দেশকন্ঠ অনলাইন : বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের পদায়নকে ঘিরে দুইপক্ষের আইনজীবীদের আন্দোলনে টানা কয়েকদিন বিচারকার্য বন্ধ ছিল। এ ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনের পেছনের পাতায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে সংবাদ প্রকাশের পাঁচদিন পর অচলাবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিচারিক কাজ বর্জনের সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতি।
১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা জজ আদালতের হল রুমে আয়োজিত সাধারণ সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভা শেষে বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে আইনজীবীরা পুনরায় নিয়মিত আদালত কার্যক্রমে অংশ নেবেন। বার সমিতির সাধারণ সভায় সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রেজাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রেজাউর রহমান জানান, বিতর্কিত পদায়নের প্রতিবাদে আইনজীবীরা গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়। কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজকে প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত এক মাস সময় লাগবে। বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তির কথা ভেবে তারা কর্মসূচি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন। সরকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং জরুরি সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমরা আমাদের আদালত বর্জনের কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলাম।
তিনি বলেন, বর্জনের মূল সিদ্ধান্ত কিন্তু প্রত্যাহার হয়নি। সেটি কেবল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুরাহা না হলে সমিতি পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, আইন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি ইতিবাচক জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।
দেশকন্ঠ/এআর