দেশকণ্ঠ অনলাইন : প্রাণবন্ত আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ খান। বারডেম হাসপাতালে সিম্পোজিয়াম কক্ষে বুধবার ১৫ এপ্রিল এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির জাতীয় পরিষদের সদস্য ও কুষ্টিয়া মজিবুর রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান লালটু।
মত-বিনিময় অনুষ্ঠানে ডায়াবেটিস থেকে সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে পরামর্শমূলক আলোচনার প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেছেন, ‘সব পেশাতেই নীতি থাকাটা খুব জরুরি। চিকিৎসাপেশা বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। এটি ব্যবসা নয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে যা প্রায় ২ কোটি ২ লাখ হবে। এই প্রসিদ্ধ চিকিৎসক মনে করেন, প্রায় বেশিরভাগই জানে না তাদের ডায়াবেটিস আছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীর চর্চার মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব। নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য দেশের মানুষকে ডায়াবেটিসের বিষয়ে সচেতন হতে হবে ।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি মতিউর রহমান লালটু বলেন, ‘বাঙালি হিসেবে আমরা সৌভাগ্যবান যে আমাদের একজন প্রফেসর একে আজাদ খান আছেন। হাজার হাজার মানুষের মতো আমিও আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি, কামনা করি আমরা যেন আরও অনেক বছর আপনার সেবা পাই। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য আমাদের শুভকামনা থাকলো। মহান আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবন দান করুন।’
দেশের অন্যতম ক্রীড়া সাংবাদিক রানা হাসান তার বক্তব্যে বলেন, একে আজাদ খান স্যারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘নিজেকে দারুণ সৌভাগ্যবান মনে হলো, ভয়ও লাগছিলো। ভয় নিয়ে শুধু বললাম, আপনার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলা কঠিন। যেহেতু আমি বারডেমের নিয়মিত রোগী। তাই সংস্থাটির কাজ, কাজের ধরন, ব্যপ্তি অনেক কিছুই জানি। আজ জানলাম আপনার এবং আপনার পরিবারের কত পরিশ্রম জড়িয়ে আছে বারডেমের সাথে।’
ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এবং একই সঙ্গে অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে বিশিষ্ট নাম অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। দুই দশক ধরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ডায়াবেটিস সেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য, মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মিডিয়ার প্রায় ১৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা বলেন, অধ্যাপক এ কে আজাদ খান স্যারের দীর্ঘ ১ ঘণ্টার পরামর্শমূলক বক্তব্য আমাদের আগামী দিনের পাথেয় হয়ে থাকবে।