• মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৬:০১    ঢাকা সময়: ০২:০১

মামলা তদন্তাধীন তবু বেবিচকের ২ কর্মকর্তাকে দুদকের ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’

দেশকন্ঠ   অনলাইন : দুর্নীতির মামলা তদন্তাধীন থাকার পরও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই কর্মকর্তাকে ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই। অথচ দুদকের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা এখনো তদন্তাধীন।
 
দুদকের ওই চিঠির ভিত্তিতে দুই কর্মকর্তার একজন পদোন্নতিও পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দুদকের ভেতরেই। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুলক্রমে নাকি সচেতনভাবে এমনটি করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেবিচকের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই- এমন তথ্য উল্লেখ করে চলতি বছরের ১১ মার্চ দুদক থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। দুদক পরিচালক মোহাম্মাদ নাজমুল হাসান ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
 
চিঠিটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের সিএ-১ শাখার উপসচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, দুদক চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, কমিশনার (তদন্ত ও অনুসন্ধান)-এর একান্ত সচিব এবং দুদক সচিবের একান্ত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়।
 
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, দুর্নীতির মামলা থাকায় ওই দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে ছিল। পরে দুদক থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই- এমন প্রত্যয়ন নেওয়া হয়। এরপর মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান।তবে দুদকের নথি বলছে, আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা এখনো তদন্তাধীন।
 
আমিনুল হাসিবের বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রানওয়ে ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল হাসিবসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের ২৭ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর বাদী হয়ে কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
 
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রচলিত ক্রয়প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছেন। প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
 
এ ছাড়া প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া এবং বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মামলায়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
 
মওদুদের বিরুদ্ধেও মামলা
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক।
 
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রচলিত ক্রয়প্রক্রিয়া লঙ্ঘন এবং প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়। পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কার্যাদেশ দেওয়া এবং স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগও রয়েছে।
 
এ ছাড়া বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে কাজ করিয়ে সরকারের প্রায় ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এই মামলাটিও তদন্তাধীন।মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০, ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
‘খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
মঙ্গলবার অফিস সময় শেষে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুদক সচিব বলেন, ‘এটি ভুলক্রমে হয়েছে নাকি সচেতনভাবে করা হয়েছে- তা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
তিনি আরও জানান, ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা তদন্তাধীন থাকার বিষয়টি বেবিচক কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে।দুদকের একাধিক নথিতে যখন দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্তাধীন থাকার তথ্য রয়েছে, তখন তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই- এমন প্রত্যয়ন কীভাবে দেওয়া হলো, সেটিই এখন খতিয়ে দেখছে দুদক।
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।