• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৪:৩৬    ঢাকা সময়: ০০:৩৬

কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ

রুবেল খান, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ২০১৭ সালে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী হাসিনা আক্তারের ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। রায় হওয়ার আগেই জামিনে বের হয়ে পালিয়ে যান তিনি। নামের মিল থাকায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা আক্তারের বদলে একই এলাকার হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
 
বিনা দোষে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দেড় বছর বন্দী ছিলেন হাসিনা বেগম নামের এই নিরাপরাধ নারী। মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)-এর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদের তথ্যানুসন্ধানে এই বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং তিনি হাসিনা বেগমকে জামিনে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। এভাবে অপরাধ না করেও দেড় বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পান হাসিনা বেগম নামের ওই নিরীহ নারী। কিন্তু জামিনে মুক্তি পেলেও ততদিনে তার সংসারসহ সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। শুধু হাসিনা বেগমই নয়, এভাবে আসামীর সঙ্গে নামের মিল থাকায় কিংবা ভুয়া ওয়ারেন্টে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অনেক নিরীহ নিরাপরাধ লোকজনকে কারাভোগ করতে হচ্ছে। 
 
এ রকম একটি আলোচিত মামলা ছিল পাটকল শ্রমিক জাহালামের ঘটনা, যিনি দুনীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুল তদন্ত এবং এক ব্যাংক কর্মকর্তার ভুল সাক্ষ্যের কারণে তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, জাহালাম নিরাপরাধ। পরবর্তীতে আদালতের সব মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মুক্তি পান টাংগাইলের জাহালাম। এভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ভূয়া ওয়ারেন্ট বা নামের মিল থাকা বা নাম বিভ্রাটের কারণে নিরীহ নিরাপরাধ লোকজনের কারাভোগের ঘটনায় চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন বিএইচআরএফ। 
 
এই সংগঠনের চেয়ারপার্সন ও প্রধান নির্বাহী এডভোকেট এলিনা খান, মহাসচিব রাজীব সামদানী, ডাইরেক্টর (অর্গানাইজিং) এডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সান, ডাইরেক্টর (ফিন্যান্স) আহমেদ মেহেদী সামদানী ও পরিচালক সদস্য অংশু আসিফ পিয়াল এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা গভীর উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি যে, শুধুমাত্র নামের মিল ও নাম বিভ্রাটের কারণে কিছু নিরীহ, নিরাপরাধ নারী পুরুষকে কারাভোগ ও চরম হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরেও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে না এবং ক্ষতিগ্রস্থদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে না । অথচ নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় দায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, দেশে বিনা দোষে বছরের পর বছর কারাদণ্ড ভোগ করার বহু নজির রয়েছে। যা বন্ধ হওয়া দরকার। ভুয়া ওয়ারেন্টে নিরাপরাধ ব্যক্তির হাজতবাসের ঘটনাও ইতোমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে বিবৃতিদাতারা আরো বলেন, নিজের নাম ও স্বামীর নাম মিল থাকায় ঢাকার পল্লবী থানার মিরপুর ১১ নং বাউনিয়া বাঁধ এলাকার রাহিমা বেগম নামক এক গরীব মহিলা মাদক মামলায় একাধিকবার জেল খাটেন। যার কারণে তাকে এলাকায় মানহানীরও শিকার হতে হয়। 
 
বিবৃতিদাতারা উল্লেখ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে বিছানায় বসে খাবার খাচ্ছিলেন হালুয়াঘাটের মনিকুড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়া। এ সময় হঠাৎ হালুয়াঘাট থানা পুলিশ ঘরে ঢুকে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্ট আছে বলে হাতকড়া পরিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরদিন আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় কারাগারে। অস্ত্র মামলায় এক বছর নয় মাস জেল খাটা পলাতক এক আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় এই পরিণতির শিকার হতে হয় তাকে। তিন মাস কারাভোগের পর মুক্তি পায় প্রতিবন্ধী রাজিব মিয়া। বিবৃতিদাতারা আরো জানান, গত ১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ আব্দুর রাশিদের বাড়িতে হাজির হন মনোহরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক। ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় চার দিন কারাগারে থেকেছেন আব্দুর রাশিদ নামে ৬৫ বছর বয়সী এক কৃষক। পাঁচ সন্তানের জনক ওই কৃষক নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
 
এছাড়াও ২০০০ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার লালদীঘির পাড় এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়। ডাকাতি মামলার আসামির সঙ্গে নামের মিল। বাবার নামও একই। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা ভিন্ন। তবে নামের মিল থাকার খেসারত দিতে হয় কুমিল্লার লেপ-তোশকের দোকানি মো. ইউনুছকে (৫৫)। পুলিশের ভুলে বিনা দোষে ৫৮ দিনকারাভোগ করার পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান তিনি।  বিবৃতিদাতারা চট্টগ্রামসহ সারাদেশে এ সকল মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্থদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 
দেশকণ্ঠ/এমআরকে

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।