দেশকন্ঠ অনলাইন : বর্ষা এলেই পানিতে থৈ থৈ করে নাটোরের চলনবিল। এ সময়টায় চলনবিল সংলগ্ন গ্রামগুলোর মানুষের যাতায়াত এবং মাছ ধরার আর বিলভ্রমণের প্রধান বাহন হয়ে ওঠে নৌকা। তাই এখন সিংড়ায় কারিগররা ব্যস্ত সময় পারছেন নতুন নৌকা তৈরি আর পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজে।সিংড়ার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কাঠ, পেরেক ও আলকাতরা নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন নৌকা তৈরির কারিগররা। উপজেলার হাতিয়ানদহ, চৌগ্রাম, তাজপুর, কলম ও বিলদহরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ছোট-বড় নৌকা তৈরির দৃশ্য।
চলনবিল এলাকার জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নৌকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও বর্ষা মৌসুমে বিল এলাকার মানুষের কাছে নৌকাই এখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন। এছাড়া বর্ষাকালে চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসেন। তাদের ভ্রমণের জন্যও নৌকার চাহিদা বাড়ছে। অনেক উদ্যোক্তা পর্যটকদের জন্য নতুন নৌকা প্রস্তুত করছেন। ফলে সিংড়ার গ্রামাঞ্চলে নৌকা তৈরির এই চিরচেনা দৃশ্য আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
সিংড়ার আনন্দনগর এলাকায় নৌকা কিনতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, “চলনবিলে পানি বাড়লেই নৌকার প্রয়োজন হয়। মাছ ধরা, জমিতে যাওয়া এবং এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় নেই। তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি।”সিংড়ার নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষা এলেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন প্রতিদিনই নতুন নৌকার অর্ডার পাচ্ছি। কাঠের দাম বেড়েছে, তারপরও মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে নৌকা বানাচ্ছেন। কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।”
কাঠমিস্ত্রি ওবায়দুল হক বলেন, “একটি মাঝারি আকারের নৌকা তৈরি করতে কয়েকদিন সময় লাগে। কাঠ, পেরেক ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও চাহিদা কমেনি বরং বর্ষা শুরু হওয়ায় কাজের চাপ দিন দিন বাড়ছে।” স্থানীয় জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “চলনবিলে মাছ ধরতে নৌকার বিকল্প নেই। বর্ষার সময় বিলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত এবং মাছ আহরণের জন্য নৌকা অপরিহার্য।”
দেশকন্ঠ/এআর