• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ০৪:২০    ঢাকা সময়: ১৪:২০

রমজানের আগে বেড়েছে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি

  • বাণিজ্য       
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬       
  • ১৬
  •       
  • ০০:৩০:২০

দেশকন্ঠ  অনলাইন : আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ এসব নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ফলে রমজানে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে এবং ভোজ্যতেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও শুল্ক কাঠামোর বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
২৬ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে এসব চিত্র উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।আসন্ন রমজানে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
 
নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসিতে অগ্রগতি :
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।এসময়ে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ দশমিক ২৩ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের ৭ দশমিক ০৫ লাখ মেট্রিক টনের তুলনায় ১ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন বেশি। ভোজ্যতেলের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০৫ লাখ মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন বেশি। 
 
এছাড়া সয়াবিন বীজ আমদানি হয়েছে ৫ দশমিক ০১ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি।চিনি আমদানি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৭ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টনে।
 
রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে শূন্য দশমিক ৮২ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ১২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এসময়ে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ দশমিক ৩৮ লাখ মেট্রিক টন।
 
অন্যদিকে, মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ২২ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৪ লাখ মেট্রিক টন বেশি। মসুর ডালের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টনে। খেজুর আমদানি হয়েছে শূন্য দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ০৪ লাখ মেট্রিক টন।
 
স্থানীয় বাজারে কমেছে ডিম, মুরগি ও ডালের দাম :
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৫০ টাকায়। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় নেমেছে।
 
বড় দানার মসুর ডালের দাম গত এক মাসে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। মাঝারি দানার মসুর ডালের দামও গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে।বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে অপরিবর্তিত আছে। সাধারণ মানের খেজুর মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত এক মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।
 
রমজানে ডিম-মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা :
সভায় পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগের প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি। খামারে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে তারা জানান।প্রতিনিধিদের মতে, রমজানে সকালের নাশতার ধরনে পরিবর্তনের কারণে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়তে পারে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে। 
 
খেজুরের শুল্ক কাঠামো সহজ করার উদ্যোগ :
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা খেজুরের জাত, গুণগত মান ও মূল্যের পার্থক্য বিবেচনায় শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন।তিনি বলেন, মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে একই ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আমদানিকারকদের জন্য সহজবোধ্য ও বাস্তবসম্মত শুল্কব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। 
 
শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্ব হলেও এক্ষেত্রে কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।আলোচনায় খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি খেজুরের নির্দিষ্ট মূল্য ধরে শুল্কায়নের পরিবর্তে প্রকৃত গুণগত মান ও মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় আসে।
 
আমদানিকারকরা জানান, সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রে বাস্তব আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন না হলে শুল্ক ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার, বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা যুক্ত হয়ে বাজারে পণ্য সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফল আমদানিকারকরাও উচ্চ করহারের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় ফল আমদানির কর কাঠামো আরও সহনশীল করার দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
 
আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ :
ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা প্রয়োজন। সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে বর্তমানে শুল্ক-কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দামও কিছুটা কমেছে বলে পর্যালোচনায় উঠে আসে।
 
সভায় বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিকভাবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা আসন্ন রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেশকন্ঠ/এআর

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।