• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ২৩:১৯    ঢাকা সময়: ০৯:১৯

লালমনিরহাটে খড়ের দামে কৃষকরা খুশি খামারিরা বিপাকে

দেশকন্ঠ  অনলাইন : লালমনিরহাটে ধানের খড়ের দাম সম্প্রতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও খামারিরা অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। মৌসুম শেষে ধান ও খড় ঘরে তোলার পর অবশিষ্ট খড় সংরক্ষণ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে কৃষকরা ভালো লাভ করছেন।কিন্তু খামারিরা জানান, খড়ের এই উচ্চমূল্যের কারণে এখন গবাদিপশু পালন ও খাবার জোগানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ আঁটি খড় বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, আর ১ হাজার খড়ের আঁটির দাম দাঁড়িয়েছে ৭-৮ হাজার টাকায়। কিছুদিন আগে প্রতি আঁটির দাম ছিল মাত্র ৩-৪ টাকা। খামারিরা আশঙ্কা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে দাম ৯-১০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। শুধু খড় নয়, ভুসি, চালের গুঁড়া ও অন্যান্য পশুখাদ্যের দামও বেড়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর খাবার সংগ্রহ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ধানের খড় গরুর অন্যতম ও প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। সাধারণত খড় কেটে ভুসি ও চালের গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়, যা তাদের সঠিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য অপরিহার্য। তাই খামারিরা সারাবছর খড় মজুত রাখার চেষ্টা করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খড়ের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে গরুর খাদ্য জোগান দিতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আবু সালাম আলী জানান, তার গোয়ালে দুইটি বাছুর ও একটি গরু রয়েছে। গবাদিপশুর জন্য খড় প্রতিদিনই প্রয়োজন। আগে প্রতি আঁটি খড় ২-৩ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বাজারে ৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। খড়ের এমন উচ্চমূল্যের কারণে গরু পালন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিক্রিও করতে পারছি না।

তিস্তা পাড়ের কৃষক আব্দুল ইসলাম বলেন, গত দুই-তিন মৌসুমে খড়ের সংকট বেড়েছে। আগে ধান মাড়াই হাতে হতো, তাই খড় অক্ষত থাকত। এখন আধুনিক যন্ত্রে ধান মাড়াই ও আকস্মিক বন্যার পানি খড় নষ্ট করছে, যা সংকট আরও বাড়াচ্ছে। এ অবস্থা চললে মাংস ও দুধ উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে।

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিন বিঘা জমি থেকে তিনি ৩ হাজার ৬০০ আঁটি খড় সংগ্রহ করেছেন এবং তা সংরক্ষণ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, খড়ের আঁটিগুলো প্রতিটি ৬ টাকায় বিক্রি করেছি যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৬০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা এগুলো বাজারে বিক্রি করে আরও মুনাফা করছে। ধানের পাশাপাশি খড়ের ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট।

বড়বাড়ী বাজারের খুচরা খড় বিক্রেতা ইব্রাহিম আলী জানান, মৌসুমে গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি আঁটি খড় ২-৩ টাকায় কিনি। বাজারে দাম বেড়ে গেলে বিক্রি করে ভালো লাভ করি। বর্তমানে এই ব্যবসায় আমরা সন্তোষজনক আয় পাচ্ছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খড়ের দাম বেড়ে কৃষকরা লাভবান হলেও খামারিরা সমস্যায় পড়েছেন। উন্নতমানের ঘাস চাষ ও সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খামারিরা খরচ কমাতে এবং গবাদিপশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারবেন। এতে তারা দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হয়ে দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন।
দেশকন্ঠ/এআর

 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।