• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৫:২৯    ঢাকা সময়: ০১:২৯

বাবার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে সভাপতি যখন ছোট ভাই বিপ্লব

আরিফ সোহেল : আমার বাবা, প্রয়াত আরফান উদ্দিন আহমেদের হাত ধরেই বাশিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। তখন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা কোনো সহজ কাজ ছিল না। বড্ড কঠিন সেই কাজ বাবা ১৯৭৩ সালে সম্পন্ন করেছিলেন। ওই সময়ে এই মহান ব্রতে তার সঙ্গে আরো ২ জন ব্যক্তি এগিয়ে এসেছিলেন; এদের একজন আব্দুল হাই তালুকদার ও সিকিম আলী হাওলাদার। বাবার জীবদ্দশায় এই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে কয়েক দফা দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার পর আমার সত্যাশ্রয়ী প্রিয় মা শরিফা বেগমও এই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভাবতে ভালো লাগছে ২০২১ সাল থেকে সেই স্কুলের সভাপতি ছোট ভাই শারফুল আরিফ বিপ্লব।
 
 
মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের একেবারে উত্তর প্রান্তের শেষ গ্রামের নাম বাশিরা। বাশিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কলমা  ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। বিদ্যালয়টি  বালিগাঁও বাজার থেকে ১৩কিলোমিটার পূর্ব দিকে পাকা রাস্তার পাশে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। এক সময়ের টিন ছনের স্কুলটি এখন ইট-সুরকি-বড়-কাঠের নিপুন কাঠামেতে শিক্ষার দ্রুতি ছড়াচ্ছে চারিদিক। প্রতিষ্ঠাকালে বিলের এক প্রান্তে গড়ে ওঠা এই স্কুলটি আজ বেশ দৃষ্টিনন্দন। পাশে স্কুলের দুই ধার দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি এখনও বর্ষায় রূপে অপরূপা হয়ে ওঠে।
 
প্রতিষ্ঠাকালে অনেকেই আমার বাবাকে নিজ নামে স্কুলটি স্থাপনের জন্য চাপাচাপি করেছিলেন। কিন্তু তিনি স্কুলটি নিজ নামে না করে গ্রামের নামে করে সকলের প্রসংশিত হয়েছেন। জন-মানুষের প্রিয়মুখ আরফান উদ্দিন কলমা ইউনিয়নের একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে, দীর্ঘ ৪৮ বছর পর আবারও আমার একমাত্র ছোট ভাই শারফুল আরিফ বিপ্লব এই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। এটা আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের। জানিয়ে রাখা ভালো বিপ্লব অনেক আগে থেকেই এই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 
 
 
আমি নিজেও এই স্কুলে এক বছর পড়াশুনা করেছি। ভর্তি হয়েছিলাম পঞ্চম শ্রেণীতে ১৯৭৮ সালে। তখন হুট করেই সরকার শিক্ষা-ব্যবস্থায় ‘সেন্ট-আপ’ নিয়মের আওতায় পঞ্চম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় চালু করেছিল। আমি পাশের গ্রাম কলমা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। বাশিরা স্কুলের সঙ্গে আমার ছিন্নমূল সম্পর্কের কথা আরো মনে পড়ছে। এই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমি ২টি পুরস্কারও পেয়েছিলাম। একটি লং জাম্প; অন্যটি দৌড়। বাশিরা স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণের মতো আর খুব বেশি মনে নেই। তবে ওই সময়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ স্যারের কথা মানসপটে ভাসছে। পরবর্তীতে ভোটার হতে, নির্বাচনে ভোট দিতে এই স্কুলে আমি গিয়েছিলাম। গিয়েছিলাম ২টি চেয়ারম্যানী নির্বাচনেও। আর যদি স্মৃতিবিভ্রাট না হয়, ২০০৯ সালে একবার গিয়েছিলাম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে। তখন এই স্কুলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ হুমায়ুন দেকান্দার। পারিবারিকভাবে শ্রদ্ধাভাজন এই ব্যক্তির কাছে অশেষ ঋণী। তিনি বাবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন থেকে শুরু আগে-পিছে সবখানেই আমাদের পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। এমন কী বাবার মৃত্যুর পরও তিনি আমাদের কাছে একইভাবে সমাদৃত। আমরাও তার স্নেহাশিষ পেয়ে আসছি। মা শরিফা বেগম জানিয়েছেন ছোট ভাই বিপ্লব এবং বোন ঝিনুকও কিছুদিন এই স্কুলে আসা-যাওয়া করেছে। তখন হাওলাদার বাড়ির খালের ওপরের বাঁশের পুল দিয়ে হাত ধরাধরি করে পার হওয়ার গল্প ওদের শিশুমনের কথা স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে।
 
 
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। ওই দিন শারফুল আরিফ বিপ্লবের সভাপতিত্বে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে দীর্ঘ দিন পর বিদ্যালয় খোলায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। তার পর শুরু করা হয়েছে আনুষ্ঠানিক পাঠদান। যথারীতি স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ম মেনে স্কুলে আসা দুধে ছেলে-মেয়েরা আনন্দ-উৎসবে মাতোয়ারা হয়েছে। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব [ভারপ্রাপ্ত] পালন করছেন হিমাংশু বণিক। তার সহযোগী হিসেবে শিক্ষাসেবায় যুক্ত রয়েছেন অভিজ্ঞ সালমা আখতার, ঝুমুর আখতার, নার্গিস আক্তার ও সুইটি আকাতার।
 
বাবা আরফান উদ্দিন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি যখন ছোট ভাই নটরডেমিয়ান শারফুল আরিফ বিপ্লব; তখন পারিবারিক দায়বদ্ধতা থেকেই এমন একটি লিখা ছাপানো দায়িত্বের মধ্যেই বর্তায়। আমার বিশ্বাস শিক্ষাসেবার মহান ব্রতে বিপ্লবকে এই লেখা আরো অনুপ্রাণিত করবে।  
দেশকন্ঠ/আসো

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।