• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩  নিউইয়র্ক সময়: ১৬:৪৪    ঢাকা সময়: ০২:৪৪

অ্যাসিটেট টো আমদানিতে অনিয়ম উদঘাটন ১৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়

  • বাণিজ্য       
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬       
  •       
  • ০০:০৬:০২

দেশকন্ঠ  অনলাইন : অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো আমদানি করে অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির সম্ভাব্য চিত্র উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।
 
সিআইসির ঝুঁকিভিত্তিক যাচাই ও হস্তক্ষেপে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একটি চালানের খালাস স্থগিত করে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই চালানের অ্যাসিটেট টো স্থানীয়ভাবে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত হলে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারত বলে প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে।
 
আজ এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিগারেটের ফিল্টার তৈরিতে ব্যবহৃত সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর কাঁচামাল। সম্প্রতি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে এ পণ্যের আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রকৃত ব্যবহার, আমদানির পরবর্তী সরবরাহ ও ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে সিআইসি।
 
তথ্য বিশ্লেষণে ইউনিক ট্রেডার্স (বিআইএন: ০০৭৫২২৮০১-০২০২) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিটেট টো আমদানির বিষয়টি সিআইসির নজরে আসে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানিকৃত পণ্য কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগে তথ্য চাওয়া হয়। 
 
ভ্যাট বিভাগ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত ঠিকানায় কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না এবং নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে অস্তিত্বহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
 
সিআইসির যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২০৪৭১০, তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে দুই কনটেইনারে মোট ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকার তথ্য পাওয়ার পর সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়। পরে চালানটিতে আমদানি পর্যায়ের ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়।
 সিআইসি জানায়, আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব ছাড়াও এ পণ্যের স্থানীয় ব্যবহারের সঙ্গে আরও বড় অঙ্কের রাজস্ব সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
 
সিগারেট উৎপাদনকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মূসক-৪.৩-এ উল্লেখিত উপকরণ-উৎপাদ সহগ বিশ্লেষণ করে সিআইসি দেখতে পায়, প্রতি এক কেজি অ্যাসিটেট টো থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৭ শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। সে হিসাবে ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো দিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেট হিসেবে এ পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার প্যাকেট সিগারেট উৎপাদন করা যেত।
 
মাঝারি শ্রেণির সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ৯২ টাকা এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসক ও সম্পূরক শুল্কসহ প্রযোজ্য রাজস্বের হার প্রায় ৮২ শতাংশ বিবেচনায় নিলে এসব সিগারেটের সঙ্গে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।
 
এ ছাড়া উচ্চ শ্রেণির সিগারেটের ক্ষেত্রে একই হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য রাজস্ব সংশ্লিষ্টতার পরিমাণ প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সিআইসির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিক ট্রেডার্স আলোচ্য চালানসহ মোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৭ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে।
 
এনবিআর জানায়, অ্যাসিটেট টো আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের নিবন্ধিত ঠিকানায় বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম না থাকার তথ্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগ থেকে পাওয়া গেছে।
 
প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইসির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান নামমাত্র নিবন্ধন নিয়ে উচ্চ রাজস্ব সংশ্লিষ্ট অ্যাসিটেট টো আমদানি করে পরবর্তীতে তা অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করে থাকতে পারে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত অ্যাসিটেট টোর প্রকৃত ব্যবহারকারী, সরবরাহের গন্তব্য, বিক্রয়, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
 
এনবিআর সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকে অ্যাসিটেট টোর সরবরাহ চেইন যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।সিআইসির এ উদ্যোগে একটি চালান থেকে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রায় ৩২৪ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
দেশকন্ঠ/এআর 

  মন্তব্য করুন
আরও সংবাদ
×

আমাদের কথা

ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী অনলাইন মিডিয়া। গতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও তথ্যানুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে অনলাইন। যতই দিন যাচ্ছে, অনলাইন মিডিয়ার সঙ্গে মানুষের সর্ম্পক তত নিবিড় হচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, সীমান্ত, স্থল-জল, আকাশপথ ছাড়িয়ে যেকোনো স্থান থেকে ‘অনলাইন মিডিয়া’ এখন আর আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, তা আর অজানা থাকছে না। বলা যায় অনলাইন নেটওয়ার্ক এক অবিচ্ছিন্ন মিডিয়া ভুবন গড়ে তুলে এগিয়ে নিচ্ছে মানব সভ্যতার জয়যাত্রাকে। আমরা সেই পথের সারথি হতে চাই। ‘দেশকণ্ঠ’ সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্বকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরির। আমাদের সংবাদের প্রধান ফোকাস পয়েন্ট সারাবিশ্বের বাঙালির যাপিত জীবনের চালচিত্র। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সংবাদও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একঝাক ঋদ্ধ মিডিয়া প্রতিনিধি যুক্ত থাকছি দেশকণ্ঠের সঙ্গে।