• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ২২:৫৭    ঢাকা সময়: ০৮:৫৭
ক্যানভাসে ফিরে দেখা সুবর্ণ শৈশব

‘স্মৃতিকথন: কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব

বিশেষ প্রতিনিধি : সময়ের চাকা পেছনে ঘুরে গিয়েছিল কিছুটা ক্ষণের জন্য। অডিটোরিয়াম জুড়ে তখন কোনো বয়সের ব্যবধান ছিল না— ছিল কেবল শৈশবের কোলাহল, স্মৃতির ব্যাকুলতা আর শিকড়ের প্রতি অকৃত্রিম টান। এমনই এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো ক্রীড়া সংগঠক ও লেখক মো. আনিসুর রহমানের গ্রন্থ ‘স্মৃতিকথন: কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়’-এর শুভ মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব।
 
শনিবার ২৫ জুলাই রাজধানীর বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ-বাংলা অডিটোরিয়াম পরিণত হয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গুণীজন ও আলোকময় মানুষদের মিলনমেলায়। উপস্থিত সবার চোখেই যেন ভেসে উঠছিল ফেলে আসা সেই সুবর্ণ শৈশবের চেনা ক্যানভাস।
 
বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈন সিন্হার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়েরই গর্বিত ও কৃতী ছাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা (এলপিআর), ওএসপি, আরসিডিএস, এনডিসি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে আবেগাপ্লুত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের আরেক খ্যাতিমান ছাত্র ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাক্তন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির।
 
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের গভীর আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও গবেষক ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি বলেন, “আমার বড় ভাই মনোয়ার মাহবুবুল আলম দিদার এই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এই স্কুলের সাথে আমার সম্পর্ক বেশ নিবিড়। আমি অসংখ্যবার এই স্কুলে এসেছি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং করানোর ঐতিহাসিক দিনগুলোতেও আমি উপস্থিত ছিলাম।”
 
লেখকের মানবিক গুণাবলি ও ক্রীড়াঙ্গনের অবদানের কথা স্মরণ করে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান বাবলু বলেন, “তিনি আমার বড় ভাইয়ের মতো। একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।”
 
অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ ও বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব জিররুর রেজা খানম, সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় নাছিমা চৌধুরী শিরিন, সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় ও কোচ রেহানা পারভীন, স্কুলের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক পরিমল কুমার ঢালী এবং ঝুমঝুমি প্রকাশনের কর্ণধার শায়লা রহমান তিথী।
 
প্রধান অতিথির ভাষণে মেজর জেনারেল আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, “বিদ্যালয়ের স্মৃতি কেবল একক কোনো ব্যক্তিজীবনের সম্পদ নয়, এটি পুরো একটি সমাজ ও প্রজন্মের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। লেখক মো. আনিসুর রহমান তাঁর নিপুণ লেখনীর মাধ্যমে আমাদের শৈশবের সেই সোনালী দিনগুলোকে আবার জীবন্ত করে তুলেছেন।”
 
অনুষ্ঠানের রূপকার ও বইটির লেখক মো. আনিসুর রহমান তাঁর অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে উপস্থিত সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমার এই বিনীত প্রয়াস কেবলই শুভানুধ্যায়ীদের অফুরন্ত ভালোবাসা ও সহায়তার ফসল। এই বইটির তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রকাশনা পর্যন্ত যারা আমাকে নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি আমি আজীবন ঋণী।”
 
সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈন সিন্হা বলেন,  ‘আমি এই আয়োজনে মধ্যদিয়ে হারানো দিনে ফিরে গেছি। আর বারবার মনে পড়ছে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু আলম স্যারকে। আসুন আমরা এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবাই আরও এগিয়ে আসি।’
 
স্মৃতিচারণের মূল পর্ব শেষে পরিবেশিত হয় মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যন্ত্রসংগীত, গান ও কবিতার মূর্ছনায় মোড়ানো পরিবেশ উপস্থিত দর্শকদের এক আবেগঘন জগতে নিয়ে যায়।
 
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রোকেয়া সুলতানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুবুল আলম মনির, প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার মো. কামরুজ্জামান, কলমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব শেখ, জসিম উদ্দিন রিপন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আরিফ সোহেল, মজুমদার এন্টারপ্রাইজের সিইও কবি জসিম উদ্দীন চৌধুরী এবং সমাজকর্মী খান নজরুল ইসলাম হান্নানসহ রাজনীতি, খেলাধুলা ও সাহিত্য সংস্কৃতির বরেণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন চৌধুরী নাজমুল পারভেজ।
 
অনুষ্ঠান শেষে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে সবার চোখে-মুখে ছিল শৈশবে ফিরে পাওয়ার এক তৃপ্তির হাসি। ইটের শহরের ব্যস্ততা ভুলিয়ে ‘স্মৃতিকথন: কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়’ গ্রন্থের এই আয়োজন যেন সবাইকে ক্ষণেকের জন্য উপহার দিল একমুঠো হারিয়ে যাওয়া শৈশব।

  মন্তব্য করুন
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।