দেশকন্ঠ অনলাইন : ঢাক-ঢোলের শব্দ আর পূজার ঘণ্টাধ্বনির মধ্যদিয়ে কয়েকদিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে জেলার ঘরে ঘরে চলছে পূজা আর উৎসবের আমেজ। আর এ উৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন পরিবেশে নিশ্চিত করতে নানা ধরনের ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে দুর্গোৎসবকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে চলছে প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, রং তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিমা তৈরির কারিগর ও আয়োজকরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এ বছর মোট ১৬৪টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫১টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৩২টি, নাচোল উপজেলায় ১৭টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৩টি মণ্ডপ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার শিবগঞ্জে ২টি ও নাচোলে ১টিসহ ৩টি পূজা মণ্ডপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা শহরের শিবতলাস্থ চরজোতপ্রতাপ দূর্গা মাতা ঠাকুরানী মন্দির, শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ কেন্দ্রীয় রাধাগোবিন্দ দুর্গা মন্দির, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পুরাতন বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নাচোল উপজেলার নাচোল বাজার দুর্গাপূজা মণ্ডপ ও ভোলাহাট উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপসহ জেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। অধিকাংশ প্রতিমার কাঠামো ও মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ ও আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে আয়োজকদের মধ্যে চলছে নানা প্রস্তুতি।
শিবগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরিতে অভিজ্ঞ প্রতিমাশিল্পী আষীশ সিনহা অঙ্গন বলেন, প্রতিমার কাঠামো ও মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন শেষ মুহূর্তে রং-তুলির কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত হবে বলে জানান তিনি। নাচোল উপজেলার নাচোল বাজার দুর্গাপূজা মণ্ডপে কর্মরত প্রতিমাশিল্পী শ্রী রতন পাল জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম একটু বেশি। তাই প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জায় ব্যয়ও একটু বেশি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ জানান, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিমা নির্মাণ, রং ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব মণ্ডপের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকেও সিসি ক্যামেরাসহ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, জেলাতে ১৬৪টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার তিনটি মণ্ডপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ নানা ব্যবস্থার কথা জানা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতি।
এ উপলক্ষে গত বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী’র সভাপতিত্বে পূজা উদযাপন কমিটি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উল্লেখ্য, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
দেশকন্ঠ/এআর