• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৩:৩৭    ঢাকা সময়: ২৩:৩৭

দেশের আকাসসীমার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী হচ্ছে বিমানবাহিনী

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন :  ঘটেছে অনেক ঘটনা, চড়েছে উত্তেজনার পারদ সেইসঙ্গে করতে হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা, অতঃপর এসেছে স্বস্তির বার্তা। নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাংলাদেশের আকাসসীমা সুরক্ষায় আসছে বিশ্বের অন্যতম সেরা বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান “ইউরোফাইটার টাইফুন” অথবা “ডাসল্ট রাফাল”-এর যেকোনো একটি।
 
১৬টি ইয়াক-১৩০ কেনার জন্য ২০১৩ সালের শেষ ভাগে ইরকুট কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। তখন সার্বভৌম নিশ্চয়তার ভিত্তিতে ক্রেমলিনের দেওয়া ঋণের ১ বিলিয়ন ডলার দিয়ে একটি দুই-সিটের সাবসোনিক উন্নত জেট প্রশিক্ষণ বিমান এবং হালকা যুদ্ধবিমানের জন্য অর্থায়ন করা হয়েছিল। বাস্তবিক অর্থে এটি ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য এসইউ-৩০ কেনার একটি নিশ্চয়তা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সাধারণত রাশিয়ার কাছ থেকে বড় যুদ্ধবিমান এবং চীন থেকে হালকা বিমান কিনে থাকে। 
 
তবে এরই মধ্যে এসইউ-৩০ এর সঙ্গে মিগ-৩৫ কেনার শর্ত জুড়ে দেয় মস্কো। বিষয়টিকে পুরোপুরি ইতিবাচকভাবে নেয়নি ঢাকা। এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুর শুরুতে রাশিয়া মিয়ানমারকে সমর্থন করায় অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এছাড়া মিয়ানমারের কাছে রাশিয়া ইয়াক-১৩০ এবং এসইউ-৩০ বিক্রি করতে সম্মত হওয়ায় আঞ্চলিক বিমানশক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে।
 
২০১৫ সালে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত সামরিক ও নিরাপত্তা ভিত্তিক ওয়েবসাইট বিডিমিলিটারি ডট কম (যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ডিফেন্স অ্যানালিস্ট defseca.com  নামে পরিচালিত) দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় বিমান বাহিনীর জন্য ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার প্রস্তাব করে। তাদের পরামর্শ ছিল, এই বিমানগুলো প্রতিবেশী দেশসৃষ্ট কিংবা অন্য যেকোনো অনাহূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সুরক্ষা দেবে।
 
বিষয়টি দেখভাল করছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ফার্নবোরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ার শোতে অংশ নিয়ে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ইউরোফাইটার টাইফুন পর্যবেক্ষণ করেন। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দক্ষ নেতৃত্বের জন্য সুপরিচিত এই বাহিনী প্রধান দেশে ফিরে বিমানটি কেনার জন্য সরকারকে বোঝানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। 
 
ইউরোফাইটার টাইফুন ব্যয়বহুল এবং একটি কৌশলগত অস্ত্র হওয়ায় এটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসংখ্য বিষয় থাকায় সরকারকে এটি বোঝানো সহজ ছিল না। অন্যদিকে, যৌথভাবে ইউরোফাইটার টাইফুনের নির্মাতা যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি এবং  জার্মানি। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই এর সঙ্গে অনেক কূটনৈতিক বিষয় জড়িত। বিমানটি কিনলে দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে।
 
এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরারের অসাধারণ দক্ষতায় ২০১৭ সালে প্রথমবার পশ্চিমা বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমানের জন্য বাংলাদেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২০১৯ সালে তৃতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কৌশলগত সংলাপের সময় যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে ইউরোপ থেক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিরোল যুদ্ধ বিমান পেতে সাহায্য করার জন্য তাদের “প্রস্তুতি” রয়েছে বলে জানায়।
 
পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালিতে সরকারি সফর করেন, তখন দেশটির বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংবাদপত্র ইউরোফাইটার টাইফুন, অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড এডব্লিউ১০১ এবং অ্যালেনিয়া সি-২৭জে স্পার্টান বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। ২০১৩ সালে ইতালীয় বিমান বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলবার্তো রোসো ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য ইতালিতে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন। জেনারেল রোসোও বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
 
২০২০ সালের মার্চ মাসে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লি তাদের রাফাল যুদ্ধ বিমান নিয়ে চলমান এমআরসিএ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সরাসরি প্রস্তাব নিয়ে ঢাকায় এলে নতুন পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নেয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ১৬টি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য সরকারকে অনুরোধ করে। চুক্তিতে সই করতে প্রথম কিস্তির জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬,৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে সরকারকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। 
 
২০২১ সালে ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন বাংলাদেশকে ইউরোফাইটার টাইফুনের সম্ভাব্য গ্রাহক হিসেবে উল্লেখ করে। তহবিলের বরাদ্দ থেকে ধারণা করা যায়, বাংলাদেশ ইউরোফাইটার টাইফুনের সর্বাধুনিক ক্যাপ্টর-ই এইএসএ রাডার সজ্জিত “ট্র্যাঞ্চ-৪” বা “ট্র্যাঞ্চ-৩এ” কিনতে আগ্রহী।  এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেসের সিইও ডার্ক হকের মতে, “নতুন ট্র্যাঞ্চ-৪ ইউরোফাইটার বর্তমানে সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান যা ২০৬০ পর্যন্ত পরিষেবা দিতে সক্ষম।” চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নাম জানার জন্য আমাদেরকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ এয়ার শো (বিএএস) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
দেশকণ্ঠ/অআ

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।