• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৭:১৯    ঢাকা সময়: ০৩:১৯

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে রোববার নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশকন্ঠ  অনলাইন : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় গৃহহীন হওয়া ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৯ আগস্ট রোববার প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরকালে বাঁশখালীতে আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে এসব ঘরের চাবি ক্ষতিগ্রস্ত পবিরারের হাতে তুলে দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন। 
 
বন্যার পানির তোড়ে গৃহহারা পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে যখন অসহায় অবস্থায় ছিলেন ঠিক সেই সময়ে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগে তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়। নিজের ভিটায় ভেঙে যাওয়া বাড়ি সরকার নির্মাণ করে দিচ্ছে এবং সেই বাড়ি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে তুলে দেবেন- এমন প্রাপ্তিতে তারা আনন্দে উদ্বেলিত। 
 
তারা প্রধানমন্ত্রীকে কাছে থেকে এক নজর দেখতে পাওয়া এবং নতুন ঘরের চাবি বুঝে নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ১০ জন করে মোট ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি খরচে তাদের বাড়ি নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। 
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে আরসিসি পিলার, কাঠ এবং টিন দিয়ে। টিনের ঘেরা ও ছাউনি দেওয়ার কারণে বাড়িগুলো ‘দুর্যোগ সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিটি টিনের ঘরে দুটি করে কক্ষ থাকবে। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার থাকবে।
 
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী জানান, ‘বন্যায় বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া যে পরিবারগুলোর নতুন বাড়ি করার মতো সামর্থ্য নেই তাদেরকেই প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
 
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন আজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী রোববার চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলার সফর করবেন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ইতোমধ্যে বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে।’
 
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বাঁশখালী সফর এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন ঘরের কাজ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থল ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো ঘুরে দেখেন।
 
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসক সেখানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, অতিথিদের বসার স্থান এবং অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন।
 
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি বাঁশখালীর বাহারছড়ায় অনুস্থানস্থল পরিদর্শন করেছি। অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি।’
 
ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি দেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচানায় রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।’
সূত্র: বাসস
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।