• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৩:১৭    ঢাকা সময়: ২৩:১৭

পড়ি বঙ্গবন্ধুর বই সোনার মানুষ হই

রহমান মাস্টার স্মৃতি পাঠাগারের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

তমাল আহমেদ শুভ : সারাদিন বিদ্যুৎ থাকবে না- ছিল এমন ঘোষণা। তারপরও বইপ্রেমী শিক্ষার্থীদের আসা বন্ধ থাকেনি। ছুটে এসেছেন আয়োজন মঞ্চে। কনকসারে ঐতিহাসিক দীঘির কুল ঘেষে দাঁড়ানো খোলামঞ্চে এসেছিলেন আয়োজনের অতিথিরাও। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলেছে আয়োজন। অনুষ্ঠান চলাকালেই অবশ্য নাগরিক জীবনের অবিকল্প অনুসঙ্গ বিদ্যুৎ না এসে পারেনি।

রহমান মাস্টার স্মৃতি পাঠাগারের মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে শত গ্রন্থাগারে 'পড়ি বঙ্গবন্ধুর বই, সোনার মানুষ হই' শীর্ষক ৩ মাসব্যাপী ধারাবাহিক পাঠ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ৯ অক্টোবর। লৌহজং উপজেলার কনকসারে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের আবদুল জব্বার খান মুক্তমঞ্চে রহমান মাস্টার স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি কহিনুর বেগমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার দের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আলম শহীদ, সাংবাদিক আরিফ সোহেল, কনকসার ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর আবেদন চিরন্তন। এই বই পড়ে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে গভীরভাবে জানা যায়। ব্যক্তিজীবনে জাতির পিতা ছিলেন নির্মোহ, দোষ-ত্রুটিমুক্ত একজন মানবিক মানুষ। তিনি আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। এক কথায় তিনি একজন ছবির মতো মানুষ।’ তিনি অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. নূহ-উল-আলম লেনিনের এমন মহৎ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরো বলেন, ‘আমি নিজেও একজন বই পাঠক। সময় পেলে আমি এখানে এসে বই পড়তে চাই।’

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আলম শহীদ বলেন, ‘মোবাইল সোশ্যাল মিডিয়া কাগজে মুদ্রিত বইয়ের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক হতে পারে। বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও সহানুভূতি-সহমর্মিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবিক মানুষ হওয়া যায়। জাতির পিতার এই বই পড়ে বিশুদ্ধ হওয়া যায়।’ তিনি যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন- তাদের মঙ্গল কামনা করে বলেছেন, ‘এই অসাধারণ বই আত্মস্ত করতে হবে। পড়ার জন্য নেশা সৃষ্টি করতে হবে। তবেই ভালো কিছু লিখা সম্ভব হবে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মনে রাখতে হবে আমরা আগে- পড়ব, পড়ব এবং পড়ব। কারণ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না; আমরা না পড়েই বই নিয়ে অহংকার করি।’

বিশেষ অতিথি জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়; বাংলাদেশকে জানতে হলেও এই অসাধারণ বই পড়া উচিত। এই বই আমাদের আরো দেশপ্রেমীক হতে সাহায্য করবে।’ সাংবাদিক আরিফ সোহেল বলেন, ‘শিক্ষানুরাগী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যখনই সময় পেতেন, তখনই বই পড়তেন। এমনকি কারাগারে অন্তরীণের দিনগুলোয় তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল বই। কাকতালীয়ভাবে এই বর্ষ হচ্ছে ১০০, ৭৫ এবং ৫০তমের স্মারক বর্ষ। ঠিক জাতির জন্য মাইলফলকময় বছরে আসুন আমরা জাতির পিতার বই পড়ে নিজকে সমৃদ্ধ করে স্বদেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত হই।’

রহমান মাস্টার স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি গুণী শিক্ষক কহিনুর বেগম বলেছেন, ‘আমরাই অনলাইনে ক্লাস করার জন্য প্রয়োজনে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মোবাইল তুলে দিয়েছিলাম। এখন সময় এসেছে আবার মোবাইল তুলে নেওয়ার। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের পরিস্থিত স্বাভাবিক হয়ে উঠছে; আমরা আমাদের আয়োজন আগের মতো করার সিদ্ধান্ত নিতে পারব। বঙ্গবন্ধু এই বই পড়ার পাশাপাশি তার দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরণ করতে হবে। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে ‘

উল্লেখ্য, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হয়ে গ্রন্থকেন্দ্রের ধারাবাহিক পাঠ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ১০০টি পাঠাগারের প্রত্যেকটিকে নির্ধারিত অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সারা দেশের ১০০টি বেসরকারি গ্রন্থাগারের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী/পাঠক বঙ্গবন্ধুর রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি পাঠ করে লিখিতভাবে পাঠ-উত্তর প্রতিক্রিয়া/অভিমত ব্যক্ত করার মাধ্যমে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ কররছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা বঙ্গবন্ধু রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি ১০ জন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতাসহ সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কর্মসূচি সম্পর্কে সূচনা বক্তব্য রেখেছেন পাঠাগারের শিশুকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম শ্যামল। বক্তব্যের বিরতিতে কবিতা আবৃতি ও গান পরিবেশন করেছেন সরিৎ রহমান স্তব, মুশফিকা আক্তার প্রমুখ। অনুষ্ঠানমঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন বর্ষিয়ান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম দিদার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার মহিউদ্দিন বাবুল মুন্সী, সবজল শিকদার, লৌহজং প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিল্লুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া, অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন - লৌহজং কেন্দ্রের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জনাব মো. রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মনিকা পাল, দপ্তর সম্পাদক মো. লিয়াকত, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শিমুল কুমার দে, সদস্য তারক নাথ সাহা, সদস্য জাকারিয়া মোড়ল, মিঠুন দাস, সদস্য মনজুরুল হাসান শাহীন, লাইব্রেরিয়ান রতন চন্দ্র বর্মন এবং রহমান মাস্টার স্মৃতি পাঠাগারের পাঠকবৃন্দ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল মুনিরা মনোয়ার দ্যুতি ও মাহামুদুল ইসলাম শ্যামল।

দেশকণ্ঠ/আসো

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।