• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ১৯:৫৪    ঢাকা সময়: ০৫:৫৪

এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে

সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেওয়ার প্রত্যয়

অনিন্দ্য আরিফ দিব্য : এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে— এই স্লোগানে মুখরিত জম্পেশ আয়োজন। সূচনা সকাল ৭টায়। সমাপনী; যখন রাতের ১১টা। দিনভর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তমঞ্চে নাচে- গানে পালিত হয়েছে নবান্ন উৎসব ১৪২৮। সাংস্কৃতিক আঙিনায় হামলাকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রত্যয় নিয়ে এবার উদযাপিত হয়েছে নবান্ন উৎসব। যেখানে শামিল হয়েছেন হাজারো শান্তিপ্রিয় নগরবাসী।
 
১৬ নভেম্বর, অগ্রহায়ণের প্রথম দিন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নবান্ন উৎসবের উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। প্রতি বছরের মতো এ উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ। ১৯৯৮ সাল থেকে ঢাকায় শুরু হয় জাতীয় নবান্ন উৎসব। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে দেশের সংস্কৃতি চর্চায় যে ভাটা পড়েছিল, করোনা-উত্তরকালে আমরা চেষ্টা করছি সংস্কৃতি চর্চা বেগবান করার মাধ্যমে তা পুষিয়ে নিতে। সেজন্য আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব উদযাপন করছি।’
 
 
সকাল সাড়ে ৭টায় গাজী আব্দুল হাকিমের বাঁশির সুরে শুরু হয় উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তৃতা করেন জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক নাঈম হাসান সুজা। দেশের বাইরে থাকায় জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহ-সভাপতি মানজার চৌধুরী সুইট। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের সহ-সভাপতি সঙ্গীতা ইমাম।
 
লায়লা হাসান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উদ্যত থাবা ক্ষতবিক্ষত করছে আমাদের সৌহার্দ্য, আমাদের ভাতৃত্ব, আমাদের এতকালের এক হয়ে থাকার বন্ধন। ’ অনুষ্ঠান মঞ্চে ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ। অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাসের মধ্যে প্রয়াত সংস্কৃতিজনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
 
দুই পর্বের সাংস্কৃতির আয়োজনটি দুপুরে বিরতি শেষে বিকাল সাড়ে চারটায় শুরু হয়। এ আয়োজনকে ঘিরে দিনভর পিঠার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। উৎসবে সম্মেলক গান, নৃত্য ও কবিতায় অংশ নিয়েছে বুলবুল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস (বাফা), স্বরবৃত্ত, কিশলয় কচিকাঁচার মেলা, দনিয়া সবুজ কুড়ি কচিকাঁচার মেলা, স্বপ্নবীণা শিল্পকলা বিদ্যালয়, মন্দিরা সাংস্কৃতিক পাঠশালা, সুর বিহার, স্বপ্নবিকাশ কলা কেন্দ্র, মৈত্রী শিশু দল, রঙ্গপীঠ শিশু দল, বহ্নিশিখা, ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, সমস্বর, উজান, সুর সাগর ললিতকলা একাডেমি, পঞ্চায়েত। এ ছাড়া দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন বুলবুল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস (বাফা), জি এ মান্নান দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠন, কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়, নান্দনিক নৃত্য সংগঠন, নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র, স্পন্দন, নৃত্যজন, পুষ্পাঞ্জলী, নূপুরের ছন্দ।
 
 
দুই পর্বে একক এবং দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন— ফাতেমা তুজ জোহরা, শাহীন সামাদ, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, মহাদেব ঘোষ, মোস্তফা কামাল, মাহজাবিন শাওলী, আবু বকর সিদ্দিক, অনিমা রায়, এস এম মেজবা উদ্দিন, সুরাইয়া পারভীন, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, ফেরদৌসী কাকলি, তামান্না নিগার তুলি, সঞ্জয় কবিরাজ, মনিরা ইসলাম পাপপু, ত্রিবেনী পান্না, মৌমিতা বড়ুয়া, শ্রাবণী গুহ রায়, নবনীতা জায়ীদ চৌধুরী, সোহাগ চন্দ্র শিমুল, মায়শা সুলতানা উর্বী, নাহিয়ান দুরদানা সূচি, রকিবা খান লুবা, তাহমিনা আক্তার মুক্তি, আসিফ ইকবাল সৌরভ, সোনিয়া আক্তার, শান্তা সরকার, রাবেয়া আক্তার, মোহাম্মদ মারুফ হোসেন, মানসী অনন্যা, দেবু প্রসাদ দাঁ, অনিমেষ বাউল, মেহেদী ফরিদসহ থেকে শুরু করে অনেকেই।
 
এককভাবে বুলবুল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস (বাফা) একঝাক শিল্পী নবান্নের উৎসব আয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন পর্বে অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সকালে বাফার নাচিয়েরা অনিক বসুর পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেছে। আর শীতের চাদর মোড়ানো রাতে বাফার অধ্যক্ষ খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম এর নেতৃত্বে নন্দিতা আরিফ ব্রতি, ইতি গোমস্তা, হৈমন্তীরানী হৈম, অনামিকা প্রভা দাস, সংযুক্তা দেবনাথ, সুদীপ্ত শেখার দীপ, মনিষা দেবনাথ, ফাতিহা খান কানিজ, সাফরীন খান শ্রাবনী ‘হায় হেমন্ত লক্ষ্মী তোমার নয়ন কেনো ঢাকা’ গানটি পরিবেশনা করেছেন। আর সুরেলা কণ্ঠে অনুষ্ঠানের অভ্যাগতদের মন ভরিয়েছেন খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম। তিনি গেয়েছেন—  ফিরে চল মাটির টানে...।’
 
অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন আহকাম উল্লাহ, বুলবুল মহলানবীশ, রূপা চক্রবর্তী, শাহাদাৎ হোসেন নিপু, রফিকুল ইসলাম, মাসকুর এ সাত্তার কল্লোল, বেলায়েত হোসেন, নায়লা তারান্নুম কাকলি, ফয়জুল আলম পাপ্পু, মাসুদুজ্জামান, আহসান উল্লাহ তমাল ও আজিজুল বাশার মাসুম। 
দেশকণ্ঠ/আসো
 

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।