দর্পণ কবীর, নিউ ইর্য়ক
কেউ ব্যবসা করেন, আবার কেউ নির্মাণের কাজ করেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (ইউএই)। আবার অনেকে পড়াশোনার সূত্রেও বাংলাদেশ থেকে সেই দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই নানা কারণে বাংলাদেশে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু তার পরে আর ইউএই-তে ফিরতে পারছেন না অনেক বাংলাদেশি। তাঁদের ভিসা নাকি বাতিল করে দিয়েছেন আমিশাহি কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের কারণে প্রায় ৪,৮০০ নাগরিক আমিশাহি ফিরতে পারেননি।
ইউএই-তে প্রায় ১২ লক্ষ বাংলাদেশি থাকেন। ভারত, পাকিস্তানের পর সবচেয়ে বেশি মানুষ বাংলাদেশ থেকেই ইউএই-তে যান। তাঁদের অধিকাংশই নির্মাণ, উৎপাদন এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কোনও পূর্ব সতর্কতা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। তারেক রহমান সরকার এই বিষয়টা আমিশাহি কর্তৃপক্ষের কাছে উল্লেখ করেছে। এ ভাবে ভিসা বাতিলের বিষয়টা পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছে ঢাকা।
বাংলাদেশের আবুল কালাম আজাদ ২৭ বছর ধরে ইউএই-তে থাকেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে আসেন তিনি। ২৪ জুলাই একটি ইমেল পান। সেই মেলে জানানো হয়, তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে বলেন, ‘‘কেন ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।’’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেকে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন আবুলের মতো বাংলাদেশিরা। সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তাঁরা। পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তার দাবিও তুলেছেন। আরও আবেদন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যদি তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেয়, তবে অন্য দেশে চাকরির বন্দোবস্ত করে দিক সরকার। ভিসা বাতিলের কোনও কারণ বা ব্যাখ্যা না-থাকায়, উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারেক সরকার জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।
শুধু বাংলাদেশি নয়, বেশ কয়েক জন পাকিস্তানিরও ইউএই ভিসা বাতিল হয়েছে। কেন ভিসা বাতিল করা হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি ইউএই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। তবে সে দেশের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রবাসী এক টানা ছ’মাসের বেশি আমিরশাহির বাইরে থাকলে, তাঁর সেখানে স্থায়ী ভাবে থাকার ভিসা বাতিল হয়ে যায়। যদিও বহু বাংলাদেশি জানাচ্ছেন, মাত্র দু’-তিন মাস তাঁরা ইউএই-র বাইরে রয়েছেন। তার পরেও কেন তাঁদের ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তায় কয়েক হাজার বাংলাদেশি। এ ব্যাপারে কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা নেই তাদের।