দেশকণ্ঠ অনলাইন: দেশের উদ্যোক্তা খাতকে টেকসই সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৬টি জেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের উদ্যোক্তা খাতকে টেকসই ও গতিশীল করতে ১৬টি জেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১- এর আওতায় এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (এমটিআই) বাস্তবায়নে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ৫ দিনব্যাপী এই আয়োজনে ৪২টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৫০ জন উদ্যোক্তাকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ৭৫ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।
এই ধারাবাহিকতায় গত ৩ নভেম্বর ঢাকার শেওরাপাড়ায় ডিএসএস কনভেনশন সেন্টারে বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটজাত পণ্য সংক্রান্ত বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও ঋণ গ্রহণের সহজ উপায় সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, কর ও ভ্যাট, কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত জটিল আইনগত প্রক্রিয়াগুলো সহজভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় সোনালী আঁশ পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার এখন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। স্বল্প মূলধনে নান্দনিক ও বৈচিত্র্যময় পাটজাত পণ্য তৈরি করে নারী উদ্যোক্তারা খুব সহজেই স্বাধীন কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারেন। প্রশিক্ষণে শেখানো আধুনিক প্যাকেজিং, ডিজিটাল বিপণন ও মান নিয়ন্ত্রণ কৌশল উদ্যোক্তাদের পণ্যকে স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখবে, যা দেশের পাট শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।
ঢাকার প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বিআরসিপি-১ প্রজেক্টের পিডি শায়লা ইয়াসমিন এবং প্রকল্পের কনসালট্যান্ট মামুন উর রশিদ। কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফিরোজ আল মামুন, জনতা ব্যাংক পিএলসি-র এজিএম ড. মো. শাহরিয়ার হাসান, প্রিন্সিপাল অফিসার নুরুন্নাহার এবং এমটিআই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মনিরুল ইসলাম খান ও পরিচালক (প্রোগ্রাম) মো. নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া। এতে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন রনি মুনিরা, খুরশিদা খাতুন ও ফাতেমা হক।
প্রশিক্ষণে বহুমুখী পাটজাত পণ্য ও নারী উদ্যোক্তাদের অপার সম্ভাবনা কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির এই যুগে বাংলাদেশের 'সোনালী আঁশ' পাট ও পাটজাত পণ্য উদ্যোক্তাদের জন্য এক সম্ভাবনাময় খাত। এই প্রশিক্ষণে বৈচিত্র্যময় পাটজাত পণ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের (যেমন: জুট ডাইভারসিফাইড প্রোডাক্টস) ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। ঘর সাজানোর সামগ্রী, পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ, পাটজাত ফ্যাশন অনুষঙ্গ এবং হস্তশিল্পের বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় উদ্যোক্তাদের প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ফলে পাটজাত পণ্য তৈরি ও ডিজাইন প্রক্রিয়ায় ঘরে বসেই কম মূলধনে কাজ শুরু করা সহজ। ফলে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি লাভজনক ও স্বাধীন আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। পাশাপাশি আরও বলা হয়, বহুমুখী পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে সরকারি প্রণোদনা রয়েছে, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে সহায়তা করে।
এই সমন্বিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রান্তিক ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় পাটজাত শিল্প ও সার্বিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে।