল ও মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এক লাখ ৫০ হাজার টাকায় কুলসুমীর পরিবর্তে আরেকজনকে কারাগারে পাঠাবে বলে মর্জিনাকে জানায়। বিষয়টি কুলসুমী জানতে পেরে এক কথায় রাজি হয়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেবে বলে জানায়। মর্জিনা মিনুকে টাকার লোভ দেখিয়ে ও এক মাসের মধ্যে জামিন করিয়ে দেবে বলে চুক্তি করেন। ২০১৮ সালের ১২ জুন মিনুকে আসামী কুলসুমী সাজিয়ে মর্জিনা বেগমের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেফতার হওয়া মো. শাহাদাত হোসেন ও মর্জিনা বেগম মিনুকে আদালতে কুলসুমী সাজিয়ে হাজির করেন এবং কুলসুমী হিসেবে ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনু হাজতে ঢুকে যায়। পরবর্তীতে মিনু কারাগারে যাওয়ার পর গ্রেফতার হওয়া মো. শাহাদাত হোসেন ও নুর আলম কাওয়াল মর্জিনা বেগমের কাছ থেকে পাওনা এক লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে মর্জিনা ও কুলসুমী টাকা জোগাড় করতে না পারায় কালক্ষেপণ করতে থাকে।
 
ওসি নেজাম আরো বলেন, শাহাদাত ও নুর আলম কাওয়াল মর্জিনা এবং কুলসুমীকে বারংবার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে, টাকা দিতে না পারায় স্থানীয়ভাবে সালিসি বৈঠক হয়। একপর্যায়ে মর্জিনা ও কুলসুমী টাকা দিতে না পেরে জঙ্গল সলিমপুর কালাপানিয়া দরবেশ নগর এলাকা থেকে পালিয়ে নগরীর ইপিজেড এলাকায় আত্মগোপন করে। মো. শাহাদাত হোসেন ও নুর আলম কাওয়াল ছিন্নমূল এলাকায় কুলসুমী ও মর্জিনা বেগমের থাকা ২টি প্লট জোরপূর্বক দখল করে বলে আদালতে জবানবন্দিতে কুলসুমী জানান। 
 
ওসি জানান, জবানবন্দি শেষে আদালত কুলসুমী ও সহযোগী মার্জিনা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ২৯ জুলাই ভোরে নগরের পতেঙ্গা এলাকা থেকে কুলসুমী ও সহযোগী মার্জিনা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন দুপুরে কোতোয়ালী থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) আকাশ মাহমুদ ফরিদ বাদি হয়ে কুলসুমী ও মার্জিনা আক্তারসহ অজ্ঞাত একাধিকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করেন। একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের ভার্চুয়াল আদালত তাদের দুই দিনেরে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 
জানা যায়, ২০১৭ সালে নভেম্বর তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে পারভিন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান। মিনু গত ১৬ জুন পর্যন্ত  তিন বছর হাজতবাস করেন। বিষয়টি অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ, জজকোর্ট, চট্টগ্রাম এর নজরে আনলে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে ক্রিমিনাল আপিল নং-৪২৯৩/২০১৯ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নজরে এনে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ মিনু বেগমকে জামিনে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ, ৪র্থ আদালত আদেশ সহকারে আসামী কুলসুম আক্তার কুলসুমী এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করলে কোতোয়ালী থানায় প্রসেস নং-৭৩/২০২১ মূলে গত ২০ জুন গ্রেফতারি পরোয়ানা কোতোয়ালী থানায় গৃহিত হয়। মিনু জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সে গত ২৯ জুন বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন বায়েজিদ সীতাকুন্ড লিং রোডস্থ আরেফিন নগর সানমারের বিপরীত পাশের পাকা রাস্তার উপর সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি মামলা রুজু হয়।
 
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই ট্রাকচাপায় মিনু আক্তারের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক দাবি করেছেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। মিনুর মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খোরশেদ আলম জানান, সড়কের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাটি রাতের বেলায় হওয়ায় একটু সময় লাগছে।
দেশকণ্ঠ/আসো

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।