• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ০৯:০০    ঢাকা সময়: ১৯:০০
৩১তম আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৮ জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ

দাপুটে জয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শি চাওয়ের অভিষেক

দেশকণ্ঠ অনলাইন : বয়স সবেমাত্র ১৪ পেরিয়েছে, কিন্তু টেনিস কোর্টে তার পরিণত উপস্থিতি হার মানাবে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কেও। বলছিলাম চীনের উদীয়মান টেনিস তারকা শি চাওয়ের কথা। নিজের মেধা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে বাংলাদেশের রাজশাহীতে পা রেখেই বাজিমাত করেছেন এই কিশোর। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘৩১তম আন্তর্জাতিক (অনূর্ধ্ব-১৮) জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এর প্রাক-বাছাই পর্বে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।

রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের ২ নম্বর কোর্টে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়ে খেলতে নামেন শি চাও। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এটিই তার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তবে তার খেলায় কোনো জড়তা বা চাপের ছাপ ছিল না। প্রতিপক্ষ আরিফ হোসেনকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ৬-০ এবং ৬-২ গেমের সরাসরি সেটে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন তিনি। আগামীকাল থেকেই গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে দেখা যাবে তাকে।

প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে খেলতে নেমে দারুণ জয়ের পর শি চাও তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দেশের বাইরে এটি আমার প্রথম টুর্নামেন্ট হওয়ায় শুরুতে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু চেনা কোর্টে নামার পর সব চাপ দূর হয়ে যায়।” রাজশাহীর আবহাওয়া সম্পর্কে এই চীনা কিশোর জানান, “এখানে বেশ গরম, তবে আমি দ্রুতই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এই টুর্নামেন্টে অনেক শক্তিশালী দেশের ভালো খেলোয়াড়রা এসেছেন, তাই কাজটা সহজ হবে না। তবে আমার মূল লক্ষ্য শিরোপা জেতা।” প্রতিপক্ষকে সমীহ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আরিফ বেশ ভালো খেলেছে, আমি শুধু ওর ভুলগুলো ধরে পয়েন্ট আদায়ের চেষ্টা করেছি।”

২০১২ সালের ২৫ মে জন্ম নেওয়া শি চাওয়ের টেনিস জীবন শুরু হয় মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। টেনিসই এখন তার ধ্যানজ্ঞান। নিজেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত শেনজেন নানশান ডিস্ট্রিক্ট টেনিস টিমের অধীনে কঠোর অনুশীলন করেছেন তিনি। তার দুর্দান্ত ফিটনেস, পুরো কোর্টজুড়ে সাবলীল বিচরণ এবং নিখুঁত শট চীনের ঘরোয়া সার্কিটে তাকে দারুণ পরিচিতি এনে দিয়েছে।

তার বয়সভিত্তিক সাফল্যের গ্রাফও বেশ ঈর্ষণীয়। ২০২২ সালে ‘ঝেনঝু কাপ’-এ অনূর্ধ্ব-১০ একক, ২০২৩ সালে ‘জুনতাই কাপ’ ইয়ুথ টেনিস ওপেনে অনূর্ধ্ব-১২ দ্বৈত, ২০২৪ সালে হংজিন ডি অনূর্ধ্ব-১২ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ‘কুইবু কাপ’ টুর্নামেন্টের বি-৫০০ (B500) ডিভিশনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এই তরুণ প্রতিভা।

কোর্টে যিনি আগ্রাসী যোদ্ধা, ব্যক্তিজীবনে তিনি ততটাই শান্ত ও সৃজনশীল স্বভাবের। অবসর সময়ে বই পড়া, দাবা খেলা, বোর্ড গেম এবং লেগো ব্লক দিয়ে নানা কাঠামো তৈরি করতে ভালোবাসেন শি চাও। এই বুদ্ধিবৃত্তিক শখগুলোই তাকে কোর্টে আরও বেশি মনযোগী ও কৌশলী হতে সাহায্য করে।

আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (ITF) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রাজশাহীর এই মেগা ইভেন্টে বাংলাদেশ, ভারত, জাপান, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। টুর্নামেন্টের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ডিরেক্টর হাসিনুর রহমান টিংকু জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভারতের হোয়াইট ব্যাজ রেফারি জয় মুখার্জী মনে করেন, এই আসরটি তরুণ টেনিস খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জন ও প্রতিভা বিকাশের জন্য একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম।

এখন সবার নজর রাজশাহীর কোর্টে। চীনের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মাতানো শি চাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা আলো ছড়াতে পারেন এবং শিরোপার পথে কতটা এগিয়ে যেতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় টেনিসপ্রেমীরা।

 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।