• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ২১:৫৯    ঢাকা সময়: ০৭:৫৯

ফ্যাশনের নামে সর্বনাশ ট্যাটু

দেশকণ্ঠ অনলাইন : কেউ শখে, কেউ নিজের পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে, কারও কাছে শুধুই ফ্যাশন, আবার কারও কাছে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম। ট্যাটু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ বলে ধরা হলেও সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া এক গবেষণা নতুন করে ভাবাচ্ছে। ত্বকে করা এই শিল্পকর্ম নাকি চোখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে! গবেষণায় বলা হয়েছে, খুবই বিরল হলেও ট্যাটুর কারণে চোখে একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার নাম ইউভাইটিস।
 
ইউভাইটিস আসলে কী?
ইউভাইটিস হল চোখের ভেতরের একটি অংশে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ। এই অংশটি চোখের স্বাভাবিক কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সমস্যা হলে চোখ লাল হওয়া, ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা আলোতে অস্বস্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় চোখের সামনে ভাসমান দাগও দেখা যায়। যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে।
 
ট্যাটুর সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে যে, ত্বকে করা ট্যাটু কীভাবে চোখে প্রভাব ফেলে। আসলে এর মূল কারণ শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম। ট্যাটু করার সময় কালি ত্বকের ভেতরে ঢোকে। শরীর এই কালি বা পিগমেন্টকে বাইরের বস্তু হিসেবে চেনে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া শুরু করে। এই প্রতিক্রিয়া সাধারণত ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সেই প্রতিক্রিয়া শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চোখের ভিতরেও দেখা দিতে পারে প্রদাহ। অনেক সময় দেখা গেছে, ট্যাটু করার বহুদিন পরেও এই সমস্যা হঠাৎ করে শুরু হচ্ছে।
 
কারা একটু বেশি ঝুঁকিতে?
সবাই এই সমস্যায় ভোগেন না, এটি খুবই বিরল। তবে কিছু বিষয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন, খুব বড় ট্যাটু করালে বা কালি বেশি ব্যবহার করা হলে সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আবার যাদের আগে থেকেই ইমিউন সিস্টেমের কোনও সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা ভালো। এছাড়া কিছু ট্যাটুর কালিতে ক্ষতিকর ধাতু থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
 
কতটা চিন্তার বিষয়?
এই সমস্যা এখনও খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এর একটি কারণ হতে পারে, এখন চিকিৎসকরা বিষয়টি জানেন বলে সহজে শনাক্ত করতে পারছেন।
 
চিকিৎসা ও সতর্কতা
এই সমস্যার চিকিৎসা রয়েছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দ্রুত লক্ষণ চেনা। চোখে ব্যথা, লালভাব, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা আলোতে অস্বস্তি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
 
ট্যাটু মোটের উপর নিরাপদ হলেও শরীরের যে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সচেতন থাকলে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

  মন্তব্য করুন
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।