• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৫:৪০    ঢাকা সময়: ০১:৪০

মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে : পাকিস্তান

দেশকন্ঠ  অনলাইন : ইয়েমেনের হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।তিনি বলেছেন, সৌদি আরব ও দেশটির পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের দায়িত্ব; এ জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজনও নেই। ১৬ সেপ্টেম্বর  পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ এসব কথা বলেন। তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব সম্প্রতি মক্কার কাছে হুতিদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। খাজা আসিফ বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ইসলামাবাদ এর দায়িত্ব পালন করবে। তবে সামরিক বা প্রতিরক্ষা কৌশলের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আলোচনা করা হবে না বলেও জানান তিনি।
 
সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও দেশটির পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার বিষয়টি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, কোনও চুক্তি না থাকলেও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষা করা পাকিস্তানের দায়িত্ব।মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। চুক্তির মূল ধারণা হলো—তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর আক্রমণকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কোন বাহিনী মোতায়েন করা হবে—এসব বিষয়ে পাকিস্তান এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, চুক্তিটি বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন এবং সে সময় কোনও সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়নি।
 
ইরানকে সৌদি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান
খাজা আসিফ জানান, হুতিদের হামলা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগের বিষয়টি পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত না করার চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।তিনি বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান নতুন কোনও যুদ্ধক্ষেত্র খুলতে চাইবে বলে তিনি মনে করেন না। কারণ তেহরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।তবে ইরান ও বিভিন্ন অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও কোনও অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সরাসরি নির্দেশ বা অনুমোদন ছাড়াও নিজেদের মতো করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।
 
সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সংঘাত যাতে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য ইসলামাবাদ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তার বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সম্প্রতি জানিয়েছে, ইসলামাবাদ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে। একই সঙ্গে বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।
 
কেন গুরুত্বপূর্ণ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক গত আগস্টে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সম্মত হয়। চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাও এর আওতায় রয়েছে।চুক্তিটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাড়িয়েছে এবং একই সঙ্গে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলোতে অগ্রসর হয়েছে। এতে বাব আল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলার পর মক্কা চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে চুক্তির আওতায় পাকিস্তান বা তুরস্ক সরাসরি কোনও সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ না করার নীতিই বজায় রেখেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
দেশকন্ঠ/এআর
 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।