• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  নিউইয়র্ক সময়: ২০:৩৩    ঢাকা সময়: ০৬:৩৩

বগুড়ায় নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মাছের মেলা

  • মতামত       
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২১       
  • ১১

দেশকণ্ঠ প্রতিবেদন : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উৎসব উপলক্ষে অগ্রহায়নের প্রথমদিন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মেলায় হরেক প্রজাতির বড় বড় মাছ বিক্রি হয়। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে, জামাই, নাতি, নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনে ভরে গেছে। মেলার মাছ দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে।
 
দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফেঁপিড়া, সাবলা, গয়াবান্ধা, খানপুর, সরঞ্জাবাড়ী, কইল, আমষট্ট, মাজিন্দা, গোবিন্দপুর, ও উপজেলা সদরসহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নবান্ন উৎসব পালন করেন। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় আতপ চাল বেটে পানি দিয়ে গুলিয়ে আল্পনা আঁকেন, উঠান ও ধানের গোলায় গোবর গুলিয়ে লেপ দেন নারীরা।
 
সকালে ছোট ছোট ছেলের দল স্নান (গোসল) করে নতুন ধুতি পড়ে বয়স্ক লোকদের সঙ্গে জমিতে যায়। সেখান থেকে তিন গোছা ধান কেটে তাতে সিঁদুর, কাজলের ফোটা দিয়ে কলাপাতায় ঢেকে মাথায় করে বাড়ির আঙিনায় নিয়ে আসে। এ সময় গৃহবধুরা শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেন। তারপর কাটা ধানগাছের গুচ্ছ ঘরের ছাউনির কোণায় আটকিয়ে রাখা হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানকে এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আগকাটা (প্রথম ধান কাটা) বলে থাকেন। এটি হিন্দু ধর্মালম্বীদের একটি ঐতিহ্য।
 
উপজেলার সরঞ্জাবাড়ী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক পরিতোষ মন্ডল জানান, আবহমান কাল থেকেই সনাতন ধর্মালম্বীরা এ নবান্ন উৎসবটি ধুমধামের সাথে পালন করে আসছেন। এ নবান্ন উৎসব উপলক্ষে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বড় বড় মাছের মেলা বসে। সাধ্যমত লোকজন রকমারী সবজিসহ বড় বড় মাছ কিনে হরেক রকম সুস্বাদু রান্নার পাশাপাশি নতুন ধানের চালের পায়েস, পিঠা, পুলি তৈরি করে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয় স্বজনদের আপ্যায়ন করেন।
 
আজ দুপচাঁচিয়া মাছ বাজারে ২০কেজি ওজনের কাতলা তোলা হয়েছিল। বিক্রেতা প্রতি কেজি ১১শ’ টাকা দাবি করলেও পরে ৮০০ টাকা কেজি দরে কেটে বিক্রি করেন। অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ওমরপুর, নাগরকান্দি, হাটকড়ই, ধুন্দার ও নন্দীগ্রামের রণবাঘা মাছের মেলা বসে। বাজারে সিলভার কার্প, কাতল, চিতল, রুই, ব্রিগেড, বাঘাইর, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ তোলা হয়। এক কেজি থেকে ২৫ কেজি ওজনের মাছ থরে থরে সাজিয়ে রেখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়। 
 
মেলায় শতাধিক মাছের দোকান বসে। প্রত্যেকে ১০ থেকে ২০ মণ মাছ বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। গুন্দইল গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা জানান, নবান্ন উৎসবকে ঘিরে তারা মূলত বড় বড় মাছ বিক্রি করে থাকেন। ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনা করেই তারা দাম কম রাখেন।
দেশকণ্ঠ/অআ

  মন্তব্য করুন
AD by Deshkontho
AD by Deshkontho
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা: ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।