• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ০৩:১৬    ঢাকা সময়: ১৩:১৬

মঙ্গল গ্রহের লাল রঙের রহস্যে নতুন ব্যাখ্যা দিল বিজ্ঞানীরা

দেশকন্ঠ  অনলাইন : লালচে আভায় ঢাকা মঙ্গল গ্রহ বহুদিন ধরেই মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। খালি চোখেই দেখা যায় এর লাল রঙ। এত দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, মঙ্গলের এই রঙ এসেছে হেমাটাইট নামের এক ধরনের শুকনো লৌহ অক্সাইড খনিজ থেকে। কিন্তু নতুন এক গবেষণা সেই পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মঙ্গলের লাল রঙের মূল কারণ হতে পারে ফেরিহাইড্রাইট নামের আরেকটি খনিজ। এটি একটি পানিযুক্ত লৌহ যৌগ (পানি ও লোহার সংমিশ্রণে তৈরি খনিজ)। এই খনিজ মঙ্গলের ধুলিকণায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে এবং মাটির নিচের পাথুরে স্তরেও থাকতে পারে।

গবেষণায় নাসার মার্স রিকনিসেন্স অরবিটার, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মার্স এক্সপ্রেস ও এক্সোমার্স মিশন এবং নাসার বিভিন্ন মার্স রোভারের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্য থেকে দেখা যায়, ফেরিহাইড্রাইটের উপস্থিতি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে শুরু হওয়া মঙ্গলের আমাজোনিয়ান যুগে (মঙ্গলের দীর্ঘ এক সময়কাল) খুব কম পানি থাকা অবস্থায় পাথরের ক্ষয় ও জং ধরার প্রক্রিয়ায় হেমাটাইট তৈরি হয়। সেই হেমাটাইটই মঙ্গলকে লাল করেছে। পৃথিবীতে মরিচার লাল রঙও একইভাবে লৌহ যৌগ থেকে আসে।

তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে তৈরি কৃত্রিম মঙ্গল মাটি—যেখানে ব্যাসল্ট পাথরের সঙ্গে ফেরিহাইড্রাইট মেশানো হয়েছিল—তা মঙ্গলের বাস্তব তথ্যের সঙ্গে বেশি মিল দেখিয়েছে। হেমাটাইটের চেয়ে এই মিল অনেক স্পষ্ট।

ফেরিহাইড্রাইট তৈরি হতে অক্সিজেন ও পানি দুটিই প্রয়োজন। আজকের মঙ্গল গ্রহ শীতল ও শুষ্ক হলেও প্রাচীন মঙ্গলে পানি ও অক্সিজেন থাকার প্রমাণ আছে। পৃথিবীতে এই খনিজ দ্রুত অন্য লৌহ অক্সাইডে রূপ নেয়। কিন্তু মঙ্গলে একবার তৈরি হলে এটি দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই গবেষণা মঙ্গলের অতীত পরিবেশ ও সেখানে কখনো পানি ছিল কি না—সে বিষয়ে নতুন ধারণা দিচ্ছে।
দেশকন্ঠ/এআর

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।