দেশকণ্ঠ অনলাইন : আকাশছোঁয়া সাফল্য, আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর গর্বের এক অনন্য দিনে মেতে উঠেছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে শতভাগ পাস এবং সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। কৃতি শিক্ষার্থীদের এমন কৃতিত্বে আনন্দে ভাসছে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবক সমাজ।
এবার সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স থেকে মোট ২৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে প্রত্যেকেই সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১৩১ জন (৪৮.৭০%)। এই ফলাফল কেবল কিছু পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের অদম্য অধ্যবসায়, নিবেদিত প্রস্তুতি, সিস্টার ও শিক্ষকদের নিবিড় দিকনির্দেশনা এবং অভিভাবকদের নিরন্তর প্রার্থনারই প্রতিফলিত রূপ। প্রতিটি শিক্ষার্থীর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মা-বাবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ, যা আজ কাঙ্ক্ষিত ফল হয়ে ধরা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সারাদেশে একযোগে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশজুড়ে হাজারো শিক্ষার্থীর আনন্দের মাঝে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্সের এই অভাবনীয় অর্জন যোগ করেছে এক বাড়তি উজ্জ্বলতা। শতভাগ পাসের এই মহতী দিনে জিপিএ-৫ অর্জনকারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যাদের ফল প্রত্যাশামাফিক হয়নি, তাদেরও আগামীর সুন্দর দিনগুলোর জন্য অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে—কারণ একটি সাময়িক ফলাফল কখনোই মানুষের জীবনের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সিস্টার মেবেল কস্তা, আরএনডিএম বলেন, ‘এমন গৌরবময় ফলাফল সম্ভব হয়েছে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। এটি সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্সের পরিচালনা পর্ষদ, সিস্টারবৃন্দ এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই ফসল।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সাফল্যমণ্ডিত করার পর আগামী দিনে শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না থেকে সৎ, মানবিক, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। একই সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত সাহস ও মানসিক শক্তি জোগানোর জন্য অভিভাবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিদ্যালয়ের অর্জিত এই গৌরবের ধারা যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে এবং সমাজের চারদিকে আলোকবর্তিকা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে— এমনই উদাত্ত প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সদালাপী ও বিনম্র অধ্যক্ষ সিস্টার মেবেল কস্তা, আরএনডিএম।