• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৪:৫৩    ঢাকা সময়: ০০:৫৩

ছিনতাইয়ের গল্প সাজিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি

১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ক্লিপটন গ্রুপের পিয়ন গ্রেফতার

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ক্লিপটন গ্রুপের ফিনিশিং বিভাগের পিয়ন মো. আব্দুল রহিম ওরফে রিপনকে (৩১) গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। তার সহযোগী মো. সেলিমকেও (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ক্লিপটন গ্রুপের আত্মসাৎকৃত ১০ লাখ টাকাও। ছিনতাইয়ের গল্প সাজিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি পিয়ন রিপন ও তার সহযোগী সেলিমের।পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আসল সত্য ঘটনা। 
 
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, ক্লিপটন গ্রুপের পিয়ন রিপন দীর্ঘদিনের কাজের বিশ্বস্ততার সুযোগকে কাজে লাগাতে এই টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটিয়েছে। মূলত পিয়নের চাকরির পাশাপাশি রাজীব নামে এক ব্যক্তির সাথে দীর্ঘদিন আগে অংশীদারে গ্লাসের ব্যবসায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই কাল্পনিক ছিনতাইয়ের কাহিনী তৈরি করেছিল রিপন। পুলিশ জানায়, ক্লিপটন গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে পিয়নের চাকরির পাশাপাশি পার্টনারে করতেন গ্লাসের ব্যবসা। সেই ব্যবসায় লোকসানে পড়েন ক্লিপটন গ্রুপের পিয়ন রিপন। তাই রেলওয়ের কর্মচারি বন্ধু সেলিমের সহযোগিতায় ফন্দি আঁটেন নিজ অফিসের টাকা আত্মসাতের। পরিকল্পনানুযায়ী প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ দিনের বিশ্বস্ততার সুযোগকে কাজে লাগান। অফিসের ১০ লাখ টাকার চেকের টাকা তুলে আত্মসাতের পর গল্প সাজান কাল্পনিক ছিনতাইয়ের। সেই গল্প কোন ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধেও নয়; খোদ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে এমন ছিনতাইয়ের গল্প বলতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছেন পুলিশের কাছে। আত্মসাত করা ১০ লাখ টাকাসহ  ক্লিপটন গ্রুপের পিয়ন রিপন ও তার বন্ধু রেল কর্মচারী সেলিম দুজনই ধরা পড়েছেন কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে।
 
পুলিশ আরো জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর একটার দিকে ক্লিপটন গ্রুপের হিসাবরক্ষক মো. সাহেদ, নগদ ১০ লাখ টাকার চেক দিয়ে তা উত্তোলনের জন্য ব্র্যাক ব্যংকে পাঠান পিয়ন রিপনকে। রিপন ব্যাংকে গেলেও আর অফিসমুখী হননি। এসময় অফিসের জিএম ওয়াহিদ ব্র্যাক ব্যাংকের কাজীর দেউরী শাখায় গিয়ে পিয়ন রিপনকে খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিস পাননি। পরে রিপনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারলে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া তদন্তকালে জানতে পারেন পিয়ন আব্দুল রহিম ওরফে রিপন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আত্মগোপনে চলে যান। একপর্যায়ে রিপন নিজেই তার বাসায় গিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে দেখা করে এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মাথায় আঘাত পাওয়ার অভিনয় করেন। তার এই অবস্থা দেখে পরিবারের লোকজন রিপনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চমেক হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ভর্তি করাতে বলা হলে রিপনের পরিবারের লোকজন উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
 
এসআই ইকবাল সংবাদ পেয়ে ন্যাশনাল হাসপাতালে গিয়ে রিপনের সঙ্গে দেখা করেন। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন রিপনের শারীরিক অবস্থা ভালো। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের পর তা জমা দিতে তিনি নুপুর মার্কেটস্থ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে যান। নুপুর মার্কেটের সামনে ডিবি পরিচয়ধারী ২ জন ব্যক্তি তার ওয়ারেন্ট আছে বলে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নেয়।
 
পরবর্তীতে তাকে বিআরটিসি মোড়ে নিয়ে সিএনজির ভেতর তার কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে বলে জানায়। একপর্যায়ে তাকে বায়েজিদ লিংক রোডে নিয়ে গেলে তিনি পানি খেতে চান। পানি খাওয়ার পরে রিপন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপরের ঘটনা তার মনে নেই। পরের দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে অলংকার এলাকার একটি ঝোপ ঝাড়ের ভিতরে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন বুঝতে পারেন তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তার কাছ থেকে ব্যাগ ভর্তি ১০ লাখ টাকা, মোবাইল ও মানিব্যাগ ডিবি পরিচয়ধারী ২ জন ব্যক্তি নিয়ে গেছে। পরে ওই এলাকার একজন বৃদ্ধের সহযোগিতায় একটি সিএনজিতে করে বাসায় ফেরেন। 
 
তার দেয়া এমন তথ্য বিশ্বাস করে ছায়া তদন্ত ও ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। কিন্তু পিয়ন রিপনের কোন তথ্য মিল পায়নি। এরপর তাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ব্যাংক থেকে তোলা নগদ ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করে। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় তার বন্ধু মো. সেলিমের যোগসাজসে এ ঘটনা ঘটার কথা জানায়। তার কাছেই আত্মসাৎ করা ১০ লাখ টাকা, মানিব্যাগ ও মোবাইল ভর্তি একটি ব্যাগ রাখে রিপন। ১৬ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে কলোনি থেকে টাকা, মানি ব্যাগ ও মোবাইল জব্দের পাশাপাশি সহযোগী সেলিমকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
দেশকন্ঠ/আসো
 
 
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।