• মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১  নিউইয়র্ক সময়: ১৬:০১    ঢাকা সময়: ০২:০১

ইউরো : রোমানিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে নেদারল্যান্ডস মালেনের জোড়া গোল

  • ক্রীড়া       
  • ০৩ জুলাই, ২০২৪       
  • ২০
  •       
  • ০০:৫৭:৫৬

দেশকন্ঠ অনলাইন : ডনিয়েল মালেনের  জোড়া গোলে রোমানিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মত ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস।

কোডি গাকপোর গোলে মিউনিখের শেষ ষোলর ম্যাচে ২০ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল ডাচরা। কিন্তু লিভারপুল ফরোয়ার্ড মালেন ম্যাচ শেষের সাত মিনিট আগে ব্যবধান দ্বিগুন করার আগ পর্যন্ত রোমানিয়াকে চাপে রাখলেও গোল বাদায় করতে পারছিল না রোনাল্ড কোম্যানের দল। রোমানিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ডাচ আক্রমনের সামনে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। কাউন্টার এ্যাটাক থেকে স্টপেজ টাইমে মালেন তার দ্বিতীয় গোল করেন।

শেষ আটে তুরষ্কের মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস।
গাকপো বলেছেন, ‘আমরা আজ দারুন একটি ম্যাচ খেলেছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে দারুন খুশী। বিশেষ করে শেষ ম্যাচের আগে আমাদের লড়াইয়ে ফিরে আসাটা জরুরী ছিল। আজকের ম্যাচের পর বলাই যায় আমরা সঠিক পথে আছি। আগ্রাসন নিয়ে আমরা প্রচুর আলোচনা করেছি। রোমানিয়ার মত একটি দলের বিপক্ষে জিততে হলে যার প্রয়োজন ছিল। নিজেদের কৌশলে আমরা সফল হয়েছি। একে অন্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছি এবং নিজেদের সেরাটা দিতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। সব মিলিয়ে ম্যাচটা অসাধারণ ছিল।’

১৯৮৮ সালে জার্মানির  মাটিতে ইউরো জয়ী ডাচ দলের খেলোয়াড় ছিলেন বর্তমান কোচ কোম্যান। সেই দলটির সাথে মানানসই খেলা উপহার দেবার জন্য এবার কোচ কোম্যানকে তার দলের আক্রমনভাগকে আরো উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। ৬১ বছর বয়সী কোম্যান বলেছেন, ‘একটি বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে প্রথম গোল করার পর দ্বিতীয় গোলের জন্য আমাদের লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু সব মিলিয়ে দলের পারফরমেন্সে আমি খুশী। আমরা ডাচ, আমাদের ভাল খেলতেই হবে। আজকের পারফরমেন্স দুর্দান্ত ছিল। এ কারনেই আমাদের আরো এগিয়ে যাবার সুযোগ রয়েছে। এই মান আমরা বজায় রাখতে চাই। আমরা যদি নিজেদের মান নীচে নামিয়ে ফেলি তবে ফাইনালে খেলা সম্ভব নয়।’

রোমানিয়ান কোচ এডওয়ার্ড ইওরডানেসু তার দল সম্পর্কে বলেছেন, ‘আজ নেদারল্যান্ডসকে বিস্মিত করার চেষ্টা করেছিলাম। ২০ মিনিট পর্যন্ত তাতে সফলও হয়েছি। তবে বিদায় নিলেও ভবিষ্যতের জন্য ভাল কিছু নিয়েই আমরা বাড়ি ফিরছি, যা দলের এগিয়ে যাবার পথে কাজে লাগবে।’

এই ম্যাচে খেলতে নামার আগে নেদারল্যান্ডসের অধিানয়ক ভার্জিল ফন ডাইক বলেছিলেন তার দলের এনার্জিও অভাব রয়েছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচে জয়ী হওয়া উচিৎ ছিল।

গ্রুপ-ই বিজয়ী রোমানিয়া ইউক্রেনকে ৩-০ গোলে হারানোর  মধ্য দিয়ে ইউরোর এবারের আসর শুরু করেছিল। ইউরোতে এটা তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় জয়। ডাচদের বিপক্ষেও  শুরুটা তাদের ভালই হয়েছিল। নিকোলে স্টানসিওর দারুন এক পাসে পার্মা উইঙ্গার ডেনিস ম্যান বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি রোমানিয়ার। ২০ মিনিটে গাকপোর দারুন ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় ডাচরা। মধ্য মাঠ থেকে জাভি সিমন্সের লম্বা পাসে বাম দিক থেকে গাকপো আক্রমনটি শেষ করেন। শক্তিশালী শটে গোলরক্ষক ফ্লোরিন নিতাকে পরাস্ত করতে কোন ভুল করেননি গাকপো। এই গোলের পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিজেদের করে নেয় নেদারল্যান্ডস। পাঁচ মিনিটর পর স্টিফেন ডি ভ্রিজের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুন করার সুযোগ নষ্ট করেন ডেনজেল ডামফ্রাইস।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোম্যানের দল বেশ কিছু সুযোগ তৈরী করেছিল। মেমফিস ডিপে ও ফন ডাইক দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। গাকপোর দ্বিতীয় গোল অফসাইডের কারনে বাতিল করে দেয় ভিএআর। গোলের সুযোগ নষ্ট হবার সাথে সাথে অস্বস্তিও বাড়তে থাকে ডাচ শিবিরে। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি রোমানিয়া। ম্যাচ সেরা গাকপো ম্যাচ শেষের সাত মিনিট আগে ড্রিবলিং করে পেনাল্টি এরিয়ার মধ্যে ঢুকে মালেনের দিকে বল বাড়িয়ে দেন।

ম্যাচ শেষে গাকপো বলেছেন, ‘সেরাটা দেবার জন্য আমরা একে অপরের সাথে কঠোর পরিশ্রম করেছি। ডোনির গোলে এ্যাসিস্ট করতে পেরে আমি দারুন খুশী।’

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে রোমানিয়া তাদের শেষ আক্রমন চালায়। কিন্তু মাঝপথেই তা বাঁধাগ্রস্থ হলে কাউন্টার এ্যাটাক থেকে স্টপেজ টাইমের তৃতীয় মিনিটে মালেন তার দ্বিতীয় গোল পূরণ করেন। ৯৩ মিনিটের এই গোলের মাধ্যমে ২০০০ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে মার্ক ওভারমার্স ও প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের পর প্রথম ডাচ খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোর নক আউট ম্যাচে অন্তত দুই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন মালেন।
দেশকন্ঠ//

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।