• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ০৮:৩৩    ঢাকা সময়: ১৮:৩৩

হাঁটু পানি পেরিয়ে যেতে হয় বিদ্যালয়ে

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন :  বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম কেউটিয়া গ্রামের আবুল হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তাই হাঁটু সমান পানির ওপর দিয়ে হয়ে শ্রেণিকক্ষে আসতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি একটু বৃষ্টিতে পানি ঢুকে পড়ে শ্রেণিকক্ষেও।  এই অবস্থাতেই চলছে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম।
 
স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম কেউটিয়া গ্রামটি মূলত নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল। নদী ও খাল বেস্টিত হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ এলাকা বন্যা-জলোচ্ছাসের সময় পানিতে প্লাবিত থাকে। সেইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো ব্যবস্থাও নেই এ গ্রামে। তাই আবুল হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সাইক্লোন সেন্টার ও স্কুলভবন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন হাওলাদার জানান, পানিতে ডুবে কিংবা সাপের কামড়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাই সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, কারণ অল্প জোয়ারেই টিনশেড জরাজীর্ণ ভবনটির চারপাশ পানিতে তলিয়ে থাকে। বাচ্চাদের অনেক সময় কোমড় সমান পানি পাড় হয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়। আবার শ্রেণিকক্ষ উচু হওয়ায় সেখানে সাপসহ অন্যান্য সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীরা আশ্রয় নেয়। 
 
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান মাহাবুব বলেন, “পানিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন তলিয়ে থাকলে ছোট ছোট বাচ্চা ও শিক্ষক সবাইকে ক্লাশরুমে আসতে হয় পানি মাড়িয়ে। হয়তো শিক্ষকরা হাঁটুজল পার হয়ে আসেন কিন্তু শিক্ষার্থীদের কোমড় পর্যন্ত পানি থাকে মাঠটিতে। ছোট ছোট বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে আসা ও যাওয়া পর্যন্ত পাঠদানের থেকে বেশি উৎকন্ঠায় থাকতে হয় তারা যেন অসতর্কতামূলক পানিতে ডুবে না যায়। তিনি আরও বলেন, “এছাড়া ক্লাশরুম থেকে বিচ্ছিন্ন শৌচাগারেও পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। আর শৌচাগার পানিতে তলিয়ে থাকলে তো সবথেকে বেশি ভোগান্তিতে পরতে হয় ছাত্রীসহ নারী-শিক্ষকদের। এক কথায় পানির কারণে শৌচাগার ব্যবহার বন্ধই থাকে।”
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একে এম হাফিজুর রহমান বলেন, “আবুল হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় জেলেসহ খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাদের সন্তানরাই  এ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠগ্রহণ করেন।  ২০১৩ সালে সরকারি হওয়া এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২শ শিক্ষার্থী রয়েছে। ৫ জন শিক্ষক মিলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।”
 
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ উচুকরণসহ ভবনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন ভবনটি যাতে সাইক্লোন সেন্টার ও স্কুলভবন হয়। কারণ এই চরের আশপাশে বেশ কয়েকটি নদী ও খাল রয়েছে, যেগুলো বৈরী আবহাওয়ার সময় ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করে।”
দেশকণ্ঠ/অআ

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।