• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ০৭:৪৪    ঢাকা সময়: ১৭:৪৪

৮০ লাখ অটোরিকশায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশকন্ঠ  অনলাইন : দেশে প্রায় ৮০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। এসব যানবাহন ৩ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট থেকে চার্জ হওয়ায় সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর দেওয়া নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
 
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের দৈনন্দিন বিদ্যুতের চাহিদা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। তবে বিপুল এই চাহিদার বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ এসব অবৈধ সংযোগের কারণে জাতীয় গ্রিড ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
 
বৈদ্যুতিক পিলার থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে চার্জিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু লোকজন জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
 
এ খাতকে ঘিরে চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, চার্জিং সেবাদাতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
তবে দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
 
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। অননুমোদিত বা আবাসিক সংযোগ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার, ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি চাপ এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
 
এ ছাড়া এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ব্যবস্থাপনা ও অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিসা দূষণ, মাটি ও পানি দূষণ এবং শিশু ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
 
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকার নীতিমালা ও বিধি প্রণয়ন করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শিগগির তা বাস্তবায়ন করা হবে।
 
তিনি বলেন, চালক নিয়ন্ত্রণ, চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সড়ক, পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি এবং নিবন্ধনব্যবস্থা চালুর বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে।
 
নীতিমালা অনুমোদনের পর এর আলোকে অটোরিকশার নিবন্ধন, চলাচলের সড়ক নির্ধারণ, চালক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা চালু রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
এরই ধারাবাহিকতায় রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।