• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৬:০৬    ঢাকা সময়: ০২:০৬

প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই উড়ন্ত গাড়ি বানালেন তরুণ

দেশকন্ঠ  অনলাইন : প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা।আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞান বা প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই একটি বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা। মানবিক বিভাগে স্নাতক করা তামতা ১৩ বছর ধরে অনলাইনে দেখে এবং হাতে-কলমে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তার তৈরি একক আসনের যানটির নাম হাপিডা স্কাইনেক্স। আগস্টে এটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। ইন্টারনেট, বছরের পর বছর পরীক্ষানিরীক্ষা ও পরিবারের সহায়তায় তিনি নিজের জ্ঞান গড়েছেন।
 
ভাবনা থেকে উড়ন্ত প্রোটোটাইপ
তামতা বেড়ে উঠেছেন জাগেশ্বর ধামের কাছে কাফলিখান এলাকায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যক্তিগত আকাশযানের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। ২০১৫ সালে তিনি উড়ন্ত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। নিজের উদ্যোগ হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে সেই ভাবনা বাস্তব রূপ দিয়েছেন। যানটি রানওয়ে ছাড়াই খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে। এতে একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে মাল্টিরোটর ড্রোনের মতো প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে।প্রোটোটাইপটির কাঠামো হালকা। এতে ককপিট ও স্বচ্ছ ক্যানোপি আছে। এটি ব্যাটারিচালিত, ফলে বিমানের জ্বালানি বা ইথানলের প্রয়োজন হয় না। তবে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন একটি প্রাথমিক মাইলফলক মাত্র। যানটি যাত্রী বহন বা বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের জন্য প্রস্তুত কি না, তা এখনো যাচাই করা হয়নি।
 
ইন্টারনেটই ছিল শিক্ষক
গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছেন তামতা। পরে নৈনিতাল ক্যাম্পাস থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার বাবা হরিশ রাম পেশায় মেকানিক। আনুষ্ঠানিক প্রকৌশল প্রশিক্ষণ বা বিশেষায়িত গবেষণাগার ছাড়াই তিনি অনলাইনের তথ্য ও বারবার পরীক্ষানিরীক্ষার ওপর নির্ভর করেছেন। তবে উড়ন্ত যানের নকশা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে জটিল প্রশ্ন থেকেই যায়। এর প্রতিটির জন্য কঠোর পরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই প্রয়োজন।
 
আগের উদ্ভাবন
হাপিডা স্কাইনেক্স দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে তামতার প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে তিনি মোবাইল ফোন চার্জ করা যায় এমন জুতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্মার্ট হাঁটার লাঠি, বাঁশ চেরার যন্ত্র ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া স্টিক মোবাইল চার্জার এবং বন বিভাগের জন্য একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও বানিয়েছেন তিনি।উড়ন্ত যানটির উদ্দেশ্য দুর্গম ভূখণ্ডে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত দ্রুততর করা। প্রত্যন্ত এলাকা ও চিকিৎসা জরুরি অবস্থায় এটি কাজে লাগতে পারে। তবে বাস্তব ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের (ডিজিসিএ) অনুমতিসহ নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন।
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।