দেশকন্ঠ অনলাইন : ভ্যান চালিয়ে সংসার খরচ চালান ইউনুস শেখ। কোনো কোনোদিন সেই ভ্যান নিয়েই যাত্রী পরিবহনে বের হয় তাঁর কিশোর ছেলে হৃদয় আলী (১৫)। বাবার ওপর চাপ কমাতে রোববার বিকেলেও ভাড়া নিয়ে যায় সে। তবে রাতে আর ফেরেনি হৃদয়। সোমবার সকালে পদ্মা নদীর তীরের এক বাগানে মিলেছে এই কিশোরের গলা কাটা লাশ। হদিস মেলেনি ভ্যানটিরও।
সোমাবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে থানা চত্বরে সন্তান হারানোর শোকে আহাজারি করছিলেন ইউনুস শেখ। তিনি অভিযোগ করেন, ভ্যান ছিনিয়ে নেয়ার জন্যই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ইউনুস বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘তোরা ভ্যান নিবি, নে! আমার ছোয়ালকে মারলি ক্যান?’
হৃদয়ের লাশ বেলা ১১টার দিকে পাওয়া যায় পদ্মা নদীর কোলের হাসিমপুর বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার দূরের চরে। সেখানে কলা ও সবজি আবাদ করেন কৃষকরা। নদীপারের একটি কলাবাগানের কোণে পড়ে ছিল হৃদয়ের লাশ। তার গলার শ্বাসনালি পর্যন্ত কাটা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন।
নিহত হৃদয়ের বাড়ি কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায়। তার লাশ উদ্ধারের পর সোমবার দুপুরে কুমারখালী থানায় চারজনের নামে হত্যা মামলা করেন ইউনুস শেখ। এতে আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো– উপজেলার বাটিকামারার রাকিব হোসেন (২২), জীবন হোসেন (২০), দুর্গাপুরের মোস্তাফিজুর রহমান (২০) ও ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর।
আজ বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রথমে চালক হৃদয়ের কাছ থেকে ভ্যানটি ভাড়া করে তিনজন। বিভিন্ন জায়গায় তাকে নিয়ে ঘোরাঘুরির পর হাসিমপুর বাঁধে যায় তারা। সেখানে ভ্যান রেখে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পদ্মাপারের বাগানে নিয়ে যায় হৃদয়কে। সেখানেই গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
সংবাদ পেয়ে সেখানে আসা চাচা ফিরোজ শেখ জানান, গতকাল রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি হৃদয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তাকে না পেয়ে সকালে থানায় যান। পরে খবর পেয়ে পদ্মার চরে এসে গলাকাটা লাশ পেয়েছেন।
দেশকন্ঠ/এআর

আমাদের কথা
ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।