• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ২০:৩৯    ঢাকা সময়: ০৬:৩৯

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সবকিছুই আরও ব্যয়বহুল হবে

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন : দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এর কারণে আমদানি-রপ্তানি, পণ্য উৎপাদন, বিদ্যুৎ, পরিবহন, নিত্যপণ্যের দাম এমনকি সেবা খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
 
তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। হঠাৎ সব কিছুর এমন পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানিকারকরা বলেছেন, লাভের মার্জিন দ্রুত হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয়, আমদানি ব্যয় এবং পরিবহন ব্যয়কে উদ্বেগজনক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। রপ্তানি খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাতে সেবার দামও বাড়ছে।
 
কৃষি খাত:
জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম দেশের কৃষি খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ, এই খাতের একটি বড় অংশ ডিজেল চালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সার, বীজসহ অন্যান্য কৃষি পণ্য বেশিরভাগই ডিজেল চালিত যানবাহনের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা আরও চাপের মধ্যে থাকবেন। তারা প্রায়ই বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শিকার হয়। স্থানীয় পরিবহনের খরচও ১০% বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদের দেশে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়বে। কৃষিতে সেচের খরচও বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”
 
ব্যয় বহন করতে হবে রপ্তানিকারকদের:
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছে। ডিপো মালিকরা চার্জ বাড়িয়েছে। এমনকি সবজি বিক্রেতারাও পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। রপ্তানিকারকরা অতিরিক্ত এ ব্যয় বহন করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না। পোশাক রপ্তানিকারকরা বলেছেন, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে শিপিং বা উৎপাদন করা যে পণ্যগুলোর অর্ডার তারা নিয়েছিলেন সেগুলোতে বর্ধিত উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
 
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ভাইস-প্রেসিডেন্ট শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, “পোশাকের উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ৫% থেকে ১৫% বা তার বেশি বাড়বে। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ১০% বৃদ্ধি পোশাক খাতেও প্রভাব ফেলবে। শ্রমিকরাও তাদের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে যে কোনো সময় বর্ধিত মজুরি দাবি করতে পারে।”
 
তিনি আরও বলেন, “এখন অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, যত অর্ডার, তত ঋণ। অতিরিক্ত এ ব্যয়ের কারণে ব্যবসায় লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, কিছু ক্ষেত্রে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে।” এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ) ২৩% চার্জ বাড়িয়েছে বর্ধিত শুল্ক প্রসঙ্গে বিআইসিডিএ’র সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, “ডিজেলের দাম বাড়ায় ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এমন সব সেবায় শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার।”
 
ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েলের দামও বেড়েছে:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) স্থানীয় বাজারে ফার্নেস-অয়েলের দাম ১৬.৯৮% বাড়িয়ে ৫ নভেম্বর থেকে প্রতি লিটার ৬২ টাকা করেছে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জেট ফুয়েলের দাম ৭.৭৯% বৃদ্ধি করে প্রতি লিটার ৭৭ টাকা করেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ৫.৭৯% বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৬৫.৭ টাকা করা হয়েছে। যা ৫ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
 
জেটের জ্বালানির দাম বৃদ্ধি কারণে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ভাড়াও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নভোএয়ারের হেড অব মার্কেটিং মেসবাহ উল ইসলাম বলেন, “মূল্য বৃদ্ধির পর আমরা এখনও বিমান ভাড়া বাড়াইনি। কিন্তু ব্যবসা চালাতে এবং টিকে থাকার জন্য আমাদের জেট ফুয়েলের বর্ধিত দামের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়া বাড়াতে হবে।”
 
বিদ্যুতের দাম বাড়ার আশঙ্কা:
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ-কেন্দ্রগুলোর সিংহভাগ ফার্নেস অয়েল ব্যবহারকারী। এ কারণে বিদ্যুতের দামও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিদ্যুতের দাম বাড়লে দেশের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাত আরেকটি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩.৫০ মিলিয়ন টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করে। যার মধ্যে ৩.২০ মিলিয়ন টন বেসরকারি খাত তাদের বিদ্যুৎ-কেন্দ্র পরিচালনার জন্য আমদানি করে থাকে। বর্তমানে, প্রায় ৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ফার্নেস অয়েল-চালিত পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। যার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্ল্যান্ট বেসরকারি খাতের মালিকানাধীন এবং বাকি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট প্ল্যান্ট রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন।
 
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিত্যপণ্যের বাজারকে উত্তপ্ত করবে:
ট্রাক মালিকরা তাদের পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর কারণে তা নিত্যপণ্যের বাজারকে উত্তপ্ত করবে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় পণ্য পরিবহন মালিকরা ইতোমধ্যে পরিবহন ব্যয় ১০% বাড়িয়ে দিয়েছেন। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতিদিনই নতুন করে বাড়ছে সবজির দাম। বর্তমানে শীতকালীন সবজির পিক মৌসুম হলেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে ভোজ্য-তেলের দাম বেড়েছে।
 
ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যানের মালিকরা ৩০% ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করেছে:
বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্যাঙ্ক লরি এবং ওয়ার্কার্স কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা ডিজেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার জন্য পরিবহন ভাড়া কমপক্ষে ৩০% বৃদ্ধির দাবি করেছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও রয়েছে তাদের।
 
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। যার জন্য সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হবে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “দাম না বাড়িয়ে সরকারের ভর্তুকি দেওয়া উচিত ছিল। এতে করে ভোক্তারা ক্রমবর্ধমান দামের চাপ থেকে মুক্তি পেতেন।”
দেশকণ্ঠ/অআ

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।