দেশকন্ঠ অনলাইন : তাইওয়ানে করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউয়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। দেশটিতে গত সাত দিনে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে অন্তত ৭২ জন মারাত্মক শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি কোভিডের ঢেউয়ে এটিই এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। ১১ আগস্ট স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ফোকাস তাইওয়ান।
তাইওয়ানের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) এপিডেমিক ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের উপ-পরিচালক লি চিয়া-লিন জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত তাইওয়ানে করোনাভাইরাস সংক্রমণে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক জটিলতায় পড়েছেন ৩৩৭ জন। এর মধ্যে মোট ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে আউটপেশেন্ট ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৪ হাজার ৬৪৫ জন কোভিড-১৯ রোগী, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
তবে সিডিসি জানিয়েছে, সংক্রমণ বাড়লেও পরিস্থিতি তাদের প্রাথমিক ধারণার চেয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সপ্তাহে সর্বোচ্চ রোগীর পূর্বাভাস সংখ্যা ৫১ হাজার থেকে কমিয়ে ২৭ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংস্থাটির অনুমান, চলতি আগস্টের মধ্য থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে এই সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
সংক্রমণের এই তালিকায় বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে নথিভুক্ত গুরুতর রোগীদের প্রায় ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। এছাড়া এদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ ব্যক্তি আগে থেকেই কোনো না কোনো জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছিলেন এবং প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীই কোভিড-১৯ রোগের সর্বশেষ সিজনাল ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি।
সিডিসি আরো জানিয়েছে, তাদের মজুদ তহবিলে এখনো প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টিকার ডোজ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ডোজ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে, যা দ্রুত স্থানীয় সরকারগুলোর কাছে বিতরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে আনাদোলুর এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা নতুন করে বাড়ছে। পাশাপাশি চীন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানেও করোনা সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।
দেশকন্ঠ/এআর