• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৩:২৩    ঢাকা সময়: ২৩:২৩

দিনাজপুরে অধিক ফলনে আউস ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত

দেশকন্ঠ  অনলাইন : অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে জেলায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ১২ হেক্টর জমিতে আউশ ধান ফলন অর্জিত হয়েছে। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান গত বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চলতি বছর জেলায় ৯ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা কৃষি বিভাগ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ এবং নিবিড় পরিচর্যায় অতিরিক্ত ১২ হেক্টর জমিতে আউস ধানের আবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা। ফলে এবারে জেলার ১৩টি উপজেলাতে ৯ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষ অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আউশ ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ গ্রহণ সফল হয়েছে।
 
উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত দু’বছর পূর্বে কৃষি বিভাগের গবেষণায় উদ্ভাবন করা উন্নত জাত ও উচ্চ ফলনশীল উপশী জাতের ব্রি-৯৮ আউশ ধান চাষে জেলায় অধিক ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ টি উপজেলায় ৯ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতেই গত মে মাসে জেলার ১৩ টি উপজেলাতে ৭ হাজার ৩৫০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে আউশ ধানের নতুন উদ্ভাবন করা ব্রি-৯৮ জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক বিতারণ করা হয়েছিল।
 
আউশ ধান চাষ সফল ভাবে অর্জিত করতে জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাগণ, কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে আউশ ধান চাষে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানান।জেলার সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কর্ণাই ও নশিপুর দু'টি গ্রামে সমবায় ভিত্তিতে কৃষকরা এবার আউশ ধানের ব্রি ধান-৯৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। আউশ ধান চাষের সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে অর্জিত ধানের ফসল ঘরে তুলতে পেয়ে কৃষকরা খুব খুশি।
 
তিনি জানান, এক একর জমিতে ৭৫ থেকে ৮০ মণ ধানের ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের বিনামূল্যে দেয়া বীজ, সার ও কীটনাশক ধান চাষে ব্যবহার করে অনাবাদি জমি অধিক উৎপাদনশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমান বাজারে কাঁচা ধান এক হাজার ৫০ থেকে ১১শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আউস ধানের খড় বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ধান বিক্রির পাশাপাশি খড় বিক্রিতেই কৃষকরা তাদের খরচের একটা অংশ উঠাতে পারছেন।
 
জেলার বিরল উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক মো. খাদেমুল ইসলাম (৪৫) জানান, ‘চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে বীজতলা তৈরি করে ব্রি-৯৮ জাতের আউশ ধান চারা রোপণ করে ছিলাম। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে সেচ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে বেশ ভাল ফলন হয়েছে। ভাদ্র-আশ্বিনের এ সময় মাঠজুড়ে আউশ ধানের সোনালি শোভা কৃষকদের মন ভরে তুলেছে। কৃষকেরা তাদের অর্জিত ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে।
 
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধান কাটার পর আবার ওই জমিতে আগাম জাতের আলু চাষের প্রস্তুতি শুরু করে দিবেন কৃষকেরা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকেরা আউশ ধান ঘরে তুলে, আবার ওই একই জমিতে আলু চাষ করার পরিকল্পনা করেছে। জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি ও ভিয়াইল গ্রামের কৃষকরা বলছেন, নতুন জাতের উন্নত ফলনশীল আউশ ধান চাষে তাদের সাফলতা এনে দিয়েছে।
 
বিন্যাকুড়ি গ্রামের কৃষক মো.আব্দুর রহমান (৪৮) জানান, এ বছর তিনি ৭৮ শতক জমিতে আউশ ধান চাষ করেছে। তার অর্জিত জমি থেকে ৬৭ মণ আউশ ধান পেয়েছে। ওই ধান বিক্রি করে আগাম জাতের আলুর চাষ করবেন। আগামী বছর এ জাতের আউশ ধান বেশি করে আবাদ করার আাশা করছেন প্রায় এলাকার সব কৃষকরা।
 
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, এ অঞ্চলের জমি একটু উচুঁ এবং লালমাটি হওয়ায় শুধু রবি শস্য চাষে ব্যবহার করা হতো। আমন বা ইরি-বোরো ধান এখানে চাষ করা হতো না। সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে উন্নত জাতের আউশ ধান চাষ শুরু করা হয়েছে। এখন সেই জমিতেই ৩টি করে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ দিয়ে কৃষকদের ফসল উৎপাদনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায়, কৃষকেরা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
 
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম  বলেন, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলা ৯৭২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের অধিক উৎপাদন হয়েছে। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উন্নত জাতের আউশ ধান চাষে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো ফলন পেয়েছেন। আগামীতে আরো অধিক কৃষক আউশ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবেন, সে বিষয় কৃষি বিভাগ কাজ করছেন বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, তিনি গত কয়েক দিন জেলার প্রায় প্রত্যেকটি উপজেলায় উন্নত জাতের ব্রি-৯৮ আউস ধানের অর্জিত ধান ক্ষেত সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। কৃষকের অর্জিত ধান ক্ষেতের অধিক ফলন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। সেই সাথে কৃষি বিভাগের উদ্ভাবন করা উন্নত জাতের আউস ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে, এটা একটি ভালো লক্ষণ বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
 
উল্লেখ যে, গত বছর এ জেলায় কৃষি বিভাগ থেকে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছর সরকারি ভাবে কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা দিয়ে ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ অর্জিত হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ৪ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত আউস ধান চাষ চাষ অর্জিত করা সম্ভব হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ দাবি করেন।
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।