• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৮:৩৯    ঢাকা সময়: ১৮:৩৯

চট্টগ্রামে করোনা মহামারীতে নতুন আতংক ডেঙ্গু

রুবেল খান, চট্টগ্রাম ব্যুরো : বন্দর নগরী চট্টগ্রামে চলমান করোনা মহামারীতে এ পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৮৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৮৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় করোনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯৮৫ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণের হার ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
 
এরমধ্যে গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রামে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু ও করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৩১০ জন। এটিই এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড। চট্টগ্রামে করোনার প্রকোপ এতটাই বেড়েছে যে, হাসপাতালগুলোর আইসিইউ বেডসহ করোনার জন্য সংরক্ষিত সাধারণ বেডগুলোতেও নতুন রোগী ভর্তির সুযোগ নেই। অর্থাৎ সবগুলোতেই করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। 
 
চট্টগ্রামে করোনার এই মহামারীতে নতুন আতংক হয়ে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।আক্রান্ত আরো বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। নগরীর হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ভর্তি হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা। বর্ষার শেষ দিকে করোনার সাথে মশার উৎপাত বাড়ায় নগরবাসীর মাঝে ভর করেছে এই ডেঙ্গু আতঙ্ক।
 
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সাত জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে একজন মারা গেছেন। তাছাড়া কদিন ধরে নগরীতে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। স্বভাবত মশার উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে। এ অবস্থায় নিজেদের সচেতন হওয়া দরকার। পাশাপাশি নগরীর সব জায়গায় কীটনাশক ছিটানোর মাধ্যমে এই মুহূর্তে সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। কারণ এই শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়ভার কর্পোরেশনের। অপরিষ্কার নোংরা স্থানে এডিসের লার্ভা জন্মায়। সেখান থেকেই ডেঙ্গু মশার উৎপত্তি।’ 
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে, করোনা নিয়ে আতঙ্কে থাকায় আলাদাভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আগে নগরীর প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশা নিধনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে করোনার মতো এটিও নিয়ন্ত্রণেরের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
 
এদিকে চট্টগ্রামে মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। এমন পরিস্থিতিতে নগরের ১৫টি স্পটে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তের বার্তা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গবেষক দল। চট্টগ্রামের ৯৯টি এলাকার ৫৭টি স্পট থেকে নমুনা সংগ্রহের পর গবেষণায় ১৫টি স্পটে শতভাগ এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানান তারা। গত ৫ জুলাই থেকে এ জরিপ চালান গবেষকরা। মঙ্গলবার (০৩ আগস্ট) এ গবেষণার রিপোর্ট চসিক মেয়রের কাছে জমা দেওয়া হবে।
 
ডেঙ্গু মোকাবিলায় চসিকের করণীয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু্র বিস্তার এখন পর্যন্ত ঢাকার মতো প্রকট নয় এবং এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। ডেঙ্গু রোগের বিস্তার প্রতিরোধে যেসব অতীব জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা প্রয়োগে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের জনবলকে সক্রিয় রাখতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননের উৎসগুলোতে প্রতিষেধক ওষুধ ছিটানো এবং নালা-নর্দমা-খাল ও জলাশয় আবর্জনামুক্ত রাখতে যাবতীয় কর্মপন্থা চলমান রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাউন্সিলরদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে তদারকি ও নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  
তবে এডিস মশা নিধন ও প্রজনন স্থান ধ্বংসে সিটি কর্পোরেশনের দৃশ্যত কোন পদক্ষেপ নেই। ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে সম্প্রতি হাতেগোনা দুয়েকটি ওয়ার্ডে কালো তেল ছিটাতে দেখা গেছে। যা স্রেফ লোকদেখানো বলে মনে করছেন নগরবাসী। কারণ এতে মশা নিধন হয় না বরং পরিবেশ দূষিত হয়। এছাড়া ওষুধ ছিটানোর ৪০টি ফগার মেশিনের সবকটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, মশা মারার জন্য সিটি কর্পোরেশন এডাল্ট্রিসাইড’ (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী) ও ‘লার্ভিসাইড’ (লার্ভা ধ্বংসকারী) নামের দুটি ওষুধের পাশাপাশি লিকুইড ডার্ক ওয়েল (এলডিও বা কালো তেল) ব্যবহার করে। এরমধ্যে সর্বপ্রথম নোংরা পানিতে এলডিও প্রয়োগ করা হয়। এই এলডিও পানিতে দেওয়ার পর সেখানে একটি লেয়ার পড়ে। লেয়ারের নিচে থাকা মশা ও লার্ভা মারা যায়। এর উপর পর্যায়ক্রমে বাকি দুটি ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে বর্তমানে চসিকের কাছে এডাল্ট্রিসাইড ও লার্ভিসাইড ওষুধ মজুদ নেই। তাই আপাতত কালো তেল দিয়েই কোন রকম কাজ সারা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আগামী ৫ আগস্ট থেকে আমরা মশক নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করবো। রবিবার (০১ আগস্ট) স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে ১০০ জন স্প্রেম্যান নিয়োগ করে প্রতিদিন চার ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। এভাবে ২৫ দিন ক্রাশ পোগ্রাম চলবে। তিনি জানান, ফগার মেশিনগুলো নষ্ট। প্রকৌশল বিভাগ এসব মেশিনের মেরামত কাজ শুরু করছে। এছাড়াও ইঞ্জিন চালিত ২০টি স্প্রে মেশিন কেনা হচ্ছে।
 
অপরদিকে, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে নিজের আঙ্গিনা এবং বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চসিকের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের পাশাপশি নগরবাসীর মনে এখন নতুন আতঙ্ক ডেঙ্গু। সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ হয়। নগরীতে কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে ডেঙ্গুর উৎপত্তিস্থলও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
 
সুজন বলেন, করোনা এবং ডেঙ্গু এই দুই রোগেরই প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তাই স্বাভাবিকভাবে জ্বরে আক্রান্ত হলেই ভয় পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আর নগরবাসী সতর্ক না হলে করোনা এবং ডেঙ্গু এই দুই ধরনের রোগী নিয়ে হিমশিম খেতে হবে আমাদের চিকিৎসক-নার্সসহ চিকিৎসা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
 
তিনি আরও বলেন, এডিস মশা ডেঙ্গুর একমাত্র বাহক। এরা সাধারণত বাসাবাড়ির টবে, ছাদের বাগানে, এসির পানি, ফ্রিজের পেছনে জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই মশার আবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে পারলেই এডিস মশা নির্মূল হবে। এজন্য বাসাবাড়ির আবদ্ধ জলাধার ধ্বংস করতে হবে। ফ্রিজ বা এসির পানি ও বাসার বারান্দা এবং কার্নিশে খোলা টব থাকলে সেটা দুই-তিনদিন পর পর পরিষ্কার করতে হবে। রাস্তার খানাখন্দ, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, ডাবের খোসা- এসব জায়গায় যাতে পানি জমতে না পারে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ এবং সচেতনতার মাধ্যমেই ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
 
এছাড়াও চসিকের এই সাবেক প্রশাসাক এডিস মশার হাত থেকে বাঁচতে হলে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরামর্শ হলো- দিনে কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙাতে হবে। ঘরে মশানিরোধক স্প্রে করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের সবসময় ফুলহাতা জামা-প্যান্ট পরাতে হবে।
দেশকণ্ঠ/আসো
 
 
 
 
 
 
 
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।