• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৩:০৭    ঢাকা সময়: ২৩:০৭

দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রেন টিউমার হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

দেশকন্ঠ  অনলাইন : দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করা কিংবা বাড়ির কাছে মোবাইল টাওয়ার থাকলে তা থেকে ব্রেন টিউমার হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য এই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলছে? এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় চিকিৎসক ডা. সানি জৈন।
 
ডা. সানি জৈনের মতে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাস করা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে ব্রেন টিউমার হয়। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ও টাওয়ারের মধ্যে যোগাযোগ হয় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের মাধ্যমে। এটি এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন। তবে সব ধরনের রেডিয়েশন শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়।
 
রেডিয়েশনকে সহজভাবে বুঝতে হলে এর শক্তির মাত্রা ও শরীরে প্রভাবের ধরন দেখতে হয়। আয়োনাইজিং রেডিয়েশন যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মির শক্তি অনেক বেশি। এগুলো কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ডিএনএতে পরিবর্তন বা মিউটেশন হলে তা কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, মোবাইল ফোন ও টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন হলো নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। এর শক্তি আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় অনেক কম। ডা. জৈনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তির ডিএনএ ভেঙে দেয়ার মতো ক্ষমতা নেই।
 
বর্তমান গবেষণার ভিত্তিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও ব্রেন টিউমারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বড় আকারের গবেষণাগুলোতেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের একটি নিশ্চিত কারণগত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন গবেষণায় এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারকে ব্রেন টিউমারের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা হয়নি। তবে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তাই বিজ্ঞানীরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন।
 
শুধু বাড়ির কাছে মোবাইল টাওয়ার আছে বলেই ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কোনও প্রমাণ নেই। অনেক সময় মানুষ মনে করেন, টাওয়ার যত কাছে, রেডিয়েশন তত বেশি এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও তত বেশি। কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। টাওয়ারের অবস্থান, অ্যান্টেনার দিক, দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় মিলিয়ে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এক্সপোজার নির্ধারিত হয়।সবশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী মোবাইল টাওয়ারের কাছে বসবাস করা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করাকে ব্রেন টিউমারের নিশ্চিত কারণ বলা যায় না। তাই এ নিয়ে ভাবনার কি কিছু নেই।  
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস  
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।